চাটমোহরে তেল-জেলি দিয়ে নকল দুধ তৈরির অভিযোগ, কারাদণ্ডসহ জরিমানা
- আপডেট সময় : ০৩:৫২:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬ ১১১ বার পড়া হয়েছে

চাটমোহরে তেল-জেলি দিয়ে নকল দুধ তৈরির অভিযোগ, কারাদণ্ডসহ জরিমানা
চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধিঃ
পাবনার চাটমোহরে ভোজ্য তেল, কস্টিক সোডা, চিনি, জেলি ও বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে কথিত নকল দুধ তৈরির অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে প্রায় ৩০০ লিটার কথিত ভেজাল দুধ ও দুধ তৈরির বিভিন্ন উপকরণ জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সুমন ঘোষ নামে এক ব্যক্তিকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে চাটমোহর পৌরসভার মধ্যশালিখা গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত সুমন ঘোষ (৪১) ওই গ্রামের অমল চন্দ্র ঘোষের ছেলে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, মধ্যশালিখা গ্রামের একটি বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে গোপনে ভেজাল দুধ তৈরির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি যাচাই করে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয় উপজেলা প্রশাসন। পরে বুধবার রাতে ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তল্লাশি করা হয়। এ সময় সেখানে প্রস্তুত করা বিপুল পরিমাণ কথিত ভেজাল দুধ পাওয়া যায়। হিসাব করে প্রায় ৩০০ লিটার দুধ জব্দ করা হয়। পাশাপাশি দুধ তৈরিতে ব্যবহৃত জেলি, ভোজ্য তেল, চিনি, কস্টিক সোডাসহ বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়।
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার হওয়া উপকরণ ও প্রস্তুতকৃত দুধের নমুনা দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিভিন্ন উপাদান মিশিয়ে কৃত্রিমভাবে দুধের মতো তরল তৈরি করা হচ্ছিল। এসব দুধ পরে বাজারে সরবরাহের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল বলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়।
অভিযান শেষে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুসা নাসের চৌধুরী। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় সুমন ঘোষকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
অভিযানে চাটমোহর পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আবুল কালাম আজাদ ও চাটমোহর থানা পুলিশের সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
স্থানীয়রা জানান, দুধের চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে অসাধু ব্যক্তিরা ভেজাল পণ্য তৈরি ও বাজারজাতের চেষ্টা করছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুসা নাসের চৌধুরী বলেন, জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনো ধরনের প্রতারণা বরদাশত করা হবে না। ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাতের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অবস্থান কঠোর। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















