সেন্ট মার্টিনে ‘ইন্টারন্যাশনাল কোস্টাল ক্লিনআপ ২০২৫’, ইউনিলিভার ও কেওক্রাডং বাংলাদেশে ১,৮৫০ কেজি সমুদ্র বর্জ্য অপসারণ
- আপডেট সময় : ০৩:১৮:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৩৩ বার পড়া হয়েছে

সেন্ট মার্টিনে ‘ইন্টারন্যাশনাল কোস্টাল ক্লিনআপ ২০২৫’, ইউনিলিভার ও কেওক্রাডং বাংলাদেশে ১,৮৫০ কেজি সমুদ্র বর্জ্য অপসারণ
৫০০ স্বেচ্ছাসেবকের অংশগ্রহণে দায়িত্বশীল পর্যটন ও পরিবেশ সচেতনতায় নতুন বার্তা
ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড (ইউবিএল) ও কেওক্রাডং বাংলাদেশ (কেবি)-এর যৌথ উদ্যোগে দেশের অন্যতম পরিবেশ–সংবেদনশীল অঞ্চল সেন্ট মার্টিন দ্বীপে আয়োজিত হলো ‘ইন্টারন্যাশনাল কোস্টাল ক্লিনআপ ২০২৫’। সমুদ্রের বর্জ্য অপসারণ, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং স্থানীয়দের পরিবেশ সচেতনতায় অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করাই ছিল এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
এ অভিযানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় সম্প্রদায় থেকে আসা ৫০০ স্বেচ্ছাসেবক সেন্ট মার্টিনের সৈকত থেকে মোট ১,৮৫০ কিলোগ্রাম সমুদ্র বর্জ্য সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে বর্জ্যগুলো মূল ভূখণ্ডে এনে পরিবেশবান্ধব উপায়ে অপসারণ করা হয়। খাদ্যের মোড়ক, প্লাস্টিক বোতল, প্লাস্টিক ব্যাগ, একবার ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী এবং পরিত্যক্ত মাছ ধরার জালসহ নানান ধরনের বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়।
আয়োজকরা জানান, পর্যটন মৌসুমের প্রথম সপ্তাহান্তকে কেন্দ্র করে কৌশলগতভাবে এ পরিচ্ছন্নতা অভিযান আয়োজন করা হয়েছে, যাতে পর্যটক ও স্থানীয়দের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়ানো যায়। স্বেচ্ছাসেবকেরা সৈকতে উপস্থিত স্থায়ী ও অস্থায়ী দর্শনার্থীদের দায়িত্বশীল আচরণে উদ্বুদ্ধ করতে সচেতনতামূলক সেশন পরিচালনা করেন। প্লাস্টিক বর্জ্য সঠিকভাবে ফেলা ও দীর্ঘমেয়াদি আচরণগত পরিবর্তনও ছিল তাদের লক্ষ্য।
গত ১৫ বছর ধরে সেন্ট মার্টিনে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসা কেওক্রাডং বাংলাদেশ ওশান কনসারভেন্সির দেশীয় সমন্বয়কারী হিসেবে বৈশ্বিক মেরিন ডেব্রিস ডাটাবেসে নিয়মিত তথ্য যুক্ত করছে। কক্সবাজার–টেকনাফ উপদ্বীপ ও সেন্ট মার্টিন দ্বীপে তাদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা দেশের সামুদ্রিক দূষণ বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অগ্রণী ভূমিকা রেখে আসা ইউনিলিভার বাংলাদেশ দেশে বৃহত্তম প্লাস্টিক ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি ভার্জিন প্লাস্টিক কমানো, রিফিল ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য সমাধান উন্নয়ন এবং ভোক্তা–সচেতনতায় সমন্বিত উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে।
ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স, পার্টনারশিপস অ্যান্ড কমিউনিকেশন্স পরিচালক শামিমা আক্তার বলেন, “উচ্চমানের পণ্য ভোক্তার কাছে পৌঁছে দিতে প্লাস্টিক প্যাকেজিং অপরিহার্য হলেও এর পরিবেশগত প্রভাব কমাতে দায়িত্বশীল নকশা ও পুনর্ব্যবহৃত প্লাস্টিক ব্যবহারের বিকল্প নেই। বাজারে যত প্লাস্টিক দিচ্ছি, তার চেয়ে বেশি প্লাস্টিক পরিবেশ থেকে অপসারণে আমরা কাজ করছি। সেন্ট মার্টিনে এই উদ্যোগ আমাদের প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন।”
ওশান কনসারভেন্সির ইন্টারন্যাশনাল কোস্টাল ক্লিনআপের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মুনতাসির মামুন বলেন, “বাংলাদেশ বিশ্বের বৃহত্তম বদ্বীপ এবং সেন্ট মার্টিন দেশের জাতীয় সম্পদগুলোর একটি। ক্রমবর্ধমান চাপ এই দ্বীপের ইকোসিস্টেমের জন্য হুমকি তৈরি করেছে। ইউনিলিভার ও আমাদের যৌথ উদ্যোগ পরিবেশ রক্ষার প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করবে।”




















