জনবল সংকটে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে অচল, বন্ধ ৪৩ ট্রেন ও ৬৭ স্টেশন
- আপডেট সময় : ০১:৪৪:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ৮৭ বার পড়া হয়েছে

জনবল সংকটে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে অচল, বন্ধ ৪৩ ট্রেন ও ৬৭ স্টেশন
৫৫ শতাংশ পদ শূন্য; যাত্রী ভোগান্তি চরমে, পরিত্যক্ত স্টেশনে চুরি-নষ্ট হচ্ছে রেলের সম্পদ
জনবল সংকট ও যন্ত্রাংশের ঘাটতিতে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে-এর পশ্চিমাঞ্চল। পাকশী ও লালমনিরহাট রেল বিভাগের অধীনে থাকা ২৭৩টি স্টেশনের মধ্যে ইতোমধ্যে ৬৭টি স্টেশন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে ইঞ্জিন ও বগির সংকটে বন্ধ রয়েছে ৪০টি লোকাল ও মেইল ট্রেন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক লাখ যাত্রী।
রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্টের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্টেশন মাস্টার, সহকারী স্টেশন মাস্টার, প্ল্যাটফর্ম মাস্টার ও কেবিন মাস্টারসহ মোট ৯৭৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৩৩৩ জন। ফলে ৬৪২টি পদ শূন্য রয়েছে। গার্ড, গেটকিপার ও পয়েন্টসম্যান পদেও রয়েছে বড় ধরনের ঘাটতি। সব মিলিয়ে মোট জনবলের প্রায় ৫৫ শতাংশই শূন্য।
পাকশী রেল বিভাগে ৫৬টি স্টেশন পুরোপুরি এবং ২টি আংশিক বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে লালমনিরহাট বিভাগে বন্ধ রয়েছে ১১টি স্টেশন। একই সঙ্গে পাকশীতে ৮টি মেইল ও ৭টি লোকাল ট্রেন এবং লালমনিরহাটে ১১টি মেইল, কমিউটার ও ১৪টি লোকাল ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক রুটের মৈত্রী, মিতালী ও বন্ধন এক্সপ্রেসের চলাচলও প্রায় ২২ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে পাবনা জেলার চলনবিল এলাকার গুয়াখাড়া ও গফুরাবাদ স্টেশনসহ একাধিক স্টেশন পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে। এসব স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম, ভবন ও কর্মচারীদের বাসভবন বেদখল হয়ে যাচ্ছে এবং চুরি হচ্ছে মূল্যবান সরঞ্জাম। অনেক ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, আগে এসব স্টেশন দিয়ে কৃষিপণ্য ও মাছ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হতো। এখন স্টেশন বন্ধ থাকায় তাদের দূরের স্টেশনে যেতে হচ্ছে, এতে খরচ ও সময় দুটোই বাড়ছে।
রাজশাহী-এর চারঘাট উপজেলার নন্দনগাছি স্টেশন এক যুগের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে ট্রেনে উঠতে হচ্ছে। প্ল্যাটফর্ম না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীদের ওঠানামা করতে হয়।
পাকশী রেলওয়ে বিভাগের পরিবহণ কর্মকর্তা হাসিনা বেগম বলেন, “স্টেশন বন্ধের মূল কারণ জনবল সংকট। পাশাপাশি ইঞ্জিন ও বগির ঘাটতির কারণেও ট্রেন বন্ধ রাখতে হচ্ছে।”
লালমনিরহাট বিভাগের পরিবহণ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, নতুন জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সংকট কাটলে ধীরে ধীরে স্টেশন ও ট্রেন চালু করা সম্ভব হবে।
রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দ্রুত জনবল সংকট নিরসন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হলে পশ্চিমাঞ্চলের রেলসেবা আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।



















