বাগাতিপাড়া মডেল মসজিদ পাঁচ দিন ধরে অন্ধকার-মোবাইলের আলোয় নামাজ পড়ছেন মুসল্লিরা
- আপডেট সময় : ১২:৪৭:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ৪০৫ বার পড়া হয়েছে

বাগাতিপাড়া মডেল মসজিদ পাঁচ দিন ধরে অন্ধকার-মোবাইলের আলোয় নামাজ পড়ছেন মুসল্লিরা
এসটি সুইচ গিয়ার পুড়ে যাওয়ায় বন্ধ ফ্যান, লাইট ও পানি সরবরাহ- অন্ধকারে মোবাইলের আলোয় নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা
নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা মডেল মসজিদে এসটি সুইচ গিয়ার পুড়ে যাওয়ায় গত পাঁচ দিন ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নিয়মিত মুসল্লিরা। বিদ্যুৎ না থাকায় মসজিদের ফ্যান, লাইট ও পানি সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ, ফলে নামাজ ও অজু করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন সবাই। অন্ধকারে মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা।
স্থানীয়রা জানান, আধুনিক অবকাঠামোয় নির্মিত এ নতুন মসজিদে এমন ত্রুটি উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত সমস্যার সমাধান করে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ সচল করার দাবি জানান।

মডেল মসজিদ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ অক্টোবর (রবিবার) আসর নামাজের পর হঠাৎ বিকট শব্দে মসজিদের প্রধান এসটি সুইচ গিয়ার পুড়ে যায়। এরপর থেকে মসজিদটি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। এর ফলে ফ্যান, লাইট, সাউন্ড সিস্টেম ও পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বাইরে ভিড় করে অজু করতে হচ্ছে মুসল্লিদের।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বাগাতিপাড়া উপজেলা মডেল মসজিদটি উদ্বোধন করা হয়। মাত্র আট মাসের মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। এতে নিয়মিত নামাজ, ধর্মীয় কার্যক্রম ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দাপ্তরিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
মডেল মসজিদের ইমাম মাওলানা মাহাবুব আলম সিদ্দিক বলেন, “২৫ অক্টোবর আসর নামাজের পর থেকেই বিদ্যুৎ নেই। মুসল্লিরা অন্ধকারে মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে নামাজ পড়ছেন। আমি নিজেও রাতে গরমে কষ্টে ঘুমাতে পারি না। ফোনে বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও এখনো সমাধান হয়নি।”
মডেল মসজিদ সংলগ্ন বিহাড়কোল বাজারের ব্যবসায়ী ও নিয়মিত মুসল্লি রফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রতিদিন নামাজে এসে দেখি পানি নেই, আলো নেই। অন্ধকারে নামাজ পড়তে হয়, বাইরে হুড়োহুড়ি করে অজু করতে হয়। মুসল্লিদের অনেক কষ্ট হচ্ছে।”
মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক সৈয়দ শাহ মাসুদ জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অফিস কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তবে অন্ধকার ও গরমের মধ্যেই তারা নিয়মিত অফিস করছেন বলে জানান তিনি।
জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি অবগত হয়েছি। নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যোগদান করায় তিনিই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, “আমি সদ্য যোগদান করেছি, বিষয়টি জানতাম না। এখন বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




















