নাটোর সদর হাসপাতালে শিশুর চিকিৎসা করাতে এসে ধ/র্ষ/ণে/র শিকার মা, ৩ সুইপার আটক
- আপডেট সময় : ০৩:৫৩:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬ ৩০৫ বার পড়া হয়েছে

নাটোর সদর হাসপাতালে শিশুর চিকিৎসা করাতে এসে ধ/র্ষ/ণে/র শিকার মা, ৩ সুইপার আটক
নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে অসুস্থ শিশুকন্যার চিকিৎসা করাতে এসে এক তরুণী মা (১৮) ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতালের তিন আউটসোর্সিং সুইপারকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (৭ জুন) রাতে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের ৬ষ্ঠ তলায় ঘটনাটি ঘটে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রথমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে বলেও অভিযোগ উঠে। পরে মঙ্গলবার (৯ জুন) ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে নাটোর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ ব্যবস্থা নেয়।
অভিযোগে হাসপাতালের তিন আউটসোর্সিং কর্মী অমিত (২৩), অনিল (২৪) ও প্রাঙ্গনকে (২৩) আসামি করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই নাটোর সদর থানা পুলিশ তাদের আটক করে।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও থানায় দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নাটোর সদর উপজেলার বাসিন্দা ওই নারী তার দুই বছর বয়সী অসুস্থ কন্যাকে গত ৫ জুন নাটোর সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। তার স্বামী পেশায় অটোরিকশাচালক হওয়ায় তিনি একাই মেয়ের দেখাশোনা করছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, রোববার রাত ১০টার দিকে অভিযুক্ত অমিত ওষুধ দেওয়ার কথা বলে তাকে ওয়ার্ড থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে হাসপাতালের ৬ষ্ঠ তলার সিঁড়িঘরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় অপর দুই অভিযুক্ত অনিল ও প্রাঙ্গন ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে সেই ভিডিও দেখিয়ে তারা ভুক্তভোগীকে ব্ল্যাকমেইল করে এবং তাদের সঙ্গেও শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ ও হুমকি দেয়।
এদিকে, শিশু ওয়ার্ডে দীর্ঘ সময় মাকে না পেয়ে শিশুটি কান্নাকাটি শুরু করলে বিষয়টি দায়িত্বরত নার্স ও ওয়ার্ডবয়দের নজরে আসে। পরে হাসপাতালের আনসার সদস্য আল আমিন ও সালাউদ্দিন সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ৬ষ্ঠ তলার সিঁড়িতে তাদের অবস্থান শনাক্ত করেন। এরপর হাসপাতালের অন্যান্য কর্মচারীদের সহযোগিতায় ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের হাতেনাতে আটক করা হয়।
ভুক্তভোগীর স্বামী জানান, পরদিন সকালে হাসপাতালে এসে স্ত্রী ও সন্তানকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পুরো ঘটনা জানতে পারেন।
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।















