ঢাকা ০১:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাণীশংকৈলে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখায় দুই প্রতিষ্ঠানকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা গোদাগাড়ীতে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের সমন্বয় সভা রাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাসহ ৫ দাবিতে রাবিতে ছাত্রশিবিরের সংবাদ সম্মেলন শেরপুরে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মুরাদ মিয়া গ্রেপ্তার লালপুরে ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপসহ আইডি হ্যাকিং চক্রের ৪ সদস্য আটক অতিথি হতে না পেরে ১৪৪ ধারা জারির মাইকিং, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার নলডাঙ্গা ও নাটোর সদরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পোস্টারিংয়ের অভিযোগ লালপুরে স্টিয়ারিং স্যালোগাড়ির ধাক্কায় অটোরিকশাচালক নিহত রাজশাহীতে মহিষের শিংয়ের আঘাতে ব্যবসায়ীর মৃত্যু রাজশাহীতে বিএসটিআইয়ের অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানকে ১৩ হাজার টাকা জরিমানা

জগদল উচ্চ বিদ্যালয়ে কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য: একই পদে একাধিক নিয়োগ, শোকজের জবাবে অসন্তোষ জেলা শিক্ষা অফিসারের

 মোঃ কামরুল ইসলাম কামু বিশেষ প্রতিনিধি পঞ্চগড়:
  • আপডেট সময় : ০২:৫১:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫ ৮০৪ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জগদল উচ্চ বিদ্যালয়ে কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য: একই পদে একাধিক নিয়োগ, শোকজের জবাবে অসন্তোষ জেলা শিক্ষা অফিসারের

পঞ্চগড় সদর উপজেলার জগদল উচ্চ বিদ্যালয়ে একই পদে একাধিক নিয়োগ, অবৈধ নিয়োগপত্রে স্বাক্ষর ও কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জেলা শিক্ষা অফিসার প্রধান শিক্ষক ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে শোকজ করেছেন। তবে দেওয়া জবাবে সন্তুষ্ট নন তিনি।

বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন কর্মরত আয়া মোছা. ফরিদা বানু এবং এমএলএসএস (পিয়ন) মো. জুলফিকার রহমান পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগে জানান, তাঁরা যথাক্রমে ২০১৩ সালে সংশোধিত জনবল কাঠামো অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত। অথচ ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে একই পদে নতুন করে নিয়োগপত্র দেওয়া হয় যথাক্রমে মোছা. শাওরিন আক্তার ও মো. উজ্জল হোসেনকে।

অভিযোগকারীরা দাবি করেন, ওই দুইটি পদে গোপনে প্রায় ৩০ লাখ টাকা উৎকোচ নেওয়া হয়। এসব নিয়োগে তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, যিনি স্থানীয় এক সাবেক সাংসদের ভাই, মূল ভূমিকা পালন করেন। অভিযোগ ওঠার পর থেকেই তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

এছাড়া অভিযোগে আরও বলা হয়, তৎকালীন প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি মিলে অবৈধভাবে আরও চারটি পদে নিয়োগ দিয়েছেন, যেখানে পূর্বে কর্মরত ব্যক্তিদের পুনরায় নিয়োগ দেখিয়ে প্রায় ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এসব নিয়োগে সহকারী শিক্ষক গোলাম মোস্তফা নিজেকে প্রধান শিক্ষক পরিচয়ে যুক্ত করেন এবং সভাপতির সঙ্গে স্বাক্ষর করেন।

বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. আব্দুল আলিম বলেন, “তৎকালীন সভাপতি এককভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিয়োগ দিয়েছেন। বর্তমান কমিটির কোনো এখতিয়ার বা সম্পৃক্ততা নেই।”

বর্তমান প্রধান শিক্ষক মো. আনিছুর রহমান বলেন, “এসব নিয়োগের সময় আমি প্রধান শিক্ষক ছিলাম না। তবে নতুন নিয়োগের আগে আগের নিয়োগগুলোর বিষয়টি সমন্বয় করা উচিত ছিল।”

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার খায়রুল আনম মো. আবতাবুর রহমান হেলালী বলেন, “আমি প্রধান শিক্ষক ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে মৌখিকভাবে শোকজ করে সাত দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলেছিলাম। তবে তারা যে জবাব দিয়েছেন তা সন্তোষজনক নয়। তাই তাদের জবাব ফেরত দেওয়া হয়েছে, এবং এবার অফিসিয়ালি লিখিত শোকজ করা হবে।”

স্থানীয়রা বলছেন, এই নিয়োগ কেলেঙ্কারির মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জগদল উচ্চ বিদ্যালয়ে কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য: একই পদে একাধিক নিয়োগ, শোকজের জবাবে অসন্তোষ জেলা শিক্ষা অফিসারের

আপডেট সময় : ০২:৫১:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

জগদল উচ্চ বিদ্যালয়ে কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য: একই পদে একাধিক নিয়োগ, শোকজের জবাবে অসন্তোষ জেলা শিক্ষা অফিসারের

পঞ্চগড় সদর উপজেলার জগদল উচ্চ বিদ্যালয়ে একই পদে একাধিক নিয়োগ, অবৈধ নিয়োগপত্রে স্বাক্ষর ও কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জেলা শিক্ষা অফিসার প্রধান শিক্ষক ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে শোকজ করেছেন। তবে দেওয়া জবাবে সন্তুষ্ট নন তিনি।

বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন কর্মরত আয়া মোছা. ফরিদা বানু এবং এমএলএসএস (পিয়ন) মো. জুলফিকার রহমান পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগে জানান, তাঁরা যথাক্রমে ২০১৩ সালে সংশোধিত জনবল কাঠামো অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত। অথচ ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে একই পদে নতুন করে নিয়োগপত্র দেওয়া হয় যথাক্রমে মোছা. শাওরিন আক্তার ও মো. উজ্জল হোসেনকে।

অভিযোগকারীরা দাবি করেন, ওই দুইটি পদে গোপনে প্রায় ৩০ লাখ টাকা উৎকোচ নেওয়া হয়। এসব নিয়োগে তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, যিনি স্থানীয় এক সাবেক সাংসদের ভাই, মূল ভূমিকা পালন করেন। অভিযোগ ওঠার পর থেকেই তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

এছাড়া অভিযোগে আরও বলা হয়, তৎকালীন প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি মিলে অবৈধভাবে আরও চারটি পদে নিয়োগ দিয়েছেন, যেখানে পূর্বে কর্মরত ব্যক্তিদের পুনরায় নিয়োগ দেখিয়ে প্রায় ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এসব নিয়োগে সহকারী শিক্ষক গোলাম মোস্তফা নিজেকে প্রধান শিক্ষক পরিচয়ে যুক্ত করেন এবং সভাপতির সঙ্গে স্বাক্ষর করেন।

বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. আব্দুল আলিম বলেন, “তৎকালীন সভাপতি এককভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিয়োগ দিয়েছেন। বর্তমান কমিটির কোনো এখতিয়ার বা সম্পৃক্ততা নেই।”

বর্তমান প্রধান শিক্ষক মো. আনিছুর রহমান বলেন, “এসব নিয়োগের সময় আমি প্রধান শিক্ষক ছিলাম না। তবে নতুন নিয়োগের আগে আগের নিয়োগগুলোর বিষয়টি সমন্বয় করা উচিত ছিল।”

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার খায়রুল আনম মো. আবতাবুর রহমান হেলালী বলেন, “আমি প্রধান শিক্ষক ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে মৌখিকভাবে শোকজ করে সাত দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলেছিলাম। তবে তারা যে জবাব দিয়েছেন তা সন্তোষজনক নয়। তাই তাদের জবাব ফেরত দেওয়া হয়েছে, এবং এবার অফিসিয়ালি লিখিত শোকজ করা হবে।”

স্থানীয়রা বলছেন, এই নিয়োগ কেলেঙ্কারির মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তারা।