ঢাকা ১০:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
লালপুরে বিয়ের অনুষ্ঠানে পরিবার, নিজ বাড়ি থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার রাণীশংকৈলে নারীসহ দুইজনকে মাদক মামলায় কারাদণ্ড উন্নয়ন প্রশ্নে কারও রক্তচক্ষুকে ভয় করি না- লালপুরে নারী এমপি তুলি তেঁতুলিয়ায় সেতুর দাবিতে মানববন্ধন, দুর্ভোগে ৫ গ্রামের ১৫ হাজার কৃষক পুঠিয়ায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারী নারি নিহত, দুই কিশোর আহত লালপুরে ১১ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ জয় আটক নলডাঙ্গায় গাঁজার গাছসহ এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার, পলাতক ভাই ঝিনাইগাতীতে ৪৯০ ট্যাপেন্টাডল ও দুই মোবাইল ফোন জব্দ লালপুরে ২০ ইয়াবাসহ যুবক আটক, আগেও মাদক মামলায় অভিযুক্ত নারী কণ্ঠে প্রতারণা, পরে প্রবাসীর বন্ধু সেজে টাকা দাবি; লালপুরে আটক ৩

পবায় ঋণের দায়ে দুই সন্তানসহ স্ত্রীকে হ ত্যার পর স্বামীর আ ত্মহ-ত্যা

এম এম মামুনঃ
  • আপডেট সময় : ১২:৩৬:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৫ ৬৫৬ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পবায় ঋণের দায়ে দুই সন্তানসহ স্ত্রীকে হ ত্যার পর স্বামীর আ ত্মহ-ত্যা

রাজশাহীর পবায় অভাবের তাড়নায় এবং ঋণের দায়ে দুই সন্তানসহ স্ত্রীকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন স্বামী মিনারুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের বামুনশিকড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (১৫ আগস্ট) সকালে পবার বামুনশিকড় এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে মতিহার থানা পুলিশ। এসময় ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ওই ঘটনার একটি চিরকুট উদ্ধার করে।

সেই চিরকুটে লেখা আছে, “আমি নিজ হাতে সবাকে মারলাম. এই কারণে যে আমি একা জদি মরে যাই- তাহলে, আমার বো ছেলে মেয়ে কার আশায় বেচে থাকবে। কষ্ট আর দুঃখ ছাড়া কিছুই পাবে না। আমারা মরে গেলাম রেনের দায়ে আর খাওয়ার অভাবে। এত কষ্ট আর মেনে নিতে পারছিনা। তাই আমাদের বেচে থাকার চেয়ে মরে গেলাম সেই ভাল হলো। কারও কাছে কিছু চাই হবো। আমার জন্নে কাওকে মানুসের কাছে ছোট হতে হবে আমার বাবা আমার জন্য অনেক লোকের ছোট হয়েছে আর হতে হবেনা।
চিরদিনের জন্য চলে গেলাম।
আমি চাই সবাই ভাল থাকবেন।
ধন্যবাদ”

থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পবার বামুনশিকড় এলাকার রুস্তম আলীর ৩৫ বছরের ছেলে মিনারুল ইসলাম তার স্ত্রী ২৮ বছরের সাধিনা বেগম, ১৩ বছর বয়সী ছেলে মাহিম এবং ১৮ মাসের শিশু কন্যা মিথিলকে গামছা দিয়ে বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যার পর ওই গামছা দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগিয়ে সে আত্মহত্যা করে। নিহত মাহিম স্থানীয় খড়খড়ি উচ্চ বিদয়ালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত।

নিহতের শ্বশুর আবদুল মালেক বলেন, মনিরুল ইসলাম কৃষি কাজ করত। জানা মতে তার ঋণ ছিল। তারা মাটির ঘরে বসবাস করত।

রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার আবু সুফিয়ান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা জানতে পেরেছি মিনারুল তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে গামছা দিয়ে বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর তিনি নিজেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। ঘটনার পর পুলিশ সেখানে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, মানসিক হতাশাগ্রস্থ ও ঋণের জন্য এই ঘটনা ঘটতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পবায় ঋণের দায়ে দুই সন্তানসহ স্ত্রীকে হ ত্যার পর স্বামীর আ ত্মহ-ত্যা

আপডেট সময় : ১২:৩৬:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৫

পবায় ঋণের দায়ে দুই সন্তানসহ স্ত্রীকে হ ত্যার পর স্বামীর আ ত্মহ-ত্যা

রাজশাহীর পবায় অভাবের তাড়নায় এবং ঋণের দায়ে দুই সন্তানসহ স্ত্রীকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন স্বামী মিনারুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের বামুনশিকড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (১৫ আগস্ট) সকালে পবার বামুনশিকড় এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে মতিহার থানা পুলিশ। এসময় ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ওই ঘটনার একটি চিরকুট উদ্ধার করে।

সেই চিরকুটে লেখা আছে, “আমি নিজ হাতে সবাকে মারলাম. এই কারণে যে আমি একা জদি মরে যাই- তাহলে, আমার বো ছেলে মেয়ে কার আশায় বেচে থাকবে। কষ্ট আর দুঃখ ছাড়া কিছুই পাবে না। আমারা মরে গেলাম রেনের দায়ে আর খাওয়ার অভাবে। এত কষ্ট আর মেনে নিতে পারছিনা। তাই আমাদের বেচে থাকার চেয়ে মরে গেলাম সেই ভাল হলো। কারও কাছে কিছু চাই হবো। আমার জন্নে কাওকে মানুসের কাছে ছোট হতে হবে আমার বাবা আমার জন্য অনেক লোকের ছোট হয়েছে আর হতে হবেনা।
চিরদিনের জন্য চলে গেলাম।
আমি চাই সবাই ভাল থাকবেন।
ধন্যবাদ”

থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পবার বামুনশিকড় এলাকার রুস্তম আলীর ৩৫ বছরের ছেলে মিনারুল ইসলাম তার স্ত্রী ২৮ বছরের সাধিনা বেগম, ১৩ বছর বয়সী ছেলে মাহিম এবং ১৮ মাসের শিশু কন্যা মিথিলকে গামছা দিয়ে বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যার পর ওই গামছা দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগিয়ে সে আত্মহত্যা করে। নিহত মাহিম স্থানীয় খড়খড়ি উচ্চ বিদয়ালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত।

নিহতের শ্বশুর আবদুল মালেক বলেন, মনিরুল ইসলাম কৃষি কাজ করত। জানা মতে তার ঋণ ছিল। তারা মাটির ঘরে বসবাস করত।

রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার আবু সুফিয়ান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা জানতে পেরেছি মিনারুল তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে গামছা দিয়ে বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর তিনি নিজেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। ঘটনার পর পুলিশ সেখানে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, মানসিক হতাশাগ্রস্থ ও ঋণের জন্য এই ঘটনা ঘটতে পারে।