কেশরহাটে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল; হুমকিতে দেশীয় মাছের অস্তিত্ব
- আপডেট সময় : ০৮:১৭:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ ৪৯ বার পড়া হয়েছে

কেশরহাটে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল; হুমকিতে দেশীয় মাছের অস্তিত্ব
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাটে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ কারেন্ট ও চায়না দুয়ারি জাল। এসব জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে মা মাছ ও পোনা মাছ শিকার করায় বিলুপ্তির মুখে পড়ছে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। ফলে প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার (১১ জুলাই) সরেজমিনে কেশরহাট বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই কারেন্ট জালের জমজমাট বেচাকেনা চলছে। বর্ষা মৌসুমে নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ে দেশীয় মাছের প্রজননকালকে কেন্দ্র করে অসাধু ব্যবসায়ী ও জেলেরা এসব নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে ডিমওয়ালা মা মাছ ও পোনা মাছ নির্বিচারে নিধন করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কেশরহাটে প্রকাশ্যেই কারেন্ট ও চায়না দুয়ারি জাল বিক্রি হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও আশপাশের অঞ্চল থেকে জেলেরা এসব জাল কিনতে আসছেন। পরে এসব জাল ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ দেশীয় মাছ আহরণ করা হচ্ছে, যা জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজশাহী জেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দেশীয় মাছ সংরক্ষণের লক্ষ্যে সরকার ২০০২ সালের মৎস্য সংরক্ষণ ও সুরক্ষা আইন অনুযায়ী কারেন্ট জালের উৎপাদন, বুনন, আমদানি, বাজারজাত, সংরক্ষণ, বহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। এছাড়া মৎস্য সংরক্ষণ বিধিমালায় ৪ দশমিক ৫ সেন্টিমিটারের কম ফাঁসের জাল ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই কিছু ব্যবসায়ী বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল মজুত করেন। পরে সেগুলো কেশরহাটসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করা হয়। প্রশাসনের নজর এড়াতে অনেক ব্যবসায়ী গোপনেও এসব জাল বিক্রি করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জাল ব্যবসায়ী জানান, কেশরহাট এ অঞ্চলের অন্যতম বড় কারেন্ট জালের পাইকারি বাজার। এখান থেকে লাখ লাখ টাকার নিষিদ্ধ জাল রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলাসহ আশপাশের জেলায় সরবরাহ করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারে নিষিদ্ধ জালের অবাধ বেচাকেনা চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি বা অভিযান চোখে পড়ছে না। এতে অসাধু ব্যবসায়ীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন।
এ বিষয়ে মোহনপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. বেনজির আহমেদ বলেন, কেশরহাটে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল বিক্রির বিষয়টি আমার জানা ছিল না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোবায়দা সুলতানা বলেন, কোথাও নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল বিক্রির তথ্য পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



















