বাগাতিপাড়ায় তলিয়ে গেছে দুই হাজার একর ফসলি জমি, পানিবন্দি ১০ গ্রাম, গ্রামবাসীর নামে মামলা
- আপডেট সময় : ০১:০১:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫ ১৭৩৭ বার পড়া হয়েছে

বাগাতিপাড়ায় তলিয়ে গেছে দুই হাজার একর ফসলি জমি, পানিবন্দি ১০ গ্রাম, গ্রামবাসীর নামে মামলা
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় পানি নিষ্কাশনের পথে বাঁধ দেওয়ায় এবারের টানা বর্ষণে একটি ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। একই সাথে তলিয়ে গেছে প্রায় দুই হাজার একর ফসলি জমি ও শতাধিক মাছের পুকুর। উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের প্রতাপপুর এলাকায় পানি নিষ্কাশনের ক্যানালে ৩ থেকে চারটি বাঁধ দেওয়ার কারণে এই জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। এতেকরে চরম অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন ওই সকল এলাকার মানুষ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নর্থবেঙ্গল সুগার মিলের ক্যানালটি দীর্ঘদিন ধরে পাঁকা ইউনিয়নের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ ছিল। কিন্তু সুগার মিল কর্তৃপক্ষ ক্যানালটি মাছ চাষের জন্য স্থানীয় কামাল বাবু নামে এক ব্যক্তিকে লিজ দিলে তিনি সেই ক্যানালে ৩/৪ বাঁধ দিয়ে পানি চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে প্রতাপপুরসহ আশেপাশের অন্তত ১০টি গ্রামে পানি প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
প্রতাপপুর গ্রামের ৭০ বছর বয়সী আতাহার আলীসহ কয়েকজন বলেন, “জীবনে এমন পানি দেখিনি। কামাল বাঁধ দিয়া পানি আটকে দিছে। সব ঘরবাড়ি আর জমি পানির নিচে। খাব কী, বাঁচব কী বুঝতেছি না।”

স্থানীয়রা জানান, প্লাবিত জমি ও পুকুর নষ্ট হয়ে যাওয়ায় গ্রামবাসীর জীবিকাও কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকেই কৃষি ও মাছচাষের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন, সেগুলো একেবারে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিবারে খাবার সংকটও দেখা দিয়েছে। এদিকে পানিবন্দি অবস্থায় ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েক দিন আগে গ্রামবাসী ক্যানালের একটি বাঁধ ভেঙে দেয়। এতে কামাল বাবুর ক্যানালের চাষকৃত মাছ বেরিয়ে যায় বলে বিষয়টি নিয়ে তিনি কয়েকজন গ্রামবাসীর নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করেন।
এলাকাবাসী ক্যানালটি অবিলম্বে উন্মুক্ত করে পানি চলাচলের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তারা জানিয়েছেন, ক্ষতির পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ছাড়া এই সংকট কেটে উঠবে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কামাল বাবু মুঠোফোনে বলেন, “আমি নিয়ম মেনেই মাছ চাষের জন্য মিল থেকে ক্যানাল লিজ নিয়েছি। ক্যানালে বাঁধ দেইনি, শুধু মাছ ধরে রাখার জন্য কিছু ঘেরা ছিল। বেশি বৃষ্টির কারণে পানি জমেছে। এখন আবার আমার মাছ মেড়ে নিয়ে লোকজন বাঁধ ভেঙেছে তাই আমি বাধ্য হয়ে মামলা করেছি।”

নর্থবেঙ্গল সুগার মিলের অন্তর্গত কৃষ্ণা কৃষি খামারের খামারপ্রধান খাইরুল ইসলাম বলেন, “নিয়ম মেনেই লিজ দেওয়া হয়েছে। তবে লিজের শর্তে বলা আছে, পানির স্বাভাবিক গতি বন্ধ করা যাবে না। কামাল বাবু সেটা মেনেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমি চাই না গ্রামের মানুষ কষ্ট পাক। তারা সরাসরি এসে জানালে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারতাম। এখন তারা বাঁধ ভেঙে দিয়ে তার মাছ বের করে দিয়েছে, এতে উল্টো সমস্যা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “ইউএনও স্যার আমাকে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন। আমি সেটির কাজ করছি।”
এদিকে সোমবার (৪ জুলাই) দুপুরে বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফ আফজাল রাজন এলাকাবাসীর মৌখিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেন। তবে গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।




















