বাইপাস সড়ক নেই পঞ্চগড় শহরে, যানজটে চরম দুর্ভোগ
- আপডেট সময় : ০৭:০১:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে

বাইপাস সড়ক নেই পঞ্চগড় শহরে, যানজটে চরম দুর্ভোগ
মো. কামরুল ইসলাম কামু, বিশেষ প্রতিনিধি, পঞ্চগড়ঃ
দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের শহরাঞ্চলে যানজট দিন দিন বাড়লেও এখনো নির্মিত হয়নি বাইপাস সড়ক। শহরের প্রবেশ ও বের হওয়ার অন্যতম প্রধান পথ করতোয়া নদীর ওপর নির্মিত একটি সেতুর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে হাজারো মানুষ ও যানবাহনকে। এতে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, পরিবহনচালক ও দূরদূরান্ত থেকে আসা যাত্রীরা।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় চার দশক আগে নির্মিত করতোয়া সেতুর ওপর দিয়ে বর্তমানে বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, পণ্য পরিবহন এবং পর্যটকদের আনাগোনার কারণে সেতু ও সংলগ্ন সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। কিন্তু বিকল্প সড়ক না থাকায় যানজট নিরসনে কার্যকর সমাধান মিলছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পঞ্চগড় শহরসংলগ্ন করতোয়া নদীর ওপর ১৯৮৭ সালের দিকে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এরপর কয়েক দশকে জেলার জনসংখ্যা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। কৃষিপণ্য, চা, নুড়িপাথর ও বালু পরিবহনের পাশাপাশি বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণকাজে যানবাহনের ব্যবহার বেড়েছে।
পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়। স্থলবন্দরকেন্দ্রিক পণ্য পরিবহন, জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে নিত্যপণ্য সরবরাহ এবং পোলট্রি খাতের সম্প্রসারণের কারণে সড়কে যানবাহনের চাপ আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ছাড়া তেঁতুলিয়ায় চা-বাগান ও কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য দেখতে সারা বছরই পর্যটকদের আনাগোনা থাকে। বিশেষ করে শীত মৌসুমে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ে। ফলে জেলার সড়ক যোগাযোগের ওপর চাপ আরও বৃদ্ধি পায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মির্জা গোলাম হাফিজ দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণের পাশাপাশি বাইপাস সড়ক তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন মহল থেকে সেতু ও বাইপাস নির্মাণের দাবি উঠলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজটের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বিকল্প সড়ক নির্মাণে দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। সেতু ও সংলগ্ন সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ থাকায় যান চলাচলে ভোগান্তি আরও বাড়ছে বলেও তারা জানান।
শহরের প্রবেশ ও বের হওয়ার প্রধান পথ হিসেবে করতোয়া সেতুর ওপর নির্ভরশীলতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন চালক ও ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, কোনো কারণে সেতু বা এর সামনের সড়কে অবরোধ কিংবা যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে শহরে প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগ তৈরি হয়। জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সও যানজটে আটকে পড়তে পারে।
অটোরিকশাচালক নুর ইসলাম বলেন, একটি মাত্র সেতু দিয়ে এখন এত যানবাহন চলাচল করে যে প্রায়ই যানজট থাকে। রাজনৈতিক বা অন্য কোনো কারণে সেতুর সামনে অবরোধ হলে বিকল্প পথে চলাচলের সুযোগ থাকে না। অ্যাম্বুলেন্সও আটকে পড়ে। জীবিকার তাগিদে অটোরিকশা চালাই, কিন্তু এই ভোগান্তি আমাদের প্রতিদিনের সঙ্গী।
আব্দুস সামাদ বলেন, একটি সেতু দিয়ে বর্তমান সময়ের এত মানুষের চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। চার বছর আগে নতুন সেতু নির্মাণের অনুমোদনের কথা শুনলেও এখনো কাজ শুরু হতে দেখেননি বলে দাবি করেন তিনি।
রফিকুল ইসলাম বলেন, অনেক এমপি-মন্ত্রী এসেছেন, গেছেন; কিন্তু আমাদের সেই একটি সেতুই রয়ে গেছে। সেতুর বিভিন্ন জায়গায় খানাখন্দ হয়, মেরামত করা হয়, আবার নষ্ট হয়। আমরা কেন এত অবহেলিত থাকব?
ব্যবসায়ী শামীম হোসেন বলেন, প্রায় চার দশক আগে যে সেতু দেখেছেন, সেটিই এখনো শহরের প্রধান যোগাযোগপথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। জেলার ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়লেও বিকল্প সড়ক না থাকায় ভোগান্তি কমছে না।
পঞ্চগড় সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন বলেন, তিনি সম্প্রতি এ জেলায় যোগ দিয়েছেন। আগামী পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যে সদর উপজেলার মীরগড় এলাকায় করতোয়া নদীর ওপর দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্বিতীয় করতোয়া সেতু ও বাইপাস সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়িত হলে পঞ্চগড় শহরের যানজট কমবে, পণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং জরুরি সেবার যানবাহন চলাচলেও স্বস্তি ফিরবে।


























