ঢাকা ০১:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাণীশংকৈলে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখায় দুই প্রতিষ্ঠানকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা গোদাগাড়ীতে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের সমন্বয় সভা রাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাসহ ৫ দাবিতে রাবিতে ছাত্রশিবিরের সংবাদ সম্মেলন শেরপুরে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মুরাদ মিয়া গ্রেপ্তার লালপুরে ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপসহ আইডি হ্যাকিং চক্রের ৪ সদস্য আটক অতিথি হতে না পেরে ১৪৪ ধারা জারির মাইকিং, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার নলডাঙ্গা ও নাটোর সদরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পোস্টারিংয়ের অভিযোগ লালপুরে স্টিয়ারিং স্যালোগাড়ির ধাক্কায় অটোরিকশাচালক নিহত রাজশাহীতে মহিষের শিংয়ের আঘাতে ব্যবসায়ীর মৃত্যু রাজশাহীতে বিএসটিআইয়ের অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানকে ১৩ হাজার টাকা জরিমানা

দেবীগঞ্জে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন ও অনিয়মের অভিযোগ

মোঃ কামরুল ইসলাম কামু, বিশেষ প্রতিনিধি, পঞ্চগড়:
  • আপডেট সময় : ০২:৪২:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫ ৪৫৩ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেবীগঞ্জে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন ও অনিয়মের অভিযোগ

তথ্য অধিকার আইনের আবেদনেও দেড় মাসে তথ্য না দেওয়ার অভিযোগ; বিদ্যালয়ের আয়ের টাকা ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় এমপিওভুক্ত সুকাতু প্রধান উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মনরঞ্জন রায়ের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনসহ অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করা হলেও নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও তিনি কোনো তথ্য দেননি বলে অভিযোগ করেছেন আবেদনকারী।

জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয় মার্কেটের দোকানের সংখ্যা, দোকানভাড়া থেকে আয়, বিদ্যালয়ের মালিকানাধীন চাষযোগ্য ও পতিত জমির পরিমাণ, বিদ্যালয়ের পুকুর ও মাঠ থেকে আয়, তিন শিক্ষা বছরে ভর্তি ও ফি সংক্রান্ত তথ্যসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি চেয়ে আবেদন করা হয়।
আইন অনুযায়ী ২০ কার্যদিবসের মধ্যে তথ্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও আড়াই মাসেও তথ্য সরবরাহ করা হয়নি। বরং নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেছেন প্রধান শিক্ষক।

স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী জানান, প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিদ্যালয়ের অর্থ তছরুপ ও ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বিদ্যালয়ের আয়ের টাকা নিয়মিতভাবে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজে ব্যবহার না করে প্রধান শিক্ষক ও কিছু সহকারী শিক্ষক ব্যক্তিগত সুবিধা নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নগেন রায়, ছাদেক ও সিদ্দিক সরকারসহ স্থানীয়রা বলেন, “বিদ্যালয়ের তথ্য সব সময় হালনাগাদ থাকার কথা। এখানে যে-ই দায়িত্বে আসেন, তিনি বিদ্যালয়ের আয়ের টাকা নিজের সুবিধামতো ব্যবহার করেন। কয়েক মাস অন্তর শিক্ষকরা উপরি বোনাসও নেন।”

একজন স্থানীয় ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বিদ্যালয় থেকে যে আয়ের টাকা আসে তা কেবল বিদ্যালয়ের উন্নয়নেই ব্যয় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো সহায়তা নেই। বরং শিক্ষকরা নিয়ম করে উপরি সুবিধা নেন।”

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, অনিয়মের বিষয়ে চাপ দিলে প্রধান শিক্ষক ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তাকে ‘হয়রানি করা হচ্ছে’ বলে বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মনরঞ্জন রায় বলেন, “সভাপতি আমাকে জানিয়েছিলেন। কাল তার সঙ্গে দেখা করব।” পরে তিনি আবেদনপত্রের কপিও চান।

বিদ্যালয়ের আহবায়ক কমিটির সভাপতি আবুল হোসেন মো. তোবারক হ্যাপি বলেন, “প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি জানিয়েছি। খুব জরুরি হলে মিটিংয়ে আলোচনা করব।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দেবীগঞ্জে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন ও অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০২:৪২:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

দেবীগঞ্জে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন ও অনিয়মের অভিযোগ

তথ্য অধিকার আইনের আবেদনেও দেড় মাসে তথ্য না দেওয়ার অভিযোগ; বিদ্যালয়ের আয়ের টাকা ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় এমপিওভুক্ত সুকাতু প্রধান উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মনরঞ্জন রায়ের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনসহ অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করা হলেও নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও তিনি কোনো তথ্য দেননি বলে অভিযোগ করেছেন আবেদনকারী।

জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয় মার্কেটের দোকানের সংখ্যা, দোকানভাড়া থেকে আয়, বিদ্যালয়ের মালিকানাধীন চাষযোগ্য ও পতিত জমির পরিমাণ, বিদ্যালয়ের পুকুর ও মাঠ থেকে আয়, তিন শিক্ষা বছরে ভর্তি ও ফি সংক্রান্ত তথ্যসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি চেয়ে আবেদন করা হয়।
আইন অনুযায়ী ২০ কার্যদিবসের মধ্যে তথ্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও আড়াই মাসেও তথ্য সরবরাহ করা হয়নি। বরং নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেছেন প্রধান শিক্ষক।

স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী জানান, প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিদ্যালয়ের অর্থ তছরুপ ও ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বিদ্যালয়ের আয়ের টাকা নিয়মিতভাবে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজে ব্যবহার না করে প্রধান শিক্ষক ও কিছু সহকারী শিক্ষক ব্যক্তিগত সুবিধা নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নগেন রায়, ছাদেক ও সিদ্দিক সরকারসহ স্থানীয়রা বলেন, “বিদ্যালয়ের তথ্য সব সময় হালনাগাদ থাকার কথা। এখানে যে-ই দায়িত্বে আসেন, তিনি বিদ্যালয়ের আয়ের টাকা নিজের সুবিধামতো ব্যবহার করেন। কয়েক মাস অন্তর শিক্ষকরা উপরি বোনাসও নেন।”

একজন স্থানীয় ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বিদ্যালয় থেকে যে আয়ের টাকা আসে তা কেবল বিদ্যালয়ের উন্নয়নেই ব্যয় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো সহায়তা নেই। বরং শিক্ষকরা নিয়ম করে উপরি সুবিধা নেন।”

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, অনিয়মের বিষয়ে চাপ দিলে প্রধান শিক্ষক ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তাকে ‘হয়রানি করা হচ্ছে’ বলে বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মনরঞ্জন রায় বলেন, “সভাপতি আমাকে জানিয়েছিলেন। কাল তার সঙ্গে দেখা করব।” পরে তিনি আবেদনপত্রের কপিও চান।

বিদ্যালয়ের আহবায়ক কমিটির সভাপতি আবুল হোসেন মো. তোবারক হ্যাপি বলেন, “প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি জানিয়েছি। খুব জরুরি হলে মিটিংয়ে আলোচনা করব।”