ঢাকা ০৫:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঝিনাইগাতী সীমান্তে ১ হাজার ২৩৪ বোতল ভারতীয় মদ ও কাভার্ড ভ্যান আটক তালায় ভ’য়াব’হ সড়ক দু’র্ঘ’টনায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত মাধবপুরে সড়ক দু/র্ঘ/টনায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই বন্ধু নিহত কিশোরগঞ্জে চালবোঝাই পিকআপের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী স্বামী-স্ত্রী-সন্তান নিহত রাজশাহীর সিটি হাট ঘিরে পশুবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজির অভিযোগ গোমস্তাপুরে মহানন্দা নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার বাগাতিপাড়ায় গৃহবধূকে সং/ঘব/দ্ধ ধ/র্ষ/ণে/র অভিযোগ, থানায় মামলা পুঠিয়ার পশুর হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগে প্রশাসনের অভিযান টাঙ্গাইলে রডবোঝাই ট্রাক খাদে উ/ল্টে নিহত ১৫, আহত অন্তত ১০ সিংড়ায় চোরের কাছ থেকে ফ্রিজ কেনার অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে

পঞ্চগড়-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী ফরহাদ হোসেন আজাদের হলফনামা: কোটি টাকার সম্পদ, ব্যবসার ধরন অস্পষ্ট

মো. কামরুল ইসলাম কামু, বিশেষ প্রতিনিধি (পঞ্চগড়):
  • আপডেট সময় : ০৩:২৫:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬ ৩৯৫ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পঞ্চগড়-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী ফরহাদ হোসেন আজাদের হলফনামা: কোটি টাকার সম্পদ, ব্যবসার ধরন অস্পষ্ট

বাড়ি-গাড়ি, ব্যাংক আমানত ও স্বর্ণের মালিক প্রার্থী ও তার স্ত্রী—তবে কী ধরনের ব্যবসা করেন, তা উল্লেখ নেই

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন আজাদের নির্বাচনী হলফনামা পর্যালোচনায় উঠে এসেছে কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য। তবে তিনি ও তার স্ত্রী কী ধরনের ব্যবসা করেন, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

হলফনামায় ফরহাদ হোসেন আজাদ নিজের পেশা হিসেবে ‘ব্যবসা’ উল্লেখ করেছেন। এই ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় ২০ লাখ ৫০ হাজার ৫০০ টাকা এবং ব্যাংক আমানত থেকে আয় ৩৮ হাজার ৫০০ টাকা বলে উল্লেখ রয়েছে। তবে ব্যবসার প্রকৃতি বা খাত সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা নেই।

হলফনামা অনুযায়ী, তার হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৫৫ টাকা এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে ১ কোটি ৫৫ লাখ ৮৮ হাজার ৮৪ টাকা। অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য দেখানো হয়েছে ৩ কোটি ১ লাখ ৪৩ হাজার ১৩৯ টাকা।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে দুটি বাড়ির মূল্য দেখানো হয়েছে যথাক্রমে ২২ লাখ টাকা এবং ১৭ লাখ ৫ হাজার ২৪২ টাকা। এছাড়া গাড়ির মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ১৬ লাখ ২০ হাজার টাকা। তবে গাড়ির সংখ্যা বা ধরন সম্পর্কে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। তিনি নিজের নামে ১১ ভরি স্বর্ণের মালিকানার কথাও হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।

শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে এলএলবি উল্লেখ করা হয়েছে এবং তার কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নেই বলেও হলফনামায় বলা হয়েছে। আয়কর রিটার্নে তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ২০ লাখ ৮৯ হাজার ৫৪ টাকা এবং মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৩ কোটি ২৭ লাখ ৩৯৮ টাকা। এ বিপরীতে তিনি আয়কর প্রদান করেছেন ৩০ হাজার ৭৪০ টাকা।

হলফনামায় তার স্ত্রীর পেশা হিসেবে ‘ব্যবসা’ উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে পূর্বে তিনি গৃহিণী ছিলেন। স্ত্রীর নামে নগদ অর্থ রয়েছে ৩৭ লাখ ৫৬ হাজার ৫৯৮ টাকা এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে ২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। এছাড়া তার স্ত্রীর মালিকানায় রয়েছে ১০৮ ভরি স্বর্ণ এবং ৫ লাখ টাকার আসবাবপত্র। স্ত্রীর মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৪৫ লাখ ৫ হাজার ৫৯৮ টাকা। তার স্ত্রীর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৫৮৩ টাকা, যার বিপরীতে আয়কর প্রদান করা হয়েছে ১০ হাজার ৫৮৭ টাকা। তবে স্বামী-স্ত্রী কেউই কী ধরনের ব্যবসা করেন, তা স্পষ্ট করেননি।

হলফনামায় দায়-দেনা ও অন্যান্য সম্পদের অংশে পঞ্চগড় এমআর সরকারি কলেজ রোডে ৭ দশমিক ৩৪ একর জমির মূল্য ৫ লাখ ২২ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। যদিও সেখানে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে একটি তিনতলা ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, যা হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া রংপুরের রেডিসন স্পেশালাইজড হাসপাতালে ৫ লাখ টাকার শেয়ারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনগত বিষয়ে হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে, ফরহাদ হোসেন আজাদের বিরুদ্ধে মোট দুটি মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি ১৯৯৭ সালে ঢাকার সিএমএম আদালতে দায়ের হয়ে ২০০১ সালে তিনি অব্যাহতি পান। অপর মামলাটি ২০১১ সালে শাহবাগ থানায় দায়ের হয়ে ২০১৭ সালে স্থগিত হয়।

নির্বাচনী ব্যয়ের বিষয়ে হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন, নিজের আয় থেকে ৫ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। এছাড়া ভাই-বোন ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে নির্বাচনী ব্যয় মেটানো হবে। এর মধ্যে এক ভাই ১০ লাখ টাকা, তিন বোন ১৫ লাখ টাকা, চাচা-মামা-শ্বশুর-শাশুড়ি প্রত্যেকে ৫ লাখ টাকা করে এবং আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে আরও ১০ লাখ টাকা সংগ্রহের কথা উল্লেখ রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পঞ্চগড়-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী ফরহাদ হোসেন আজাদের হলফনামা: কোটি টাকার সম্পদ, ব্যবসার ধরন অস্পষ্ট

আপডেট সময় : ০৩:২৫:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

পঞ্চগড়-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী ফরহাদ হোসেন আজাদের হলফনামা: কোটি টাকার সম্পদ, ব্যবসার ধরন অস্পষ্ট

বাড়ি-গাড়ি, ব্যাংক আমানত ও স্বর্ণের মালিক প্রার্থী ও তার স্ত্রী—তবে কী ধরনের ব্যবসা করেন, তা উল্লেখ নেই

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন আজাদের নির্বাচনী হলফনামা পর্যালোচনায় উঠে এসেছে কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য। তবে তিনি ও তার স্ত্রী কী ধরনের ব্যবসা করেন, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

হলফনামায় ফরহাদ হোসেন আজাদ নিজের পেশা হিসেবে ‘ব্যবসা’ উল্লেখ করেছেন। এই ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় ২০ লাখ ৫০ হাজার ৫০০ টাকা এবং ব্যাংক আমানত থেকে আয় ৩৮ হাজার ৫০০ টাকা বলে উল্লেখ রয়েছে। তবে ব্যবসার প্রকৃতি বা খাত সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা নেই।

হলফনামা অনুযায়ী, তার হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৫৫ টাকা এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে ১ কোটি ৫৫ লাখ ৮৮ হাজার ৮৪ টাকা। অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য দেখানো হয়েছে ৩ কোটি ১ লাখ ৪৩ হাজার ১৩৯ টাকা।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে দুটি বাড়ির মূল্য দেখানো হয়েছে যথাক্রমে ২২ লাখ টাকা এবং ১৭ লাখ ৫ হাজার ২৪২ টাকা। এছাড়া গাড়ির মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ১৬ লাখ ২০ হাজার টাকা। তবে গাড়ির সংখ্যা বা ধরন সম্পর্কে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। তিনি নিজের নামে ১১ ভরি স্বর্ণের মালিকানার কথাও হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।

শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে এলএলবি উল্লেখ করা হয়েছে এবং তার কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নেই বলেও হলফনামায় বলা হয়েছে। আয়কর রিটার্নে তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ২০ লাখ ৮৯ হাজার ৫৪ টাকা এবং মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৩ কোটি ২৭ লাখ ৩৯৮ টাকা। এ বিপরীতে তিনি আয়কর প্রদান করেছেন ৩০ হাজার ৭৪০ টাকা।

হলফনামায় তার স্ত্রীর পেশা হিসেবে ‘ব্যবসা’ উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে পূর্বে তিনি গৃহিণী ছিলেন। স্ত্রীর নামে নগদ অর্থ রয়েছে ৩৭ লাখ ৫৬ হাজার ৫৯৮ টাকা এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে ২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। এছাড়া তার স্ত্রীর মালিকানায় রয়েছে ১০৮ ভরি স্বর্ণ এবং ৫ লাখ টাকার আসবাবপত্র। স্ত্রীর মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৪৫ লাখ ৫ হাজার ৫৯৮ টাকা। তার স্ত্রীর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৫৮৩ টাকা, যার বিপরীতে আয়কর প্রদান করা হয়েছে ১০ হাজার ৫৮৭ টাকা। তবে স্বামী-স্ত্রী কেউই কী ধরনের ব্যবসা করেন, তা স্পষ্ট করেননি।

হলফনামায় দায়-দেনা ও অন্যান্য সম্পদের অংশে পঞ্চগড় এমআর সরকারি কলেজ রোডে ৭ দশমিক ৩৪ একর জমির মূল্য ৫ লাখ ২২ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। যদিও সেখানে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে একটি তিনতলা ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, যা হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া রংপুরের রেডিসন স্পেশালাইজড হাসপাতালে ৫ লাখ টাকার শেয়ারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনগত বিষয়ে হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে, ফরহাদ হোসেন আজাদের বিরুদ্ধে মোট দুটি মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি ১৯৯৭ সালে ঢাকার সিএমএম আদালতে দায়ের হয়ে ২০০১ সালে তিনি অব্যাহতি পান। অপর মামলাটি ২০১১ সালে শাহবাগ থানায় দায়ের হয়ে ২০১৭ সালে স্থগিত হয়।

নির্বাচনী ব্যয়ের বিষয়ে হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন, নিজের আয় থেকে ৫ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। এছাড়া ভাই-বোন ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে নির্বাচনী ব্যয় মেটানো হবে। এর মধ্যে এক ভাই ১০ লাখ টাকা, তিন বোন ১৫ লাখ টাকা, চাচা-মামা-শ্বশুর-শাশুড়ি প্রত্যেকে ৫ লাখ টাকা করে এবং আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে আরও ১০ লাখ টাকা সংগ্রহের কথা উল্লেখ রয়েছে।