ঢাকা ০২:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নলডাঙ্গায় গভীর রাতে বসতবাড়িতে আ/গু/ন, পু/ড়ে মারা গেল ৬ ছাগলের বাচ্চা মান্দায় পাচারকালে ৪৫ বস্তা রাসায়নিক সার আটক রাজশাহীতে পত্রিকা অফিসে আগুন, পুড়ে গেছে ১৬ বছরের সংরক্ষিত কপি রাজশাহী নগরীতে হাম-রুবেলা টিকা পাবে ৫৪ হাজার ১৪৪ শিশু, শুরু ২০ এপ্রিল রাজশাহী মেডিকেলে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ২৪ শিশু ভর্তি নাটোরে সাবেক বিএনপি নেতার ওপর হা/ম/লা, অভিযুক্তদের বিচার দাবি রাজশাহীতে চিকিৎসকদের অতিরিক্ত ফি নিয়ন্ত্রণসহ ৬ দফা দাবিতে স্মারকলিপি রাজশাহীতে শিশু আদিব হ/ত্যা মা’মলার আসামিদের গ্রে’প্তারের দাবিতে মানববন্ধন আনসার খেলোয়াড়দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ: অভিযুক্ত রায়হান, কোরবান ও নির্মল জনবল সংকটে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে অচল, বন্ধ ৪৩ ট্রেন ও ৬৭ স্টেশন

সভাপতির কব্জায় মাদ্রাসা সিন্ডিকেট; জমি দেখিয়ে নিয়োগ বানিজ্য!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩০:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৯৬ বার পড়া হয়েছে

গুরুদাসপুরের অভিযুক্ত মাদ্রাসার সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সভাপতির কব্জায় মাদ্রাসা সিন্ডিকেট; জমি দেখিয়ে নিয়োগ বানিজ্য!

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধিঃ
সভাপতির কব্জায় মাদ্রাসা সিন্ডিকেট; জমি দেখিয়ে নিয়োগ বানিজ্য! নাটোরের গুরুদাসপুরের নাজিরপুর ইউনিয়নের গোপীনাথপুর দাখিল মাদ্রসায় জমি ও নগদ অর্থের বিনিময়ে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন মিনিএমপি নামে পরিচিত পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম। নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্ন কর্মির কাছ থেকে ৩ টি দলিলমূলে ২৩ শতক জমি মাদ্রাসার নামে লিখে নিয়ে নিয়োগ চিঠি ও যোগদান করানো হয়। আয়া পদেও সাড়ে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়। লাইব্রেরীয়ান শুন্য পদে ব্যাকডেটে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা সভাপতির।

মাদ্রাসা ও এলাকার সুত্র জানা যায়,গোপীনাথপুর দাখিল মাদ্রাসাকে পুজি করে ২৩ শতক জমি ২০ লাখ টাকা নিয়োগ বানিজ্য করেছে সভাপতি নজরুল। উপর মহলের কথা বলে কৌশলে এ সমস্ত নিয়োগ বানিজ্যসহ নাজিরপুর ইউনিয়নের অনান্য শিক্ষা প্রতিষঠানেও কৌশলে বানিজ্য করে যাচ্ছেন বলে জানা যায়। এছাড়াও আশ্রায়ণ প্রকল্পের বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে নগদ অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে সভাপতি নজরুলের বিরুদ্ধে। গত ৮ জুলাই দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় চতুর্থ শ্রেণীর ৩ টি,পদের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল।১জন নিরাপত্তা কর্মি, ১ জন্য পরিচ্ছন্ন কর্মি ও ১ জন্য আয়া উল্লেখ ছিল। প্রতিটি পদের জন্য একাধিক আবেদনও করেছিলো আগ্রহীরা।

সভাপতি নজরুল নিয়ম না মেনে গোপনে কৌশলে গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত খালেকের ছেলে খায়রুজ্জামানকে সোয়া ৮ শতক জমিসহ ৪ লাখ টাকা নিয়ে নিরাপত্তা কর্মি নিয়োগ দেওয়া হয়।পরিচ্ছন্ন কর্মি একই গ্রামের মৃত আমিরের ছেলে মো.নূরে আলমকে ১৫ শতক জমি ও নগদ সাড়ে ৩ লাখ টাকা নিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়।গুরুদাসপুর সাব রেজিস্ট্রার অফিসে গত ১৭/৮/২২.ও ২৩/৮/২২.তিনটি দলিলের মাধ্যমে জমিগুলো মাদ্রাসার নামে লিখে নিয়ে নিয়োগ চিঠি ও যোগদান দেওয়া হয় গত ২২ আগষ্ট। আয়া পদে ঐ গ্রামেরই মো. আহসান হাবীবের স্ত্রী লীমাকে সারে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ চিঠি ও যোগদান দেওয়া হয়।লাইব্রেরীয়ান শুন্য পদ রয়েছে।সরকারি নির্দেশনা বন্ধ থাকায়, ব্যাকডেটে নিয়োগ নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন সভাপতি।

নিয়োগপ্রাপ্ত খায়রুজ্জামান ও নূর আলম বলেন, সভাপতির কথামতই মাদ্রাসায় জমি রেজিষ্ট্রারী করে দেওয়ার পরে নিয়োগ চিঠি ও যোগদান হয়েছে বলে জানান তারা। মাদ্রাসার সুপার মোঃ আব্দুল কুদ্দুস বলেন, মাদ্রাসার পাশে নুরে আলম ও খায়রুজ্জামানের জমি ছিল তা মাদ্রাসার নামে লিখে দিয়েছে। আর কিছুই তিনি বলতে পারবেন না, কারন সভাপতির নিষেধ রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান লাইব্রেরীয়ান শুন্য পদ রয়েছে। সভাপতি ব্যাকডেটে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
মাদ্রাসার সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, নিয়মানুসারে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সুতরাং এ ব্যপারে কোন কথা বলবেন না বলে ফোন কেটে দেন তিনি। পরবর্তীতে ফোন দিলে রাগান্বিত হয়ে অশ্লীল ভাষায় ভয়ভীতি ও হুমকি দেন তিনি।
নাজিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আইয়ুব আলী বলেন, জমি এবং নগদ টাকা নিয়ে মাদ্রাসায় চাকুরি দেওয়ার কথা শুনেছি। অতীতেও এই নজরুলের বিরুদ্ধে এধরণের অনেক অভিযোগ রয়েছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অনেক মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। একাধিক মামলাও রয়েছে নজরুলের বিরুদ্ধে। এ ধরনের ঠকবাজি মানুষ কিভাবে যে মাদ্রাসার সভাপতি হয়, এসব কথা বলে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, গোপীনাথপুর দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি মাদ্রাসার বাউন্ডারি করার জন্য জমি কেনার কথা বলেছিলেন।জমি বা টাকার বিনিময়ে কোন নিয়োগ হতে পারে না। জমি বা টাকার বিনিময়ে নিয়োগ, এব্যপারে কিছুই জানেন না তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সভাপতির কব্জায় মাদ্রাসা সিন্ডিকেট; জমি দেখিয়ে নিয়োগ বানিজ্য!

আপডেট সময় : ০৪:৩০:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২

সভাপতির কব্জায় মাদ্রাসা সিন্ডিকেট; জমি দেখিয়ে নিয়োগ বানিজ্য!

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধিঃ
সভাপতির কব্জায় মাদ্রাসা সিন্ডিকেট; জমি দেখিয়ে নিয়োগ বানিজ্য! নাটোরের গুরুদাসপুরের নাজিরপুর ইউনিয়নের গোপীনাথপুর দাখিল মাদ্রসায় জমি ও নগদ অর্থের বিনিময়ে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন মিনিএমপি নামে পরিচিত পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম। নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্ন কর্মির কাছ থেকে ৩ টি দলিলমূলে ২৩ শতক জমি মাদ্রাসার নামে লিখে নিয়ে নিয়োগ চিঠি ও যোগদান করানো হয়। আয়া পদেও সাড়ে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়। লাইব্রেরীয়ান শুন্য পদে ব্যাকডেটে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা সভাপতির।

মাদ্রাসা ও এলাকার সুত্র জানা যায়,গোপীনাথপুর দাখিল মাদ্রাসাকে পুজি করে ২৩ শতক জমি ২০ লাখ টাকা নিয়োগ বানিজ্য করেছে সভাপতি নজরুল। উপর মহলের কথা বলে কৌশলে এ সমস্ত নিয়োগ বানিজ্যসহ নাজিরপুর ইউনিয়নের অনান্য শিক্ষা প্রতিষঠানেও কৌশলে বানিজ্য করে যাচ্ছেন বলে জানা যায়। এছাড়াও আশ্রায়ণ প্রকল্পের বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে নগদ অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে সভাপতি নজরুলের বিরুদ্ধে। গত ৮ জুলাই দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় চতুর্থ শ্রেণীর ৩ টি,পদের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল।১জন নিরাপত্তা কর্মি, ১ জন্য পরিচ্ছন্ন কর্মি ও ১ জন্য আয়া উল্লেখ ছিল। প্রতিটি পদের জন্য একাধিক আবেদনও করেছিলো আগ্রহীরা।

সভাপতি নজরুল নিয়ম না মেনে গোপনে কৌশলে গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত খালেকের ছেলে খায়রুজ্জামানকে সোয়া ৮ শতক জমিসহ ৪ লাখ টাকা নিয়ে নিরাপত্তা কর্মি নিয়োগ দেওয়া হয়।পরিচ্ছন্ন কর্মি একই গ্রামের মৃত আমিরের ছেলে মো.নূরে আলমকে ১৫ শতক জমি ও নগদ সাড়ে ৩ লাখ টাকা নিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়।গুরুদাসপুর সাব রেজিস্ট্রার অফিসে গত ১৭/৮/২২.ও ২৩/৮/২২.তিনটি দলিলের মাধ্যমে জমিগুলো মাদ্রাসার নামে লিখে নিয়ে নিয়োগ চিঠি ও যোগদান দেওয়া হয় গত ২২ আগষ্ট। আয়া পদে ঐ গ্রামেরই মো. আহসান হাবীবের স্ত্রী লীমাকে সারে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ চিঠি ও যোগদান দেওয়া হয়।লাইব্রেরীয়ান শুন্য পদ রয়েছে।সরকারি নির্দেশনা বন্ধ থাকায়, ব্যাকডেটে নিয়োগ নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন সভাপতি।

নিয়োগপ্রাপ্ত খায়রুজ্জামান ও নূর আলম বলেন, সভাপতির কথামতই মাদ্রাসায় জমি রেজিষ্ট্রারী করে দেওয়ার পরে নিয়োগ চিঠি ও যোগদান হয়েছে বলে জানান তারা। মাদ্রাসার সুপার মোঃ আব্দুল কুদ্দুস বলেন, মাদ্রাসার পাশে নুরে আলম ও খায়রুজ্জামানের জমি ছিল তা মাদ্রাসার নামে লিখে দিয়েছে। আর কিছুই তিনি বলতে পারবেন না, কারন সভাপতির নিষেধ রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান লাইব্রেরীয়ান শুন্য পদ রয়েছে। সভাপতি ব্যাকডেটে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
মাদ্রাসার সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, নিয়মানুসারে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সুতরাং এ ব্যপারে কোন কথা বলবেন না বলে ফোন কেটে দেন তিনি। পরবর্তীতে ফোন দিলে রাগান্বিত হয়ে অশ্লীল ভাষায় ভয়ভীতি ও হুমকি দেন তিনি।
নাজিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আইয়ুব আলী বলেন, জমি এবং নগদ টাকা নিয়ে মাদ্রাসায় চাকুরি দেওয়ার কথা শুনেছি। অতীতেও এই নজরুলের বিরুদ্ধে এধরণের অনেক অভিযোগ রয়েছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অনেক মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। একাধিক মামলাও রয়েছে নজরুলের বিরুদ্ধে। এ ধরনের ঠকবাজি মানুষ কিভাবে যে মাদ্রাসার সভাপতি হয়, এসব কথা বলে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, গোপীনাথপুর দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি মাদ্রাসার বাউন্ডারি করার জন্য জমি কেনার কথা বলেছিলেন।জমি বা টাকার বিনিময়ে কোন নিয়োগ হতে পারে না। জমি বা টাকার বিনিময়ে নিয়োগ, এব্যপারে কিছুই জানেন না তিনি।