নাটোরে হিজড়া সম্প্রদায়ের জন্য স্থায়ী কবরস্থান তৈরি
- আপডেট সময় : ০৮:৫৮:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬ ২১২ বার পড়া হয়েছে

নাটোরে হিজড়া সম্প্রদায়ের জন্য স্থায়ী কবরস্থান তৈরি
দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান, অবহেলিত তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ পেলেন নিজেদের মাটি
নাটোরের গুরুদাসপুরে অবহেলিত হিজড়া সম্প্রদায়ের (তৃতীয় লিঙ্গ) মানুষদের জন্য স্থায়ী কবরস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সমাজে চরম বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার এই সম্প্রদায়ের মানুষরা বেঁচে থাকতে যেমন নানা ধরনের অবহেলা ভোগ করেন, মৃত্যুর পরও তাদের দাফনের অধিকার সীমিত ছিল। ইউএনও ফাহমিদা আফরোজের উদ্যোগে এবার তারা নিজের মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত হওয়ার সুযোগ পেলেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কয়েক বছর আগে মারা যাওয়া তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যদের দাফনেও নানা বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, তিন বছর আগে মারা যাওয়া ছোহা (৩০) এবং গুরুমাতা নদী সরকারের পিতার মরদেহকে গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে দাফন করতে দেওয়া হয়নি। তখন পরিবারকে নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় কবর দিতে হয়েছিল।
এই দীর্ঘদিনের আক্ষেপের অবসান ঘটেছে সম্প্রতি গুরুদাসপুর উপজেলার একটি সমন্বয় সভায় বিষয়টি তুলে ধরার পর। ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ ৪ শতাংশ জমি কেনার মাধ্যমে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের জন্য স্থায়ী কবরস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। জমি ক্রয় করা হয়েছে নাজিরপুর ইউনিয়নের কুমারখালী গ্রামের ব্যবসায়ী তৌফিক আলীর কাছ থেকে, যা ৫ লাখ ১০ হাজার টাকায় ক্রয় করা হয়। আইনি সুবিধার জন্য গ্রহীতা হিসেবে হিজড়াদের পক্ষে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে দলিলে দেখানো হয়েছে।
উপজেলায় বর্তমানে ৪৫ জন হিজড়া সদস্য রয়েছেন, যার মধ্যে কুমারখালী গ্রামে ২১ জন বাস করেন। তাদের মধ্যে কেউ স্থায়ী কর্মসংস্থান বা নির্ভরযোগ্য আবাসনের সুযোগ পায়নি। মৃত্যুর পর দাফনের অনিশ্চয়তা তাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় ছিল।
হিজড়া সদস্যরা—নুপুর, সোনালী, সৌখীন, মাধবী, ইতি ও দিপারা—স্থায়ী কবরস্থান পাওয়ার পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, “গ্রামের মানুষ আমাদের সব সময় আলাদা করে রাখে। বেঁচে থাকতে কেউ পাশে দাঁড়ায় না, মৃত্যুর পরও নানা বাধা পোহাতে হয়। এখন অন্তত নিজের মাটিতে আমাদের চিরনিদ্রার ব্যবস্থা হলো, আর কেউ বাধা দিতে পারবে না।”
গুরুমাতা নদী সরকার বলেন, “এতদিন আমাদের কোনো শেষ ঠিকানা ছিল না। বাবার লাশও সামাজিক কবরস্থানে দাফন করতে পারিনি। ইউএনও স্যারের চেষ্টায় আজ আমরা শেষ ঠিকানা পেলাম। আমরা তার কাছে চিরকৃতজ্ঞ।”
গুরুদাসপুর ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ বলেন, “মৃত্যুর পরও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের দাফনের ক্ষেত্রে বৈষম্য অবহেলা চলতে পারে, এটা জেনে আমি অত্যন্ত ব্যথিত হয়েছিলাম। তাদের শেষ বিদায়ের পর অন্তত নিজের মাটিতে একটু ঠাঁই দেওয়া জরুরি। সমাজে পিছিয়ে পড়া এই জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হবে।”




















