আগুনে ঝলসে ঢাকার বার্ন ইউনিটে ১৬ দিন, চিকিৎসা ব্যয়ে দিশেহারা সাব্বিরের পরিবার
- আপডেট সময় : ০৮:৪৮:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮০ বার পড়া হয়েছে

আগুনে ঝলসে ঢাকার বার্ন ইউনিটে ১৬ দিন, চিকিৎসা ব্যয়ে দিশেহারা সাব্বিরের পরিবার
বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধিঃ
আগুনে শরীরের অধিকাংশ অংশ ঝলসে যাওয়ার পর গত ১৬ দিন ধরে ঢাকার বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন নাটোরের বাগাতিপাড়ার সাব্বির মোল্লা (২৩)। প্রতিদিন চিকিৎসায় ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে এখন আর কুলিয়ে উঠতে পারছে না তার পরিবার। এ অবস্থায় সাব্বিরের চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষের সহযোগিতা চেয়েছে পরিবার।
সাব্বির উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের বাজিতপুর পূর্বপাড়া গ্রামের সবুজ মোল্লার ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ সেপ্টেম্বর মোটরসাইকেলের ফুটো হওয়া ট্যাংকে আঠা লাগানোর সময় ব্যাটারির স্পার্কিং থেকে আগুন ধরে যায়। এতে সাব্বিরের শরীরের অধিকাংশ অংশ পুড়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে ঢাকার বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়। এরপর থেকে সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, চিকিৎসকরা আরও প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে প্রতিদিন প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি এই চিকিৎসার ব্যয় বহন করা পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
সাব্বিরের দাদা আফাজ মোল্লা বলেন, নাতির অবস্থা ভালো নয়। চিকিৎসকরা আরও কয়েক সপ্তাহ চিকিৎসা চালিয়ে যেতে বলেছেন। কিন্তু প্রতিদিনের চিকিৎসার খরচ জোগাড় করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকেও যতটুকু পেরেছি সহযোগিতা নিয়েছি। এখন সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা ছাড়া চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন।
তিনি জানান, সাব্বির স্থানীয় একজন ডিলারের মালামাল দোকানে দোকানে সরবরাহের কাজ করতেন। অল্প বেতনের সেই আয় দিয়েই স্ত্রী ও এক কন্যাসন্তানকে নিয়ে কষ্টে সংসার চালাতেন তিনি। সাব্বিরের বাবা দীর্ঘদিন ধরে আলাদা সংসারে থাকেন বলেও জানান তিনি।
সাব্বিরের স্ত্রী লামিয়া খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামীই ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এখন সেও আগুনে পুড়ে হাসপাতালে পড়ে আছে। প্রতিদিন অনেক টাকা খরচ হচ্ছে। আমাদের পরিবারের সামর্থ্য প্রায় শেষ হয়ে গেছে। সমাজের হৃদয়বান ও সামর্থ্যবান মানুষের কাছে আমার স্বামীর চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা চাই।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম মোল্লা বলেন, সাব্বিরের পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। আগুনে শরীরের অধিকাংশ অংশ পুড়ে যাওয়ায় তার দীর্ঘদিন চিকিৎসার প্রয়োজন হচ্ছে। চিকিৎসা চালিয়ে নিতে তিনি সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
সাব্বিরের পরিবার জানিয়েছে, সহায়তা করতে আগ্রহীরা তার দাদা আফাজ উদ্দিন মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।
যোগাযোগ: আফাজ উদ্দিন মোল্লা — ০১৩২৫১৯৫০১০



















