ঢাকা ০৬:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাগাতিপাড়ায় গৃহবধূকে সং/ঘব/দ্ধ ধ/র্ষ/ণে/র অভিযোগ, থানায় মামলা পুঠিয়ার পশুর হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগে প্রশাসনের অভিযান টাঙ্গাইলে রডবোঝাই ট্রাক খাদে উ/ল্টে নিহত ১৫, আহত অন্তত ১০ সিংড়ায় চোরের কাছ থেকে ফ্রিজ কেনার অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে মান্দায় ৪৫ দিনের শি’শুকে বি-ষ খাইয়ে হ/ত্যা/চেষ্টার অভিযোগ নলডাঙ্গায় ট্রাকচা/পা/য় ভাঙারি ব্যবসায়ী নি’হ’ত, আহত ১ শেরপুরে প্রবাসী পরিবারের বাড়িতে হা/ম/লা-ভা/ঙ/চু/র ও লু’টপা’টের অভিযোগ, আদালতে মামলা বাগাতিপাড়ায় শি’শু ও নারী নি/র্যা/তনের প্রতিবাদে র‌্যালি ও মানববন্ধন ১৩ বছরেও পূর্ণাঙ্গ চালু হয়নি মালঞ্চি রেলস্টেশন, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসীণৃ্ পঞ্চগড়ে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সপ্তাহে মানববন্ধন, ১৪ বছর পর ছেলের খোঁজে মায়ের আকুতি

হৃদরোগ প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখবে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন: স্বাস্থ্য সচিব

এম এম মামুন:
  • আপডেট সময় : ০৩:২৯:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫ ৩১১ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হৃদরোগ প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখবে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন: স্বাস্থ্য সচিব

রাজশাহীতে মতবিনিময় সভায় স্বাস্থ্য সচিবের ঘোষণা- সরকারি অনুদান দ্বিগুণ, আধুনিক কার্ডিয়াক সেবায় আসছে বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্স

রাজশাহী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে হৃদরোগ চিকিৎসা ও প্রতিরোধ কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ অক্টোবর) সকালে ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের ডাইরেক্টর ও চিফ কনসালটেন্ট অধ্যাপক ডা. মো. রইছ উদ্দিন।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান। তিনি বলেন, “হৃদরোগ এখন দেশের অন্যতম স্বাস্থ্যঝুঁকি ও মৃত্যুহারের প্রধান কারণ। তাই হৃদরোগ প্রতিরোধ, প্রাথমিক শনাক্তকরণ ও উন্নত চিকিৎসা সেবায় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি আরও জানান, “উত্তরাঞ্চলের জনগণের সেবায় ফাউন্ডেশনকে আরও শক্তিশালী করতে বার্ষিক সরকারি অনুদান এক কোটি থেকে দুই কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এর ৪০ শতাংশ ব্যয় হবে বেতনে, আর ৬০ শতাংশ ব্যয় হবে সরঞ্জাম ও চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়নে।”

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে সচিব বলেন, “আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষিত জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্স সংযোজন করা হবে, যাতে জরুরি কার্ডিয়াক সেবা আরও দ্রুত ও কার্যকর হয়।”

ফাউন্ডেশনের উন্নয়নে জনসম্পৃক্ততার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে যাদের অবদান রয়েছে, তাদের নামে ইউনিট করা যেতে পারে। একই সঙ্গে আজীবন সদস্য সংখ্যা ও চাঁদার পরিমাণ বাড়াতে হবে, যাতে সেবার পরিধি আরও বিস্তৃত হয়। আমি নিজেও ফাউন্ডেশনের সদস্য হতে আগ্রহী।”

বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মো. হাবিবুর রহমান এবং সিভিল সার্জন ডা. এসআইএম রাজিউল করিম। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী সদস্য এনামুল হক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফাউন্ডেশনের (ভারপ্রাপ্ত) সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী, এবং বক্তব্য দেন নির্বাহী সদস্য ডা. মো. ওয়াসিম হোসেন।

সভায় বক্তারা জানান, সরকারের সহযোগিতায় ১৯৭৮ সালে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮৪ সালে রাজশাহীতে এর কার্যক্রম শুরু হয়, এবং ১৯৯২ সালে বিশিষ্ট সমাজসেবক ডা. মো. আব্দুল খালেক ৩১.৪৫ শতক জমি দান করে পূর্ণাঙ্গ হৃদরোগ হাসপাতাল নির্মাণের ভিত্তি স্থাপন করেন। ২০১৮ সালে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের আওতায় পাঁচতলা আধুনিক ভবন নির্মিত হয়। বর্তমানে এখানে কার্ডিওলজি, কার্ডিয়াক সার্জারি, আইসিইউ, সিসিইউসহ উন্নত চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, শিগগিরই হাসপাতালটি আরও সম্প্রসারিত হবে এবং রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের কোটি মানুষের জন্য হৃদরোগ চিকিৎসা আরও সহজলভ্য ও কার্যকর হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

হৃদরোগ প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখবে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন: স্বাস্থ্য সচিব

আপডেট সময় : ০৩:২৯:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫

হৃদরোগ প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখবে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন: স্বাস্থ্য সচিব

রাজশাহীতে মতবিনিময় সভায় স্বাস্থ্য সচিবের ঘোষণা- সরকারি অনুদান দ্বিগুণ, আধুনিক কার্ডিয়াক সেবায় আসছে বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্স

রাজশাহী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে হৃদরোগ চিকিৎসা ও প্রতিরোধ কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ অক্টোবর) সকালে ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের ডাইরেক্টর ও চিফ কনসালটেন্ট অধ্যাপক ডা. মো. রইছ উদ্দিন।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান। তিনি বলেন, “হৃদরোগ এখন দেশের অন্যতম স্বাস্থ্যঝুঁকি ও মৃত্যুহারের প্রধান কারণ। তাই হৃদরোগ প্রতিরোধ, প্রাথমিক শনাক্তকরণ ও উন্নত চিকিৎসা সেবায় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি আরও জানান, “উত্তরাঞ্চলের জনগণের সেবায় ফাউন্ডেশনকে আরও শক্তিশালী করতে বার্ষিক সরকারি অনুদান এক কোটি থেকে দুই কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এর ৪০ শতাংশ ব্যয় হবে বেতনে, আর ৬০ শতাংশ ব্যয় হবে সরঞ্জাম ও চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়নে।”

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে সচিব বলেন, “আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষিত জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্স সংযোজন করা হবে, যাতে জরুরি কার্ডিয়াক সেবা আরও দ্রুত ও কার্যকর হয়।”

ফাউন্ডেশনের উন্নয়নে জনসম্পৃক্ততার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে যাদের অবদান রয়েছে, তাদের নামে ইউনিট করা যেতে পারে। একই সঙ্গে আজীবন সদস্য সংখ্যা ও চাঁদার পরিমাণ বাড়াতে হবে, যাতে সেবার পরিধি আরও বিস্তৃত হয়। আমি নিজেও ফাউন্ডেশনের সদস্য হতে আগ্রহী।”

বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মো. হাবিবুর রহমান এবং সিভিল সার্জন ডা. এসআইএম রাজিউল করিম। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী সদস্য এনামুল হক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফাউন্ডেশনের (ভারপ্রাপ্ত) সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী, এবং বক্তব্য দেন নির্বাহী সদস্য ডা. মো. ওয়াসিম হোসেন।

সভায় বক্তারা জানান, সরকারের সহযোগিতায় ১৯৭৮ সালে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮৪ সালে রাজশাহীতে এর কার্যক্রম শুরু হয়, এবং ১৯৯২ সালে বিশিষ্ট সমাজসেবক ডা. মো. আব্দুল খালেক ৩১.৪৫ শতক জমি দান করে পূর্ণাঙ্গ হৃদরোগ হাসপাতাল নির্মাণের ভিত্তি স্থাপন করেন। ২০১৮ সালে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের আওতায় পাঁচতলা আধুনিক ভবন নির্মিত হয়। বর্তমানে এখানে কার্ডিওলজি, কার্ডিয়াক সার্জারি, আইসিইউ, সিসিইউসহ উন্নত চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, শিগগিরই হাসপাতালটি আরও সম্প্রসারিত হবে এবং রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের কোটি মানুষের জন্য হৃদরোগ চিকিৎসা আরও সহজলভ্য ও কার্যকর হবে।