ঢাকা ০৮:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বোদায় হানিট্রাপের অভিযোগে দুই যুবদল নেতা গ্রেপ্তার বোদায় ধানক্ষেত থেকে ৪ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১ বোদায় বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা নলডাঙ্গায় ক্ষতিকর পোকা শনাক্তে ‘আলোক ফাঁদ’, কমবে বালাইনাশকের ব্যবহার দেবীগঞ্জে প্যাকেটজাত দুধ পান করে ১৭ শিক্ষার্থী অসুস্থ বেনাপোল ইমিগ্রেশনে যাত্রী হয়রানি ও ঘুষ দাবির অভিযোগ, তদন্তের দাবি বগুড়ার ইলেকট্রিক মার্কেটে বিএসটিআইয়ের অভিযান, ৮ প্রতিষ্ঠানকে ৭ দিনের সময় গোদাগাড়ীতে হঠাৎ তীব্র পদ্মার ভাঙন, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ ৫৫ বছরেও পাকা হয়নি ঝিনাইগাতীর ২ কিলোমিটার সড়ক, দুর্ভোগে পাঁচ গ্রামের মানুষ সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাবিতে মানববন্ধন, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ

বাগাতিপাড়ায় স্কুলের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, রাতে কাজের অভিযোগ

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১১:৫৪:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ৪৯৫ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাগাতিপাড়ায় স্কুলের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, রাতে কাজের অভিযোগ

তদন্তের পরও মান উন্নয়ন হয়নি, তদারকি ছাড়াই চলছে নির্মাণকাজ—বলছেন স্থানীয়রা

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে। পূর্বে তদন্ত হলেও বাস্তবে কাজের মানে কোনো দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের। বরং এবার রাতের আঁধারে নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কোনো প্রকার তদারকি ছাড়াই প্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং অনিয়ম গোপন করতেই রাতের বেলা কাজ করা হচ্ছে।

এর আগে একই প্রকল্পে সিমেন্টের স্বল্প ব্যবহার, রডের সঠিক সেন্টারিং না রাখা এবং বালু ও ডাস্ট মিশিয়ে নিম্নমানের ঢালাইয়ের বিষয়টি উঠে আসে। তদন্তে উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরের প্রতিনিধিরাও এসব অনিয়মের সত্যতা পান এবং তা সংশোধনের আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি, বাস্তবে কাজের মানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এখনো ঢালাইয়ে সিমেন্টের পরিমাণ কম দেওয়া হচ্ছে এবং পিলারগুলো দুর্বল ও বাঁকা অবস্থায় তৈরি করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, “দিনে নজরদারি থাকে বলে এখন রাতে কাজ করছে, যাতে কেউ ধরতে না পারে।”

এলাকাবাসী আরও বলেন, সরকারি অর্থে পরিচালিত এই প্রকল্পে মানসম্মত কাজ নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তারা দ্রুত অনিয়ম বন্ধ করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে ঠিকাদারপক্ষের ভাগিনা পরিচয়ে নয়ন বলেন, বিকেল চারটা থেকে ঢালাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে এবং ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলেই রাতে কাজ করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, কাজের মান ঠিক রয়েছে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারের লোকজন প্রভাব খাটিয়ে দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মো. ফুয়াদ পূর্বে জানিয়েছিলেন, অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যকর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাগাতিপাড়ায় স্কুলের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, রাতে কাজের অভিযোগ

আপডেট সময় : ১১:৫৪:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

বাগাতিপাড়ায় স্কুলের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, রাতে কাজের অভিযোগ

তদন্তের পরও মান উন্নয়ন হয়নি, তদারকি ছাড়াই চলছে নির্মাণকাজ—বলছেন স্থানীয়রা

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে। পূর্বে তদন্ত হলেও বাস্তবে কাজের মানে কোনো দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের। বরং এবার রাতের আঁধারে নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কোনো প্রকার তদারকি ছাড়াই প্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং অনিয়ম গোপন করতেই রাতের বেলা কাজ করা হচ্ছে।

এর আগে একই প্রকল্পে সিমেন্টের স্বল্প ব্যবহার, রডের সঠিক সেন্টারিং না রাখা এবং বালু ও ডাস্ট মিশিয়ে নিম্নমানের ঢালাইয়ের বিষয়টি উঠে আসে। তদন্তে উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরের প্রতিনিধিরাও এসব অনিয়মের সত্যতা পান এবং তা সংশোধনের আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি, বাস্তবে কাজের মানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এখনো ঢালাইয়ে সিমেন্টের পরিমাণ কম দেওয়া হচ্ছে এবং পিলারগুলো দুর্বল ও বাঁকা অবস্থায় তৈরি করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, “দিনে নজরদারি থাকে বলে এখন রাতে কাজ করছে, যাতে কেউ ধরতে না পারে।”

এলাকাবাসী আরও বলেন, সরকারি অর্থে পরিচালিত এই প্রকল্পে মানসম্মত কাজ নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তারা দ্রুত অনিয়ম বন্ধ করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে ঠিকাদারপক্ষের ভাগিনা পরিচয়ে নয়ন বলেন, বিকেল চারটা থেকে ঢালাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে এবং ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলেই রাতে কাজ করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, কাজের মান ঠিক রয়েছে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারের লোকজন প্রভাব খাটিয়ে দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মো. ফুয়াদ পূর্বে জানিয়েছিলেন, অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যকর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।