ঢাকা ০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শ্রীবরদীতে চেয়ারম্যান প্রার্থী বিপ্লবের বাড়িতে ৭ গরু নিয়ে অভিযান, রসিদ দেখিয়ে ছাড় বাগাতিপাড়ায় ঘুমন্ত ভ্যানচালককে সাপের দংশন, হাসপাতালে মৃত্যু গোদাগাড়ীতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল-বৃত্তি, গৃহের চাবি বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই গ্রুপের ফের হামলা, এমপি নওশাদ জমিরের দুই সমর্থক আহত পঞ্চগড়ে স্কুলছাত্রী ধ/র্ষ/ণে/র অভিযোগ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু; গ্রেপ্তার ২ দেওয়ানগঞ্জে প্রেমের সম্পর্কের জেরে কলেজছাত্রীর বিয়ের দাবি, সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ পবায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেকারি পণ্য তৈরি, জরিমানা ঢাকায় রেডমিন ইন্ডাস্ট্রিজের অ্যানুয়াল পার্টনার সামিট ‘রেডমিন হরাইজন ২০২৬’ নাটোরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান শেরপুরে পাঁচ দই কারখানাকে ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা

রাজশাহীতে আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী ‘ওয়ানগালা’ ও ‘লবান’ উৎসব উদযাপন

এম এম মামুনঃ
  • আপডেট সময় : ০১:৫২:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫ ৩২৮ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহীতে আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী ‘ওয়ানগালা’ ও ‘লবান’ উৎসব উদযাপন

জুম চাষ ও নতুন ফসল ঘিরে গারো সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী উৎসবে নাচ-গান, ধর্মীয় আচার ও সংস্কৃতি উৎসবের আমেজ

রাজশাহীতে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে আদিবাসী সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ও ঐতিহ্যবাহী ‘ওয়ানগালা’ ও ‘লবান’ (নবান্ন) উৎসব। শনিবার (৮ নভেম্বর) সকালে নগরীর বাগানপাড়ায় অবস্থিত উত্তম মেষপালক ক্যাথিড্রাল গীর্জা প্রাঙ্গণে দেবতাদের পূজার মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান যেমন ‘আমুয়া’ ও ‘রুগালা’ পালনের পর শুরু হয় বর্ণিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গারো শিল্পীরা নিজেদের মাতৃভাষায় গান পরিবেশন করেন, যা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল গারোদের ঐতিহ্যবাহী ‘জুম নাচ’, যা পুরো প্রাঙ্গণকে আনন্দে মুখর করে তোলে।

উৎসবের আলোচনা পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী ক্যাথলিক ধর্মপ্রদেশের ডিডি বিশপ জের্ভাস রোজারিও। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ একটি বহু জাতি, ভাষা ও সংস্কৃতির অসাম্প্রদায়িক দেশ। ঐতিহ্যবাহী উৎসবের মাধ্যমে জাতিগত ঐতিহ্য সংরক্ষণে আমাদের সবাইকে সক্রিয় হতে হবে।”

আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন কারিতাস বাংলাদেশের রাজশাহী আঞ্চলিক পরিচালক ড. আরোক টপ্য, রাজশাহী ক্যাথলিক ধর্মপ্রদেশের ভিকার জেনারেল ফাদার ফাবিয়ান মারান্ডা, রাজশাহী নানকিং গ্রুপের প্রোপাইটর এহসানুল হুদা, রাজশাহী পার্লার এসোসিয়েশনের সভাপতি মিসেস রুকসানা হুদা এবং গীর্জার পালকীয় পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফ্রান্সিস সরেন। বক্তারা গারো সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

গারো ভাষায় ‘ওয়ানগালা’ ও ‘লবান’ উৎসব মূলত জুম চাষের সঙ্গে সম্পর্কিত। নতুন ফসল ঘরে তোলার পর নকমা (গ্রামপ্রধান) তারিখ নির্ধারণ করে উৎসব উদযাপন করেন। রাজশাহীর গারো সম্প্রদায়ের লোকজন এক যুগেরও বেশি সময় ধরে প্রতিবছর এই উৎসব পালন করে আসছেন।

উৎসব উপলক্ষে শত শত আদিবাসী একত্রিত হয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করেন। গীর্জার মাঠজুড়ে বসে ঐতিহ্যবাহী খাবারের দোকান। সেখানে জুমের আলু, কুমড়া, শামুক, কাঁকড়া ইত্যাদি খাবার দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে।

রাজশাহী ওয়ানগালা ও লবান উৎসব উদযাপন কমিটির নকমা লোটাস চিসিম বলেন, “ওয়ানগালা ও লবান কেবল উৎসব নয়, এটি আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতি রক্ষার আন্দোলন। আমরা চাই আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম আমাদের ঐতিহ্য জানুক ও ধারণ করুক।”

উৎসবটি আদিবাসী সংস্কৃতির ঐক্য, ঐতিহ্য এবং জাতিগত বৈচিত্র্যের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে রাজশাহীর সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজশাহীতে আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী ‘ওয়ানগালা’ ও ‘লবান’ উৎসব উদযাপন

আপডেট সময় : ০১:৫২:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫

রাজশাহীতে আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী ‘ওয়ানগালা’ ও ‘লবান’ উৎসব উদযাপন

জুম চাষ ও নতুন ফসল ঘিরে গারো সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী উৎসবে নাচ-গান, ধর্মীয় আচার ও সংস্কৃতি উৎসবের আমেজ

রাজশাহীতে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে আদিবাসী সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ও ঐতিহ্যবাহী ‘ওয়ানগালা’ ও ‘লবান’ (নবান্ন) উৎসব। শনিবার (৮ নভেম্বর) সকালে নগরীর বাগানপাড়ায় অবস্থিত উত্তম মেষপালক ক্যাথিড্রাল গীর্জা প্রাঙ্গণে দেবতাদের পূজার মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান যেমন ‘আমুয়া’ ও ‘রুগালা’ পালনের পর শুরু হয় বর্ণিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গারো শিল্পীরা নিজেদের মাতৃভাষায় গান পরিবেশন করেন, যা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল গারোদের ঐতিহ্যবাহী ‘জুম নাচ’, যা পুরো প্রাঙ্গণকে আনন্দে মুখর করে তোলে।

উৎসবের আলোচনা পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী ক্যাথলিক ধর্মপ্রদেশের ডিডি বিশপ জের্ভাস রোজারিও। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ একটি বহু জাতি, ভাষা ও সংস্কৃতির অসাম্প্রদায়িক দেশ। ঐতিহ্যবাহী উৎসবের মাধ্যমে জাতিগত ঐতিহ্য সংরক্ষণে আমাদের সবাইকে সক্রিয় হতে হবে।”

আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন কারিতাস বাংলাদেশের রাজশাহী আঞ্চলিক পরিচালক ড. আরোক টপ্য, রাজশাহী ক্যাথলিক ধর্মপ্রদেশের ভিকার জেনারেল ফাদার ফাবিয়ান মারান্ডা, রাজশাহী নানকিং গ্রুপের প্রোপাইটর এহসানুল হুদা, রাজশাহী পার্লার এসোসিয়েশনের সভাপতি মিসেস রুকসানা হুদা এবং গীর্জার পালকীয় পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফ্রান্সিস সরেন। বক্তারা গারো সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

গারো ভাষায় ‘ওয়ানগালা’ ও ‘লবান’ উৎসব মূলত জুম চাষের সঙ্গে সম্পর্কিত। নতুন ফসল ঘরে তোলার পর নকমা (গ্রামপ্রধান) তারিখ নির্ধারণ করে উৎসব উদযাপন করেন। রাজশাহীর গারো সম্প্রদায়ের লোকজন এক যুগেরও বেশি সময় ধরে প্রতিবছর এই উৎসব পালন করে আসছেন।

উৎসব উপলক্ষে শত শত আদিবাসী একত্রিত হয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করেন। গীর্জার মাঠজুড়ে বসে ঐতিহ্যবাহী খাবারের দোকান। সেখানে জুমের আলু, কুমড়া, শামুক, কাঁকড়া ইত্যাদি খাবার দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে।

রাজশাহী ওয়ানগালা ও লবান উৎসব উদযাপন কমিটির নকমা লোটাস চিসিম বলেন, “ওয়ানগালা ও লবান কেবল উৎসব নয়, এটি আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতি রক্ষার আন্দোলন। আমরা চাই আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম আমাদের ঐতিহ্য জানুক ও ধারণ করুক।”

উৎসবটি আদিবাসী সংস্কৃতির ঐক্য, ঐতিহ্য এবং জাতিগত বৈচিত্র্যের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে রাজশাহীর সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।