গোদাগাড়ীতে ডিজিটাল প্রিপেইড মিটার প্রত্যাহার ও নতুন মিটার স্থাপন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন
- আপডেট সময় : ০৪:২৮:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২৭ বার পড়া হয়েছে

গোদাগাড়ীতে ডিজিটাল প্রিপেইড মিটার প্রত্যাহার ও নতুন মিটার স্থাপন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুতের ডিজিটাল প্রিপেইড মিটার প্রত্যাহার এবং নতুন করে প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলা সদর গোল চত্বরে গোদাগাড়ী স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির আয়োজনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এতে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন নাগরিক স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালাহ উদ্দীন বিশ্বাস।
এসময় বক্তব্য রাখেন পালপুর ধরমপুর কলেজের অধ্যাপক ড. ওবাইদুল্লাহ, বরজাহান আলী পিন্টু, শিক্ষাবিদ মুজিবুর রহমান, সমাজ ও মানবকল্যাণ সংঘের মহাসচিব নুর আলম অহিদ, মশিউর রহমানসহ আরও অনেকে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ডিজিটাল প্রিপেইড মিটার সাধারণ মানুষের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি একটি জনবিরোধী ও জনদুর্ভোগমূলক সিদ্ধান্ত। গোদাগাড়ীতে যেখানে দীর্ঘদিন ধরে পোস্ট-পেইড মিটার চালু রয়েছে, সেখানে কোনো ধরনের জরিপ ছাড়াই সাধারণ মানুষের ওপর জোরপূর্বক প্রিপেইড মিটার চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত বিলের বোঝা বাড়ছে এবং গ্রাহকরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
মানববন্ধনে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় গোদাগাড়ী উপজেলাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর আন্দোলনে নামা হবে। জরিপ ছাড়া এবং জনগণের মতামত উপেক্ষা করে প্রিপেইড মিটার স্থাপন কখনোই মেনে নেওয়া হবে না।
মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে বলা হয়, “আগে টাকা, পরে বিদ্যুৎ”—এই নীতি সাধারণ জনগণ কোনোভাবেই মেনে নেবে না। এতে মানুষ চরম হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রিপেইড মিটারে মাঝেমধ্যেই ভুতুড়ে বিল দেখা যায়। কারিগরি ত্রুটির কারণে ব্যালেন্স দেখা যায় না, রিচার্জ করার পরও ইউনিট পাওয়া যায় না, সার্ভার সমস্যায় মিটার অকেজো হয়ে পড়ে। এমনকি মিটার নষ্ট হলে বিকল্প হিসেবেও গ্রাহকদের প্রিপেইড মিটার নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। রিচার্জের সময় অতিরিক্ত ভ্যাট ও সার্ভিস চার্জ কাটা হচ্ছে। বয়স্ক ও অশিক্ষিত মানুষের জন্য এই মিটার ব্যবহার আরও জটিল হয়ে উঠেছে।



















