ঢাকা ০৬:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শ্রীবরদীতে চেয়ারম্যান প্রার্থী বিপ্লবের বাড়িতে ৭ গরু নিয়ে অভিযান, রসিদ দেখিয়ে ছাড় বাগাতিপাড়ায় ঘুমন্ত ভ্যানচালককে সাপের দংশন, হাসপাতালে মৃত্যু গোদাগাড়ীতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল-বৃত্তি, গৃহের চাবি বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই গ্রুপের ফের হামলা, এমপি নওশাদ জমিরের দুই সমর্থক আহত পঞ্চগড়ে স্কুলছাত্রী ধ/র্ষ/ণে/র অভিযোগ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু; গ্রেপ্তার ২ দেওয়ানগঞ্জে প্রেমের সম্পর্কের জেরে কলেজছাত্রীর বিয়ের দাবি, সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ পবায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেকারি পণ্য তৈরি, জরিমানা ঢাকায় রেডমিন ইন্ডাস্ট্রিজের অ্যানুয়াল পার্টনার সামিট ‘রেডমিন হরাইজন ২০২৬’ নাটোরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান শেরপুরে পাঁচ দই কারখানাকে ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা

বালুর চাহিদার সাথে পঞ্চগড়ে বালি মহালে নানা অনিয়ম,চলছে সিন্ডিকেটের দাপট

মোঃ কামরুল ইসলাম কামু, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ০২:২৬:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫ ৪৪২ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বালুর চাহিদার সাথে পঞ্চগড়ে বালি মহালে নানা অনিয়ম,চলছে সিন্ডিকেটের দাপট

প্রকৃতিতে বিশাল বালুর বহর বিস্তৃত হয়ে আছে পঞ্চগড়ে। বিশেষ করে করতোয়া নদীর বালু এখন দেশের সর্ব উৎকৃষ্ট বালু। যা এক সময় ভূমিতে পড়ে থাকতো। এখন আধুনিকতার বৈচিত্রে এই বালুর চাহিদা দেশজুড়ে। এই বালু শিল্পে জড়িয়ে আছে ২০ থেকে ৩০ হাজার মানুষের জীবিকা। দেশের মোটা বালুর চাহিদার বড় অংশই যাচ্ছে পঞ্চগড় থেকে। তাই বালুমহাল ও ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের রাজত্ব চলে ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে।এবার জেলার ১৫টি বালুমহালের মধ্যে দু-একটি বাদে সবই ইজারা পেয়েছেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা। বিভিন্ন নামে কয়েকটি বালুমহাল ইজারা নিয়েছে জেলা পাথর-বালি যৌথ ফেডারেশন। এবার ১৫টি বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়েছে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকায়।

পঞ্চগড়ের করতোয়া নদীতে ১৩টি এবং চাওয়াই ও তালমা নদীতে একটি করে বালুমহাল হয়েছে।দৈনিক ৩০০ থেকে ৩৫০টি ট্রাকে বালু পাঠানো হয় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। ধরন অনুযায়ী এক হাজার ঘনফুট বালুর দাম ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা। কিন্তু এই এক হাজার ঘনফুট বালু ঢাকায় পরিবহনে খরচ পড়ছে ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকা। চালকদের দাবি, সড়কে চাঁদাবাজি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।গাড়ি লোড থেকে শুরু করে শ্রমিকদের বকশিশসহ মজুরি, জেলায় জেলায় চাঁদাবাজি, যমুনার আগে লোডের অতিরিক্ত মাল অন্য গাড়িতে পারাপার ও তেল খরচ মিলিয়ে পরিবহন খরচ বেড়ে যাচ্ছে বহুগুণ।

পঞ্চগড়ের নদীগুলো বছরে অন্তত ১৫ কোটি ঘনফুট বালু জোগান দিচ্ছে দেশের নির্মাণ শিল্পে। এ বছর জেলার বালুমহাল থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় আট কোটি ৩২ লাখ টাকা।

মীরগড় এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এলাকার মানুষ বালুর ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। এখানে দেশের মধ্যে সেরা বালু পাওয়া যায়।১০ চাকার এক ট্রাক বালুর দাম মাত্র ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। কিন্তু এই এক ট্রাক বালু ঢাকায় পৌঁছতে খরচ হয় ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকা।’

গাড়িচালক মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আগের তুলনায় এখন সড়কে চাঁদাবাজি আরো বেড়ে গেছে। পুলিশ থেকে শুরু করে পথে প্রত্যেক জেলায় জেলায় চাঁদা দিতে হয়। ১০০, ২০০, ৫০০—যে যেমন পারে চাঁদা নেয়। ওভারলোড গাড়ির বালু যমুনার আগে অন্য ট্রাকে পারাপার করতে হয়। সেখানে আরো ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়। এভাবে পরিবহন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।’

গণসংহতি আন্দোলন পঞ্চগড়ের আহ্বায়ক সাজেদুর রহমান সাজু বলেন, ‘দেখা যাচ্ছে যারা প্রভাবশালী, কেবল তারাই ইজারা পাচ্ছে। এই সিস্টেম পরিবর্তন করতে হবে।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন পঞ্চগড়ের সভাপতি এ কে এম আনোয়ারুল খায়ের বলেন, ‘নির্ধারিত স্থানের বাইরে যেন কেউ বালু উত্তোলন করতে না পারে, তার জন্য প্রশাসনকে আরো কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’

জেলা পাথর-বালি যৌথ ফেডারেশনের সভাপতি বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘নিয়ম মেনেই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। কেউ বোমা মেশিন ব্যবহার করছে না। ৮০০ থেকে ১১০০ টাকা ট্রাকপ্রতি বালুমহালের ফি নেওয়া হয়।’

জেলা প্রশাসক সাবেত আলী বলেন, ‘বালুশিল্প জেলার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে যারা নির্ধারিত জায়গার বাইরে বালু উত্তোলন করছে এবং অবৈধ বোমা মেশিন ব্যবহার করছে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছি।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বালুর চাহিদার সাথে পঞ্চগড়ে বালি মহালে নানা অনিয়ম,চলছে সিন্ডিকেটের দাপট

আপডেট সময় : ০২:২৬:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫

বালুর চাহিদার সাথে পঞ্চগড়ে বালি মহালে নানা অনিয়ম,চলছে সিন্ডিকেটের দাপট

প্রকৃতিতে বিশাল বালুর বহর বিস্তৃত হয়ে আছে পঞ্চগড়ে। বিশেষ করে করতোয়া নদীর বালু এখন দেশের সর্ব উৎকৃষ্ট বালু। যা এক সময় ভূমিতে পড়ে থাকতো। এখন আধুনিকতার বৈচিত্রে এই বালুর চাহিদা দেশজুড়ে। এই বালু শিল্পে জড়িয়ে আছে ২০ থেকে ৩০ হাজার মানুষের জীবিকা। দেশের মোটা বালুর চাহিদার বড় অংশই যাচ্ছে পঞ্চগড় থেকে। তাই বালুমহাল ও ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের রাজত্ব চলে ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে।এবার জেলার ১৫টি বালুমহালের মধ্যে দু-একটি বাদে সবই ইজারা পেয়েছেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা। বিভিন্ন নামে কয়েকটি বালুমহাল ইজারা নিয়েছে জেলা পাথর-বালি যৌথ ফেডারেশন। এবার ১৫টি বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়েছে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকায়।

পঞ্চগড়ের করতোয়া নদীতে ১৩টি এবং চাওয়াই ও তালমা নদীতে একটি করে বালুমহাল হয়েছে।দৈনিক ৩০০ থেকে ৩৫০টি ট্রাকে বালু পাঠানো হয় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। ধরন অনুযায়ী এক হাজার ঘনফুট বালুর দাম ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা। কিন্তু এই এক হাজার ঘনফুট বালু ঢাকায় পরিবহনে খরচ পড়ছে ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকা। চালকদের দাবি, সড়কে চাঁদাবাজি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।গাড়ি লোড থেকে শুরু করে শ্রমিকদের বকশিশসহ মজুরি, জেলায় জেলায় চাঁদাবাজি, যমুনার আগে লোডের অতিরিক্ত মাল অন্য গাড়িতে পারাপার ও তেল খরচ মিলিয়ে পরিবহন খরচ বেড়ে যাচ্ছে বহুগুণ।

পঞ্চগড়ের নদীগুলো বছরে অন্তত ১৫ কোটি ঘনফুট বালু জোগান দিচ্ছে দেশের নির্মাণ শিল্পে। এ বছর জেলার বালুমহাল থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় আট কোটি ৩২ লাখ টাকা।

মীরগড় এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এলাকার মানুষ বালুর ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। এখানে দেশের মধ্যে সেরা বালু পাওয়া যায়।১০ চাকার এক ট্রাক বালুর দাম মাত্র ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। কিন্তু এই এক ট্রাক বালু ঢাকায় পৌঁছতে খরচ হয় ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকা।’

গাড়িচালক মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আগের তুলনায় এখন সড়কে চাঁদাবাজি আরো বেড়ে গেছে। পুলিশ থেকে শুরু করে পথে প্রত্যেক জেলায় জেলায় চাঁদা দিতে হয়। ১০০, ২০০, ৫০০—যে যেমন পারে চাঁদা নেয়। ওভারলোড গাড়ির বালু যমুনার আগে অন্য ট্রাকে পারাপার করতে হয়। সেখানে আরো ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়। এভাবে পরিবহন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।’

গণসংহতি আন্দোলন পঞ্চগড়ের আহ্বায়ক সাজেদুর রহমান সাজু বলেন, ‘দেখা যাচ্ছে যারা প্রভাবশালী, কেবল তারাই ইজারা পাচ্ছে। এই সিস্টেম পরিবর্তন করতে হবে।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন পঞ্চগড়ের সভাপতি এ কে এম আনোয়ারুল খায়ের বলেন, ‘নির্ধারিত স্থানের বাইরে যেন কেউ বালু উত্তোলন করতে না পারে, তার জন্য প্রশাসনকে আরো কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’

জেলা পাথর-বালি যৌথ ফেডারেশনের সভাপতি বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘নিয়ম মেনেই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। কেউ বোমা মেশিন ব্যবহার করছে না। ৮০০ থেকে ১১০০ টাকা ট্রাকপ্রতি বালুমহালের ফি নেওয়া হয়।’

জেলা প্রশাসক সাবেত আলী বলেন, ‘বালুশিল্প জেলার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে যারা নির্ধারিত জায়গার বাইরে বালু উত্তোলন করছে এবং অবৈধ বোমা মেশিন ব্যবহার করছে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছি।’