ঢাকা ১০:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বগুড়ায় মশার কয়েল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা গোদাগাড়ীতে বাল্যবিবাহ বন্ধ, ইমাম ও বরপক্ষকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা পঞ্চগড়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত পঞ্চগড়ে ডিম ব্যবসায়ীকে জরিমানা, অন্যদের সতর্ক বনশ্রী সোসাইটির কমন ফ্যাসিলিটিজের জায়গা পুনরুদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন মান্দায় স্কুলের সামনে ভটভটির ধাক্কায় প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিহত নকলায় মাদ্রাসাছাত্রী অপহরণ মামলায় প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তার শ্রীবরদী সীমান্তে ভারতীয় কসমেটিকস ও অটোভ্যান আটক নলডাঙ্গায় মাদক সেবনের দায়ে এক ব্যক্তির কারাদণ্ড তামাক-নিকোটিন পণ্য এসডিজি অর্জনে বড় বাধা: গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা

ঝিনাইগাতীতে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ওয়ানগালা উৎসবের বর্ণিল সমাপ্তি

মোহাম্মদ দুদু মল্লিক, শেরপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৩:৫২:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫ ৫২৭ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঝিনাইগাতীতে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ওয়ানগালা উৎসবের বর্ণিল সমাপ্তি

গারোদের সবচেয়ে বড় সামাজিক–ধর্মীয় উৎসবে নৃত্য, ছড়া, প্রতিযোগিতা ও প্রার্থনায় মুখরিত মরিয়মনগর; নতুন প্রজন্মকে সংস্কৃতি ধারণে উৎসাহ প্রধান বক্তাদের

নানা আয়োজন, ধর্মীয় আবহ এবং সংস্কৃতিমণ্ডিত মিলনমেলায় বর্ণিলভাবে শেষ হয়েছে শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে গারো সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী বৃহৎ সামাজিক উৎসব ওয়ানগালা। রবিবার (২৩ নভেম্বর) সকালে মরিয়মনগর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের কার্ডিনাল বিশপ প্যাট্রিক ডি. রোজারিও সিএসসি।

সমাপনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মরিয়মনগর মিশনের পাল পুরোহিত ফাদার লরেন্স রিবেরু। তিন দিনব্যাপী উৎসবকে ঘিরে ছিল কিশোর–কিশোরীদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, মান্দি ছড়া পাঠ, ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, ‘মিস ওয়ানগালা’ প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেলা, খেলাধুলা, বাণী পাঠ, থক্কা প্রদান, পবিত্র খ্রিস্টযাগ, প্রার্থনা এবং নকগাথাসহ নানান আয়োজন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেন মরিয়মনগর ধর্মপল্লীর প্যারিস কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অনার্শন চাম্বুগং।
প্রধান অতিথি কার্ডিনাল বিশপ প্যাট্রিক ডি. রোজারিও সিএসসি বলেন—
“ওয়ানগালা শুধু একটি উৎসব নয়; এটি গারোদের কৃতজ্ঞতা, ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধনের অনন্য প্রকাশ। নতুন প্রজন্মকে নিজেদের সংস্কৃতি ধারণে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

বক্তব্যে অনার্শন চাম্বুগং বলেন, “এই উৎসব আমাদের পরিচয়, বিশ্বাস এবং ঐতিহ্যকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দেয়। শান্তি, সৌহার্দ্য ও মিলনমেলার বার্তা বহন করে ওয়ানগালা।”

উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান ও মরিয়মনগর মিশনের পাল পুরোহিত ফাদার লরেন্স রিবেরু সিএসসি জানান, ওয়ানগালা উৎসব ১৯২৫ সাল থেকে শুরু হলেও ১৯৮৫ সাল থেকে মরিয়মনগর সাধু জর্জের ধর্মপল্লীর উদ্যোগে নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হচ্ছে।
তার ভাষায়—“আমাদের লক্ষ্য গারোদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সামনে তুলে ধরা এবং নতুন প্রজন্মকে তাদের শেকড়ে পরিচিত রাখা।”

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, গারোদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই উৎসবের নাম ‘ওয়ানগালা’।
‘ওয়ানা’ অর্থ দেবদেবীর দানের উপকরণ, আর ‘গালা’ অর্থ অর্পণ করা।

collected

দেবদেবীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর অংশ হিসেবে বর্ষা শেষে ও নতুন শস্য ঘরে তোলার পরই পালন করা হয় এ উৎসব। নতুন খাদ্যশস্য ভোজনের আগে ওয়ানগালা পালন করা গারোদের ঐতিহ্য।

এটি ‘নবান্ন উৎসব’, ‘ধন্যবাদ উৎসব’ এবং ‘একশ ঢোলের উৎসব’ নামেও পরিচিত। গারোদের বিশ্বাস—মিসি সালজং, শস্য দেবতার কৃপায় হয় ভালো ফলন। তাই নতুন শস্য ভোগের আগে নৃত্য–গীতের মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

রবিবার বিকেলে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবের বর্ণিল পরিসমাপ্তি ঘটে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ঝিনাইগাতীতে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ওয়ানগালা উৎসবের বর্ণিল সমাপ্তি

আপডেট সময় : ০৩:৫২:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

ঝিনাইগাতীতে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ওয়ানগালা উৎসবের বর্ণিল সমাপ্তি

গারোদের সবচেয়ে বড় সামাজিক–ধর্মীয় উৎসবে নৃত্য, ছড়া, প্রতিযোগিতা ও প্রার্থনায় মুখরিত মরিয়মনগর; নতুন প্রজন্মকে সংস্কৃতি ধারণে উৎসাহ প্রধান বক্তাদের

নানা আয়োজন, ধর্মীয় আবহ এবং সংস্কৃতিমণ্ডিত মিলনমেলায় বর্ণিলভাবে শেষ হয়েছে শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে গারো সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী বৃহৎ সামাজিক উৎসব ওয়ানগালা। রবিবার (২৩ নভেম্বর) সকালে মরিয়মনগর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের কার্ডিনাল বিশপ প্যাট্রিক ডি. রোজারিও সিএসসি।

সমাপনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মরিয়মনগর মিশনের পাল পুরোহিত ফাদার লরেন্স রিবেরু। তিন দিনব্যাপী উৎসবকে ঘিরে ছিল কিশোর–কিশোরীদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, মান্দি ছড়া পাঠ, ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, ‘মিস ওয়ানগালা’ প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেলা, খেলাধুলা, বাণী পাঠ, থক্কা প্রদান, পবিত্র খ্রিস্টযাগ, প্রার্থনা এবং নকগাথাসহ নানান আয়োজন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেন মরিয়মনগর ধর্মপল্লীর প্যারিস কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অনার্শন চাম্বুগং।
প্রধান অতিথি কার্ডিনাল বিশপ প্যাট্রিক ডি. রোজারিও সিএসসি বলেন—
“ওয়ানগালা শুধু একটি উৎসব নয়; এটি গারোদের কৃতজ্ঞতা, ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধনের অনন্য প্রকাশ। নতুন প্রজন্মকে নিজেদের সংস্কৃতি ধারণে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

বক্তব্যে অনার্শন চাম্বুগং বলেন, “এই উৎসব আমাদের পরিচয়, বিশ্বাস এবং ঐতিহ্যকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দেয়। শান্তি, সৌহার্দ্য ও মিলনমেলার বার্তা বহন করে ওয়ানগালা।”

উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান ও মরিয়মনগর মিশনের পাল পুরোহিত ফাদার লরেন্স রিবেরু সিএসসি জানান, ওয়ানগালা উৎসব ১৯২৫ সাল থেকে শুরু হলেও ১৯৮৫ সাল থেকে মরিয়মনগর সাধু জর্জের ধর্মপল্লীর উদ্যোগে নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হচ্ছে।
তার ভাষায়—“আমাদের লক্ষ্য গারোদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সামনে তুলে ধরা এবং নতুন প্রজন্মকে তাদের শেকড়ে পরিচিত রাখা।”

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, গারোদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই উৎসবের নাম ‘ওয়ানগালা’।
‘ওয়ানা’ অর্থ দেবদেবীর দানের উপকরণ, আর ‘গালা’ অর্থ অর্পণ করা।

collected

দেবদেবীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর অংশ হিসেবে বর্ষা শেষে ও নতুন শস্য ঘরে তোলার পরই পালন করা হয় এ উৎসব। নতুন খাদ্যশস্য ভোজনের আগে ওয়ানগালা পালন করা গারোদের ঐতিহ্য।

এটি ‘নবান্ন উৎসব’, ‘ধন্যবাদ উৎসব’ এবং ‘একশ ঢোলের উৎসব’ নামেও পরিচিত। গারোদের বিশ্বাস—মিসি সালজং, শস্য দেবতার কৃপায় হয় ভালো ফলন। তাই নতুন শস্য ভোগের আগে নৃত্য–গীতের মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

রবিবার বিকেলে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবের বর্ণিল পরিসমাপ্তি ঘটে।