ঢাকা ০১:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নওগাঁয় সরিষার তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা লালমনিরহাটে শি’শু ধ/র্ষ/ণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন, লাখ টাকা জরিমানা মুন্সীগঞ্জে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ একজন গ্রেপ্তার শাকিল হ/ত্যা মামলায় এমপির ছেলে মিন্টুর তিন দিনের রিমান্ড রাণীনগরে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে ১০ দিনের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর পরিষ্কারের নির্দেশ বালিয়াডাঙ্গীতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল যুবকের, বন্ধু হাসপাতালে পঞ্চগড়ে ১৭ দরিদ্র নারী পেলেন দুটি করে মা ছাগল পঞ্চগড় থেকে দেখা মিলছে হিমালয়ের কাঞ্চনজঙ্ঘার পঞ্চগড় সীমান্তে ভারতে পাচারের আগে ৮ বস্তা সার উদ্ধার

পুঠিয়ায় প্রকাশ্যে মাদক বাণিজ্যের অভিযোগ, আতঙ্কে এলাকাবাসী

পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১০:৩৯:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ৩২৪ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পুঠিয়ায় প্রকাশ্যে মাদক বাণিজ্যের অভিযোগ, আতঙ্কে এলাকাবাসী

পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ, অভিযানের আগেই ফাঁস হয় তথ্য—দাবি স্থানীয়দের

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলাজুড়ে প্রকাশ্যে মাদকের রমরমা কেনাবেচার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার পুঠিয়া ও বেলপুকুর থানা এলাকার বিভিন্ন গ্রাম ও বাজারে মাদককারবারিদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে এসব অভিযোগের পরও থানা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুঠিয়া পৌর এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ চোলাই মদ উৎপাদন ও বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, নতুন কৌশলে কোমল পানীয়ের বোতলে ভরে চোলাই মদ বিক্রি করা হচ্ছে, যা সহজে শনাক্ত করা কঠিন। এতে করে মাদককারবারিরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

এলাকাবাসীরা জানান, একাধিকবার থানায় মৌখিক অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে মাদককারবারিরা প্রকাশ্যেই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। মদ্যপ অবস্থায় লোকজনকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পাশাপাশি মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনাও বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুঠিয়া থানার অদূরে অবস্থিত আদিবাসী সাঁওতাল পাড়ায় প্রকাশ্যে চোলাই মদ তৈরির অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা থানা থেকে মাত্র প্রায় ৪০০ মিটার দূরে। স্থানীয়দের দাবি, এত কাছাকাছি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চললেও থানা পুলিশের কার্যকর উপস্থিতি দেখা যায় না। যদিও মাঝে মধ্যে র‍্যাব অভিযান চালালেও স্থানীয় পুলিশকে অনেক ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয় থাকতে দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খলিফাপাড়া, রামজীবনপুর, কৃষ্ণপুর, বারইপাড়া ও শিশু পার্কসংলগ্ন এলাকা, উপজেলার মোল্লাপাড়া, কান্দ্রা গুচ্ছগ্রাম, ধোপাপাড়া, ফুলবাড়ি, নামাজগ্রাম, শিবপুর বাজার, বানেশ্বর হাট, পীরগাছা তালুকদার গুচ্ছগ্রাম, গন্ডগোহালী, হলহোলিয়া ও ঝলমলিয়া বাজার এলাকাতেও মাদক কেনাবেচা চলছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

এদিকে রাজশাহী নগর পুলিশের আওতাধীন বেলপুকুর থানা এলাকার ডিসির মোড়, বগারটেক ও জামিরাসহ একাধিক স্থানেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় আদিবাসী পাড়ার বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মাদককারবারিদের যোগসাজশ রয়েছে। এমনকি চোলাই মদ তৈরির উপকরণ সরবরাহে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ঘনিষ্ঠদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন মাদক বিক্রেতা দাবি করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া এ ধরনের ব্যবসা চালানো সম্ভব নয়। ‘চুক্তি না করলে একদিনও টিকে থাকা যায় না’—এমন মন্তব্যও করেন তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের অভিযানে মূলত মাদকসেবীদেরই বেশি আটক করা হয়। মাঝে মধ্যে ছোটখাটো কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও বড় সিন্ডিকেটের সদস্যরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। ফলে মাদক নিয়ন্ত্রণে আসছে না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান চলছে। গাফিলতির কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দেন, আমরা অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেব। জুয়া ও মাদকের ব্যাপারে আমরা সোচ্চার।” তিনি আরও জানান, অনেক সময় অভিযানের আগেই তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় অপরাধীরা পালিয়ে যায়।

অন্যদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পুঠিয়া সার্কেলের পরিদর্শক জাকির হোসেন বলেন, “আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। আদিবাসী পাড়ায় অভিযানে যাওয়ার আগেই তারা কোনোভাবে টের পেয়ে যায় এবং কার্যক্রম বন্ধ করে পালিয়ে যায়।”

এ বিষয়ে সচেতন মহল বলছে, মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কার্যকর ও দৃশ্যমান ভূমিকা জরুরি। একই সঙ্গে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।

April 16, 2026
পুঠিয়ায় প্রকাশ্যে মাদক বাণিজ্যের অভিযোগ, আতঙ্কে এলাকাবাসী
বিস্তারিত কমেন্টে...www.channelanews.com
Advertisement

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পুঠিয়ায় প্রকাশ্যে মাদক বাণিজ্যের অভিযোগ, আতঙ্কে এলাকাবাসী

আপডেট সময় : ১০:৩৯:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

পুঠিয়ায় প্রকাশ্যে মাদক বাণিজ্যের অভিযোগ, আতঙ্কে এলাকাবাসী

পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ, অভিযানের আগেই ফাঁস হয় তথ্য—দাবি স্থানীয়দের

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলাজুড়ে প্রকাশ্যে মাদকের রমরমা কেনাবেচার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার পুঠিয়া ও বেলপুকুর থানা এলাকার বিভিন্ন গ্রাম ও বাজারে মাদককারবারিদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে এসব অভিযোগের পরও থানা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুঠিয়া পৌর এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ চোলাই মদ উৎপাদন ও বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, নতুন কৌশলে কোমল পানীয়ের বোতলে ভরে চোলাই মদ বিক্রি করা হচ্ছে, যা সহজে শনাক্ত করা কঠিন। এতে করে মাদককারবারিরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

এলাকাবাসীরা জানান, একাধিকবার থানায় মৌখিক অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে মাদককারবারিরা প্রকাশ্যেই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। মদ্যপ অবস্থায় লোকজনকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পাশাপাশি মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনাও বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুঠিয়া থানার অদূরে অবস্থিত আদিবাসী সাঁওতাল পাড়ায় প্রকাশ্যে চোলাই মদ তৈরির অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা থানা থেকে মাত্র প্রায় ৪০০ মিটার দূরে। স্থানীয়দের দাবি, এত কাছাকাছি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চললেও থানা পুলিশের কার্যকর উপস্থিতি দেখা যায় না। যদিও মাঝে মধ্যে র‍্যাব অভিযান চালালেও স্থানীয় পুলিশকে অনেক ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয় থাকতে দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খলিফাপাড়া, রামজীবনপুর, কৃষ্ণপুর, বারইপাড়া ও শিশু পার্কসংলগ্ন এলাকা, উপজেলার মোল্লাপাড়া, কান্দ্রা গুচ্ছগ্রাম, ধোপাপাড়া, ফুলবাড়ি, নামাজগ্রাম, শিবপুর বাজার, বানেশ্বর হাট, পীরগাছা তালুকদার গুচ্ছগ্রাম, গন্ডগোহালী, হলহোলিয়া ও ঝলমলিয়া বাজার এলাকাতেও মাদক কেনাবেচা চলছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

এদিকে রাজশাহী নগর পুলিশের আওতাধীন বেলপুকুর থানা এলাকার ডিসির মোড়, বগারটেক ও জামিরাসহ একাধিক স্থানেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় আদিবাসী পাড়ার বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মাদককারবারিদের যোগসাজশ রয়েছে। এমনকি চোলাই মদ তৈরির উপকরণ সরবরাহে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ঘনিষ্ঠদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন মাদক বিক্রেতা দাবি করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া এ ধরনের ব্যবসা চালানো সম্ভব নয়। ‘চুক্তি না করলে একদিনও টিকে থাকা যায় না’—এমন মন্তব্যও করেন তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের অভিযানে মূলত মাদকসেবীদেরই বেশি আটক করা হয়। মাঝে মধ্যে ছোটখাটো কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও বড় সিন্ডিকেটের সদস্যরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। ফলে মাদক নিয়ন্ত্রণে আসছে না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান চলছে। গাফিলতির কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দেন, আমরা অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেব। জুয়া ও মাদকের ব্যাপারে আমরা সোচ্চার।” তিনি আরও জানান, অনেক সময় অভিযানের আগেই তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় অপরাধীরা পালিয়ে যায়।

অন্যদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পুঠিয়া সার্কেলের পরিদর্শক জাকির হোসেন বলেন, “আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। আদিবাসী পাড়ায় অভিযানে যাওয়ার আগেই তারা কোনোভাবে টের পেয়ে যায় এবং কার্যক্রম বন্ধ করে পালিয়ে যায়।”

এ বিষয়ে সচেতন মহল বলছে, মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কার্যকর ও দৃশ্যমান ভূমিকা জরুরি। একই সঙ্গে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।

April 16, 2026
পুঠিয়ায় প্রকাশ্যে মাদক বাণিজ্যের অভিযোগ, আতঙ্কে এলাকাবাসী
বিস্তারিত কমেন্টে...www.channelanews.com
Advertisement