এনবিআর-আত্মা প্রাক-বাজেট বৈঠক: তামাক কর বাড়ালে রাজস্ব বাড়বে, কমবে অকাল মৃত্যু
- আপডেট সময় : ০৯:৫৮:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ২২১ বার পড়া হয়েছে

এনবিআর-আত্মা প্রাক-বাজেট বৈঠক: তামাক কর বাড়ালে রাজস্ব বাড়বে, কমবে অকাল মৃত্যু
সিগারেটের দাম পুনর্নির্ধারণ ও সুনির্দিষ্ট কর আরোপের প্রস্তাব; বছরে অতিরিক্ত ৪৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্বের সম্ভাবনা
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা)-এর প্রাক-বাজেট আলোচনায় তামাকপণ্যের করকাঠামো সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বক্তারা বলেছেন, সিগারেটের দাম বৃদ্ধি ও কার্যকর করনীতি বাস্তবায়ন করা গেলে একদিকে যেমন সরকারের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে অকাল মৃত্যু কমানো সম্ভব হবে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ প্রাক-বাজেট আলোচনায় আত্মা’র পক্ষ থেকে তামাক কর কাঠামোয় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
প্রস্তাবনায় বলা হয়, সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তর একত্রিত করে প্রতি ১০ শলাকার খুচরা মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ, উচ্চ স্তরের জন্য ১৫০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের জন্য ২০০ টাকা বা তার বেশি নির্ধারণ করা উচিত। পাশাপাশি বিদ্যমান ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্কের সঙ্গে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে অতিরিক্ত ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপের সুপারিশ করা হয়।
আত্মা’র মতে, এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হলে চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় সম্ভব হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে প্রায় চার লাখ অকাল মৃত্যু প্রতিরোধ করা যাবে।
প্রাক-বাজেট আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, কর ও মূল্য বৃদ্ধি করলে সিগারেটের ব্যবহার কমে—এটি ইতোমধ্যেই প্রমাণিত। তাই ভবিষ্যতেও এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
আলোচনায় আরও জানানো হয়, কার্যকর মূল্য বৃদ্ধির অভাবে দেশে তামাকপণ্যের প্রকৃত দাম তুলনামূলকভাবে কমে যাচ্ছে, ফলে তা সহজলভ্য হয়ে পড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৫ সালের তথ্যানুযায়ী, সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া সিগারেটের দামের দিক থেকে বাংলাদেশ এখনো দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশের নিচে অবস্থান করছে।
এছাড়া তামাকপণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে সুনির্দিষ্ট কর ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখে বলে উল্লেখ করা হয়। বিশ্বের অনেক দেশ ইতোমধ্যেই অ্যাডভেলরেম করের পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতি চালু করেছে, যা রাজস্ব আহরণ সহজ করে এবং বাজারে তামাকপণ্যের ন্যূনতম মূল্য নিশ্চিত করে।
প্রস্তাবনায় বিড়ির ক্ষেত্রেও অভিন্ন মূল্য নির্ধারণ এবং করহার বৃদ্ধি করার কথা বলা হয়। পাশাপাশি জর্দা ও গুলের ওপর উচ্চ কর আরোপের সুপারিশ করা হয়।
সভায় তুলে ধরা তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন। তামাকজনিত কারণে প্রতি বছর প্রায় দুই লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে। অন্যদিকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তামাক ব্যবহারের ফলে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা এ খাত থেকে অর্জিত রাজস্বের তুলনায় দ্বিগুণ।
আলোচনায় আত্মা’র প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।




















