ঢাকা ১০:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শেরপুরে ১৪ কোটি টাকার সার কালোবাজারির মামলায় ১০ ডিলারসহ ১৫ জন কারাগারে সাপাহারে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি নিয়ে পূজা উদযাপন ফ্রন্টের মতবিনিময় পঞ্চগড়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার লালপুরে মাদক ও সাইবার প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৬; ১০৬ পিস ইয়াবা, ৬৮ সিম ও ৯ মোবাইল উদ্ধার শিবগঞ্জে ৩৪ বোতল ফেয়ারডিল সিরাপসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার বাগাতিপাড়ায় টানা দ্বিতীয়বারের মতো গুণী প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত স্বপ্না রানী নলডাঙ্গায় হ/ত্যাচেষ্টার অভিযোগে দুই যুবক গ্রেপ্তার, চাপাতি উদ্ধার নলডাঙ্গায় হালতি বিলের অভয়াশ্রমে মাছ শিকার, ২৬ জনকে জরিমানা শাজাহানপুরে মুড়ি কারখানায় ৭০ হাজার টাকা জরিমানা, ধ্বংস ১০০ কেজি শিল্প লবণ রাআইকন ২০২৬-এর এইচটিএ প্রদর্শনীতে চ্যাম্পিয়ন বাউয়েটের টিম রেজিলিক্স

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে চাকরি করে বিপুল সম্পদের মালিক জাহিদ

মোঃ কামরুল ইসলাম কামু, বিশেষ প্রতিনিধি পঞ্চগড়ঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:০০:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৬৯৭ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে চাকরি করে বিপুল সম্পদের মালিক জাহিদ

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকা জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম জাহিদ চাকুরি করেই গড়েছেন অঢেল সম্পদ। গ্রামে টিনশেড বাড়ি, পঞ্চগড় পৌরশহরের রওশনাবাগ ভুতের ডাঙ্গা এলাকায় জমি ক্রয় করে বাড়ি, রংপুর শহরে জমি কিনে ১০ তলা ফাউন্ডেশনের ফ্লাট বাড়ি, কিনেছেন গাড়ী, গ্রামে বিঘা বিঘা জমি। ব্যাংকে জমিয়েছেন মোটা অঙ্কের টাকা।দুই ছেলেকে পড়ালেখা করাচ্ছেন বুয়েট ও ঠঝয়েটে।সামান্য চাকুরি করেই কিভাবে এত সম্পদ গড়েছেন।তার অবৈধ এ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে দুদকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, মো. জাহিদুল ইসলাম নামের এ কর্মকর্তা পঞ্চগড় সদর উপজেলা চাকলাহাট ইউনিয়নের মালিরডাঙ্গা এলাকার মৃত সামসুল হকের ছেলে। তারা পাঁচ ভাই, তিন বোন। তার বাবা টুনিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের বিনা বেতনের শিক্ষক ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন।

কয়েক বিঘা জমি ছিল সামসুল হকের। বলায় যায় নুন আনতে পানতা ফুরাতো সামসুল হকের। প্রায় ১৮ বছর আগে জাহিদুল এইচ এসসি পাশ করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কনস্টেবল পদে নিয়োগ পায়। পর্যায়ক্রমে পদন্নোতি পেয়ে হয়েছেন পরিদর্শক। আছেন ঢাকা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসে। তবে চাকুরি জীবনের বেশিরভাগ সময় কেটেছে তার রংপুরে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, তার গ্রামের বাড়ি চাকলাহাট মালিরডাঙ্গা এলাকায়। সেখানে টিনশেডের বাড়ি,আরাজি বেরুবাড়ি,কাজলদিঘী ও কাজলদিঘী পুরানিগ্রাম মৌজা সহ কয়েকটি মৌজায় ৫০-৬০ বিঘা জমি ক্রয় করেছেন। পঞ্চগড় পৌরশহরের রওশনাবাগ ভুতের ডাঙ্গায় ৮ শতক জমি ক্রয় করে গড়েছেন কোটি টাকা দামের বাড়ি। রংপুর মহানগর সর্দারপাড়া রোড, হাজী পাড়া মোড়ে পাঁচ শতক জমি ক্রয় করে ১০ তলা ফাউন্ডেশনের চার ও পাঁচ তলার কাজ চলমান। সেখানকার স্থানীয় আব্দুল মতিন বলেন, জমির দাম এখানে প্রতি শতক ৩০ লাখ টাকা। সে হিসেবে ৫ শতক জমির দাম দেড় কোটি, সাথে বাড়ি নির্মাণ খরচ প্রায় আরো এক কোটি টাকা। জাহিদুল ১৭ তম গ্রেড দিয়ে চাকুরি শুরু করে বর্তমানে পদোন্নতি পেয়ে পর্যায়ক্রমে ৯ ম গ্রেডের বেতন পান। সে হিসেবে তার ১৮ বছরে বেতন পায় ৫০-৬৫ লাখ টাকা। সেখান থেকে তার পাঁচ সদস্যের পরিবার, বাবা-মা সাথে সন্তাদির লেখাপড়ার খরচ, চালিয়ে কিভাবে এতো টাকার সম্পত্তি করেন ভাবনা স্থানীয়দের।

চাকলা হাট এলাকার স্থানীয় মোজাম্মেল হক বলেন, এলাকায় কেউ জমি বিক্রি করতে চাইলে। বাজার দরের চাইতে বেশি দামে জাহিদুল ক্রয় করেন। অন্য কারো নেওয়ার কোন সুযোগ নাই। কিভাবে এতাে অর্থের মালিক হলেন তিনি। চাকলার হাট মালির ডাঙ্গা এলাকায় জমি ১২/১৫ লাখ টাকা বিঘা কিন্তু মাদকদ্রব্যের এই কর্মকর্তা ওই এলাকার জমির দাম ২০ লাখে পৌঁছে দিয়েছে।

অভিযুক্ত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকা জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, এর কাছে মুঠোফোনে সংবাদকর্মীর পরিচয় দিয়ে, অঢেল সম্পত্তির বিষয়টি জানতে চাইলে কলটি কেটে দেন তিনি। পরে বার বার ফোন দিয়েও আর ধরেননি।

বিষয়টি সম্পর্কে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকা জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক উর্মি দে’র কাছে কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জাহিদের বিষয়ে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করলেও তিনি তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, অঢেল সম্পত্তির বিষয়টি তার ব্যক্তিগত বিষয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে চাকরি করে বিপুল সম্পদের মালিক জাহিদ

আপডেট সময় : ০৪:০০:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে চাকরি করে বিপুল সম্পদের মালিক জাহিদ

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকা জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম জাহিদ চাকুরি করেই গড়েছেন অঢেল সম্পদ। গ্রামে টিনশেড বাড়ি, পঞ্চগড় পৌরশহরের রওশনাবাগ ভুতের ডাঙ্গা এলাকায় জমি ক্রয় করে বাড়ি, রংপুর শহরে জমি কিনে ১০ তলা ফাউন্ডেশনের ফ্লাট বাড়ি, কিনেছেন গাড়ী, গ্রামে বিঘা বিঘা জমি। ব্যাংকে জমিয়েছেন মোটা অঙ্কের টাকা।দুই ছেলেকে পড়ালেখা করাচ্ছেন বুয়েট ও ঠঝয়েটে।সামান্য চাকুরি করেই কিভাবে এত সম্পদ গড়েছেন।তার অবৈধ এ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে দুদকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, মো. জাহিদুল ইসলাম নামের এ কর্মকর্তা পঞ্চগড় সদর উপজেলা চাকলাহাট ইউনিয়নের মালিরডাঙ্গা এলাকার মৃত সামসুল হকের ছেলে। তারা পাঁচ ভাই, তিন বোন। তার বাবা টুনিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের বিনা বেতনের শিক্ষক ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন।

কয়েক বিঘা জমি ছিল সামসুল হকের। বলায় যায় নুন আনতে পানতা ফুরাতো সামসুল হকের। প্রায় ১৮ বছর আগে জাহিদুল এইচ এসসি পাশ করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কনস্টেবল পদে নিয়োগ পায়। পর্যায়ক্রমে পদন্নোতি পেয়ে হয়েছেন পরিদর্শক। আছেন ঢাকা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসে। তবে চাকুরি জীবনের বেশিরভাগ সময় কেটেছে তার রংপুরে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, তার গ্রামের বাড়ি চাকলাহাট মালিরডাঙ্গা এলাকায়। সেখানে টিনশেডের বাড়ি,আরাজি বেরুবাড়ি,কাজলদিঘী ও কাজলদিঘী পুরানিগ্রাম মৌজা সহ কয়েকটি মৌজায় ৫০-৬০ বিঘা জমি ক্রয় করেছেন। পঞ্চগড় পৌরশহরের রওশনাবাগ ভুতের ডাঙ্গায় ৮ শতক জমি ক্রয় করে গড়েছেন কোটি টাকা দামের বাড়ি। রংপুর মহানগর সর্দারপাড়া রোড, হাজী পাড়া মোড়ে পাঁচ শতক জমি ক্রয় করে ১০ তলা ফাউন্ডেশনের চার ও পাঁচ তলার কাজ চলমান। সেখানকার স্থানীয় আব্দুল মতিন বলেন, জমির দাম এখানে প্রতি শতক ৩০ লাখ টাকা। সে হিসেবে ৫ শতক জমির দাম দেড় কোটি, সাথে বাড়ি নির্মাণ খরচ প্রায় আরো এক কোটি টাকা। জাহিদুল ১৭ তম গ্রেড দিয়ে চাকুরি শুরু করে বর্তমানে পদোন্নতি পেয়ে পর্যায়ক্রমে ৯ ম গ্রেডের বেতন পান। সে হিসেবে তার ১৮ বছরে বেতন পায় ৫০-৬৫ লাখ টাকা। সেখান থেকে তার পাঁচ সদস্যের পরিবার, বাবা-মা সাথে সন্তাদির লেখাপড়ার খরচ, চালিয়ে কিভাবে এতো টাকার সম্পত্তি করেন ভাবনা স্থানীয়দের।

চাকলা হাট এলাকার স্থানীয় মোজাম্মেল হক বলেন, এলাকায় কেউ জমি বিক্রি করতে চাইলে। বাজার দরের চাইতে বেশি দামে জাহিদুল ক্রয় করেন। অন্য কারো নেওয়ার কোন সুযোগ নাই। কিভাবে এতাে অর্থের মালিক হলেন তিনি। চাকলার হাট মালির ডাঙ্গা এলাকায় জমি ১২/১৫ লাখ টাকা বিঘা কিন্তু মাদকদ্রব্যের এই কর্মকর্তা ওই এলাকার জমির দাম ২০ লাখে পৌঁছে দিয়েছে।

অভিযুক্ত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকা জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, এর কাছে মুঠোফোনে সংবাদকর্মীর পরিচয় দিয়ে, অঢেল সম্পত্তির বিষয়টি জানতে চাইলে কলটি কেটে দেন তিনি। পরে বার বার ফোন দিয়েও আর ধরেননি।

বিষয়টি সম্পর্কে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকা জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক উর্মি দে’র কাছে কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জাহিদের বিষয়ে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করলেও তিনি তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, অঢেল সম্পত্তির বিষয়টি তার ব্যক্তিগত বিষয়।