ন্যায়বিচারের বার্তা নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে লিগ্যাল এইড দিবস উদ্যাপন
- আপডেট সময় : ০৯:৫০:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ৬৬ বার পড়া হয়েছে

ন্যায়বিচারের বার্তা নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে লিগ্যাল এইড দিবস উদ্যাপন
র্যালি, মেলা, বৃক্ষরোপণ ও আলোচনা সভায় দরিদ্রের আইনি সহায়তা জোরদারের আহ্বান
‘সরকারি খরচে বিরোধ শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির উদ্যোগে ফিতা কাটা ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কমিটির চেয়ারম্যান ও জেলা ও দায়রা জজ জামাল হোসেন।
উদ্বোধনের পর জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়। দিবসটি উপলক্ষে লিগ্যাল এইড মেলা, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, আলোচনা সভা এবং সেরা প্যানেল আইনজীবীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান ও জেলা ও দায়রা জজ জামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফর রহমান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আলী এবং লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিভিল জজ মজনু মিয়া। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিভিল জজ মো. মাহামুদুল হোসেন মুন্না।
বিভিন্ন ক্যাটাগরি ও নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে এ বছর সেরা প্যানেল আইনজীবী হিসেবে নির্বাচিত হন ললিত কুমার রায় ও মাসুদা পারভিন ইভা। পরে তাদের সম্মাননা স্মারক ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানস্থল জজ আদালত চত্বরে চারটি স্টল স্থাপন করা হয়, যেখানে লিগ্যাল এইড সংক্রান্ত তথ্য, সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরে ঠাকুরগাঁও লিগ্যাল এইড অফিসে মোট ৮১৪টি আবেদন জমা পড়ে, যার মধ্যে ৭১৪টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এ সময়ে ৩ হাজার ৪৩৬ জন উপকারভোগী সেবা পেয়েছেন। মামলা দায়ের করা হয়েছে ২২৫টি এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে ৪৪ লাখ ৪৯ হাজার টাকা আদায় হয়েছে। এছাড়া ৭০৩ জন ব্যক্তি বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ গ্রহণ করেছেন। একই সময়ে আদালতে বিচারাধীন ১৯১টি মামলা আপসের মাধ্যমে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং ৮টি ক্ষেত্রে সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে।
সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে জেলার পাঁচটি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে লিগ্যাল এইড কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটিতে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আইনি সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সভা ও মতবিনিময় কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে।
লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সহকারী জজ মজনু মিয়া বলেন, “আর্থিক সংকটের কারণে কেউ যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। সরকারিভাবে যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য বিনামূল্যে আইনজীবী নিয়োগ ও মামলা পরিচালনার ব্যবস্থা রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (ADR) পদ্ধতির মাধ্যমে দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ সমাধান নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, “লিগ্যাল এইড কার্যক্রম দরিদ্র ও অসহায় মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ সেবার পরিধি আরও বাড়াতে জেলা প্রশাসন কাজ করে যাবে।”
সভাপতির বক্তব্যে জেলা ও দায়রা জজ জামাল হোসেন বলেন, “অর্থের অভাবে কেউ যেন বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়—এ লক্ষ্যেই লিগ্যাল এইড কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রত্যন্ত এলাকাতেও এই সেবা পৌঁছে দিতে আমরা কাজ করছি।”



















