ঢাকা ০১:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বগুড়ায় মশার কয়েল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা গোদাগাড়ীতে বাল্যবিবাহ বন্ধ, ইমাম ও বরপক্ষকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা পঞ্চগড়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত পঞ্চগড়ে ডিম ব্যবসায়ীকে জরিমানা, অন্যদের সতর্ক বনশ্রী সোসাইটির কমন ফ্যাসিলিটিজের জায়গা পুনরুদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন মান্দায় স্কুলের সামনে ভটভটির ধাক্কায় প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিহত নকলায় মাদ্রাসাছাত্রী অপহরণ মামলায় প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তার শ্রীবরদী সীমান্তে ভারতীয় কসমেটিকস ও অটোভ্যান আটক নলডাঙ্গায় মাদক সেবনের দায়ে এক ব্যক্তির কারাদণ্ড তামাক-নিকোটিন পণ্য এসডিজি অর্জনে বড় বাধা: গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনে বিনা টাকায় চাকরি পেলো ৪৬ জন

মোঃ কামরুল ইসলাম কামু, বিশেষ প্রতিনিধি পঞ্চগড়ঃ
  • আপডেট সময় : ০২:৫৪:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২৫৯ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনে বিনা টাকায় চাকরি পেলো ৪৬ জন

চাকরি যেনো সোনার হরিণ সেখানে মেধায় উর্ত্তীণ ৪৫ জনকে নিয়োগ দিয়ে তাদের রজনীগন্ধা ফুলের শুভেচ্ছা জানালেন পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মো. সাবেত আলী। জেলা প্রশাসনের ১১টি পদে ৪৬ জন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। সেখাপ্রোয় পাঁচ হাজার প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪৬ জন। তাদের মধ্যে ৪৫ জন যোগদান করেন।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার চিনিকল কলোনীতে বেড়ে ওঠা খায়রুন নাহার বাবাকে হারিয়ে তার ভাঙাচোরা বাড়িতেই আশ্রয় নিয়েছিলেন। টিউশনি আর অভাবের সংসারে কোনরকম লেখাপড়া চালিয়ে পঞ্চগড় সরকারী মকবুলার রহমান(এমআর) কলেজ থেকে ব্যবস্থাপনায় মাস্টার্স পাশ করেন।তবে চাকরী পেতে মৌখিক পরীক্ষা পর্যন্ত গিয়ে আর চাকরী হয়নি।তবে এবার পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অফিস সহায়ক পদে মাত্র ৫৬ টাকা খরচে চাকরি পেয়েছেন তিনি।

খায়রুন বলেন, ‘চাকরি নিয়ে গুজব ছিল যে টাকা ছাড়া নিয়োগ হবে না। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও আমি আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। ভাইভা ফল প্রকাশের পর বিস্মিত হয়েছি। মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রমাণ করেছে যে তদবির ও টাকা ছাড়া চাকরি সম্ভব।’নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ৪৫ জনের অধিকাংশের জীবনেই আছে এমন কষ্টের গল্প। কেউ বাবা হারিয়েছে, কেউ মা ছাড়া বড় হয়েছে, কেউ টিউশন করে লেখাপড়া চালিয়েছে।

সদর উপজেলার হাফিজাবাদ এলাকার আরজিনা আক্তার বলেন, ‘গত দুই বছর অর্থাভাবে লেখাপড়া বন্ধ ছিল। টিউশন করে শেষ করেছি। বিনা টাকায় মেধাভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছি।’ জেলা শহরের আহম্মদনগর এলাকার সাগর হোসেন ও ফুটকিবাড়ির হাসানুর রহমানও দীর্ঘ সংগ্রামের পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগদান করেছেন। আলমগীর হোসেন বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের পর মেধাভিত্তিক নিয়োগের বড় উদাহরণ এটি।’

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মো. সাবেত আলী জানান, সর্বমোট ১১টি পদে ৪৬ জন নিয়োগের নিমিত্তে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। প্রায় পাঁচ হাজার প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৩২২ জন, ভাইভাতে উত্তীর্ণ হন ৪৬ জন, তবে এর মধ্যে ৪৫ জন যোগদান ও করেছেন। এমন স্বচ্ছতা যেনো আগামিতে থাকে সেটাই কামনা করি।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনে বিনা টাকায় চাকরি পেলো ৪৬ জন

আপডেট সময় : ০২:৫৪:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনে বিনা টাকায় চাকরি পেলো ৪৬ জন

চাকরি যেনো সোনার হরিণ সেখানে মেধায় উর্ত্তীণ ৪৫ জনকে নিয়োগ দিয়ে তাদের রজনীগন্ধা ফুলের শুভেচ্ছা জানালেন পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মো. সাবেত আলী। জেলা প্রশাসনের ১১টি পদে ৪৬ জন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। সেখাপ্রোয় পাঁচ হাজার প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪৬ জন। তাদের মধ্যে ৪৫ জন যোগদান করেন।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার চিনিকল কলোনীতে বেড়ে ওঠা খায়রুন নাহার বাবাকে হারিয়ে তার ভাঙাচোরা বাড়িতেই আশ্রয় নিয়েছিলেন। টিউশনি আর অভাবের সংসারে কোনরকম লেখাপড়া চালিয়ে পঞ্চগড় সরকারী মকবুলার রহমান(এমআর) কলেজ থেকে ব্যবস্থাপনায় মাস্টার্স পাশ করেন।তবে চাকরী পেতে মৌখিক পরীক্ষা পর্যন্ত গিয়ে আর চাকরী হয়নি।তবে এবার পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অফিস সহায়ক পদে মাত্র ৫৬ টাকা খরচে চাকরি পেয়েছেন তিনি।

খায়রুন বলেন, ‘চাকরি নিয়ে গুজব ছিল যে টাকা ছাড়া নিয়োগ হবে না। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও আমি আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। ভাইভা ফল প্রকাশের পর বিস্মিত হয়েছি। মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রমাণ করেছে যে তদবির ও টাকা ছাড়া চাকরি সম্ভব।’নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ৪৫ জনের অধিকাংশের জীবনেই আছে এমন কষ্টের গল্প। কেউ বাবা হারিয়েছে, কেউ মা ছাড়া বড় হয়েছে, কেউ টিউশন করে লেখাপড়া চালিয়েছে।

সদর উপজেলার হাফিজাবাদ এলাকার আরজিনা আক্তার বলেন, ‘গত দুই বছর অর্থাভাবে লেখাপড়া বন্ধ ছিল। টিউশন করে শেষ করেছি। বিনা টাকায় মেধাভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছি।’ জেলা শহরের আহম্মদনগর এলাকার সাগর হোসেন ও ফুটকিবাড়ির হাসানুর রহমানও দীর্ঘ সংগ্রামের পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগদান করেছেন। আলমগীর হোসেন বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের পর মেধাভিত্তিক নিয়োগের বড় উদাহরণ এটি।’

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মো. সাবেত আলী জানান, সর্বমোট ১১টি পদে ৪৬ জন নিয়োগের নিমিত্তে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। প্রায় পাঁচ হাজার প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৩২২ জন, ভাইভাতে উত্তীর্ণ হন ৪৬ জন, তবে এর মধ্যে ৪৫ জন যোগদান ও করেছেন। এমন স্বচ্ছতা যেনো আগামিতে থাকে সেটাই কামনা করি।’