ঢাকা ১১:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাপাহারে অবৈধ ‘আম তোলা’ চক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার গোদাগাড়ীতে এনসিপির ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ ও সমাবেশ পঞ্চগড়ে একই দিনে সাপের কামড়ে আহত দুই; একজনকে দেওয়া হয়েছে এন্টিভেনাম, অন্যজন পর্যবেক্ষণে মান্দায় জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি ২০০ পরিবার; প্রশাসনের উদ্যোগে শুকনো খাবার বিতরণ মেধাবীদের যথাযথ মূল্যায়নে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব: ভূমিমন্ত্রী পঞ্চগড়ে গরু নিয়ে নদী পার হতে গিয়ে পানিতে ডুবে বৃদ্ধের মৃত্যু কেশরহাটে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল; হুমকিতে দেশীয় মাছের অস্তিত্ব পুঠিয়ার রাজবাড়ি-মন্দিরে মুগ্ধ মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত, বানেশ্বর থেকে কিনলেন প্রায় ১৯৫ কেজি আম নলডাঙ্গায় পুকুরে ডুবে ৯ বছরের শিশু ফাতেমা’র মৃত্যু ঠাকুরগাঁওয়ে বুকসমান পানি পেরিয়ে সন্তানের কাঁধে মায়ের লাশ, সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার ঝড়

রামেকে রোগীর মৃত্যুর পর নার্স ও পুলিশ কনস্টেবলের হাতাহাতি

এম এম মামুন:
  • আপডেট সময় : ০৯:২৬:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৩৭ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রামেকে রোগীর মৃত্যুর পর নার্স ও পুলিশ কনস্টেবলের হাতাহাতি

চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে উত্তেজনা, পরে সমঝোতা

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এক সিনিয়র স্টাফ নার্স ও পুলিশের এক কনস্টেবলের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের অর্থোপেডিক্স ইউনিট-২-এর ডেন্টাল বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, নগরীর শাহমখদুম থানায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল আমিনুল ইসলাম তার মা নূরেসা বেগমকে দাঁতের সমস্যাজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি করান। তবে চিকিৎসা শুরুর আগেই তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কনস্টেবল আমিনুল চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে কর্তব্যরত স্টাফদের সঙ্গে তর্কে জড়ান, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

কনস্টেবল আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “আমার মায়ের চোয়াল বসে গিয়ে মুখ বাঁকা হয়ে গিয়েছিল। জরুরি বিভাগ থেকে কয়েক জায়গায় ঘুরানোর পরও কেউ দায়িত্ব নেয়নি। আমি অনুরোধ করলেও কেউ চিকিৎসা দিতে রাজি হয়নি। এ নিয়েই কথা কাটাকাটি ও পরে হাতাহাতি হয়।”

তবে অভিযুক্ত সিনিয়র স্টাফ নার্স (ব্রাদার) রাকিব আহম্মেদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি গিয়ে দেখি রোগীর কোনো পালস নেই, অর্থাৎ তিনি আগেই মারা গেছেন। আমি বিষয়টি জানাতে গেলে উল্টো কনস্টেবল আমিনুল আমাকে মারধর করেন।”

ঘটনার সময় অন্যান্য নার্স ও কর্মীরা ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন এবং হাসপাতালের পুলিশ বক্সে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কনস্টেবল আমিনুলকে নিয়ে যান।

পরবর্তীতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও হাসপাতাল পরিচালকের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে মীমাংসা করা হয়। মধ্যরাতে কনস্টেবল আমিনুল তার মায়ের মরদেহ নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রথমে কনস্টেবলের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা ভাবলেও পরে তার দুঃখ প্রকাশের পর বিষয়টি আপাতত মীমাংসা করা হয়। তবে এ ঘটনায় পরদিন মঙ্গলবার নার্স রাকিব আহম্মেদ রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, “মায়ের মৃত্যুর পর কনস্টেবল আমিনুল উত্তেজিত হয়ে হাতাহাতি করেছেন, যা ঠিক হয়নি। এখানে উভয় পক্ষেরই কিছুটা দায় রয়েছে। যেহেতু তিনি পুলিশ সদস্য, তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় হাসপাতাল ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রামেকে রোগীর মৃত্যুর পর নার্স ও পুলিশ কনস্টেবলের হাতাহাতি

আপডেট সময় : ০৯:২৬:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

রামেকে রোগীর মৃত্যুর পর নার্স ও পুলিশ কনস্টেবলের হাতাহাতি

চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে উত্তেজনা, পরে সমঝোতা

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এক সিনিয়র স্টাফ নার্স ও পুলিশের এক কনস্টেবলের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের অর্থোপেডিক্স ইউনিট-২-এর ডেন্টাল বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, নগরীর শাহমখদুম থানায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল আমিনুল ইসলাম তার মা নূরেসা বেগমকে দাঁতের সমস্যাজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি করান। তবে চিকিৎসা শুরুর আগেই তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কনস্টেবল আমিনুল চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে কর্তব্যরত স্টাফদের সঙ্গে তর্কে জড়ান, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

কনস্টেবল আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “আমার মায়ের চোয়াল বসে গিয়ে মুখ বাঁকা হয়ে গিয়েছিল। জরুরি বিভাগ থেকে কয়েক জায়গায় ঘুরানোর পরও কেউ দায়িত্ব নেয়নি। আমি অনুরোধ করলেও কেউ চিকিৎসা দিতে রাজি হয়নি। এ নিয়েই কথা কাটাকাটি ও পরে হাতাহাতি হয়।”

তবে অভিযুক্ত সিনিয়র স্টাফ নার্স (ব্রাদার) রাকিব আহম্মেদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি গিয়ে দেখি রোগীর কোনো পালস নেই, অর্থাৎ তিনি আগেই মারা গেছেন। আমি বিষয়টি জানাতে গেলে উল্টো কনস্টেবল আমিনুল আমাকে মারধর করেন।”

ঘটনার সময় অন্যান্য নার্স ও কর্মীরা ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন এবং হাসপাতালের পুলিশ বক্সে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কনস্টেবল আমিনুলকে নিয়ে যান।

পরবর্তীতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও হাসপাতাল পরিচালকের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে মীমাংসা করা হয়। মধ্যরাতে কনস্টেবল আমিনুল তার মায়ের মরদেহ নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রথমে কনস্টেবলের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা ভাবলেও পরে তার দুঃখ প্রকাশের পর বিষয়টি আপাতত মীমাংসা করা হয়। তবে এ ঘটনায় পরদিন মঙ্গলবার নার্স রাকিব আহম্মেদ রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, “মায়ের মৃত্যুর পর কনস্টেবল আমিনুল উত্তেজিত হয়ে হাতাহাতি করেছেন, যা ঠিক হয়নি। এখানে উভয় পক্ষেরই কিছুটা দায় রয়েছে। যেহেতু তিনি পুলিশ সদস্য, তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় হাসপাতাল ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।