ঢাকা ০৫:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেষ দিনে জমে উঠেছে রাকসু নির্বাচনের প্রচারণা, আচরণবিধি লঙ্ঘনে নাস্তা বাজেয়াপ্ত

এম এম মামুন, রাজশাহীঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৮:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫ ২০৭ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শেষ দিনে জমে উঠেছে রাকসু নির্বাচনের প্রচারণা, আচরণবিধি লঙ্ঘনে নাস্তা বাজেয়াপ্ত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার দশম এবং শেষ দিনের মতো চলছে প্রচারণা। সকাল থেকে ক্যাম্পাসজুড়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। হাতে লিফলেট, মুখে নানা প্রতিশ্রুতি-শেষ মুহূর্তের ভোটার টানার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সবাই।

দেশের বৃহত্তম এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২৯ হাজার। প্রার্থীদের দাবি, এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হলেও তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন।

এদিকে রাকসু, হল সংসদ ও সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে শিবির সমর্থিত প্যানেল ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’-এর ২০০ প্যাকেট নাস্তা বাজেয়াপ্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার রাতে বেগম খালেদা জিয়া হলের সামনে থেকে এসব খাবার জব্দ করা হয়।

তবে আচরণবিধিতে নাস্তা বিতরণ বা ব্যয়ের সীমা বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই। এ কারণে ঘটনাটিকে বিতর্কিত বলে দাবি করেছে শিবির সমর্থিত প্যানেল।

রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মোজাহিদ ফয়সাল বলেন, “আচরণবিধিতে প্রার্থীদের ব্যয় সীমা উল্লেখ নেই। তাহলে আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যয় করতে পারি। নির্বাচন কমিশনার আমাদের প্রার্থীকে ‘টাকার উৎস’ নিয়ে প্রশ্ন করেছেন-এটি কমিশনের এখতিয়ার নয়। অনেকে নাস্তা বিতরণ করেছে, কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনার মোস্তফা কামাল আকন্দ বলেন, “তারা আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে। আমরা হাতেনাতে ধরে সতর্ক করেছি। খাবারগুলো বাজেয়াপ্ত করেছি আমাদের দায়িত্বের অংশ হিসেবে।”

প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ. নজরুল ইসলাম বলেন, “মনোনয়ন ফি কমানো হয়েছিল ছাত্রদের ব্যয় কমানোর জন্য। এখন যদি প্রার্থীরা নাস্তা-বিতরণসহ অতিরিক্ত খরচ করে, তাহলে সেটি নির্বাচনের উদ্দেশ্যের পরিপন্থী হবে। প্রজেকশন মিটিং মানে পরিচিতি সভা, খাবার বিতরণ নয়।”

শেষ দিনে ক্যাম্পাসজুড়ে নির্বাচনী উন্মাদনা তুঙ্গে থাকলেও, আচরণবিধি লঙ্ঘনের এই ঘটনা রাকসু নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শেষ দিনে জমে উঠেছে রাকসু নির্বাচনের প্রচারণা, আচরণবিধি লঙ্ঘনে নাস্তা বাজেয়াপ্ত

আপডেট সময় : ০৯:৪৮:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

শেষ দিনে জমে উঠেছে রাকসু নির্বাচনের প্রচারণা, আচরণবিধি লঙ্ঘনে নাস্তা বাজেয়াপ্ত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার দশম এবং শেষ দিনের মতো চলছে প্রচারণা। সকাল থেকে ক্যাম্পাসজুড়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। হাতে লিফলেট, মুখে নানা প্রতিশ্রুতি-শেষ মুহূর্তের ভোটার টানার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সবাই।

দেশের বৃহত্তম এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২৯ হাজার। প্রার্থীদের দাবি, এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হলেও তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন।

এদিকে রাকসু, হল সংসদ ও সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে শিবির সমর্থিত প্যানেল ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’-এর ২০০ প্যাকেট নাস্তা বাজেয়াপ্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার রাতে বেগম খালেদা জিয়া হলের সামনে থেকে এসব খাবার জব্দ করা হয়।

তবে আচরণবিধিতে নাস্তা বিতরণ বা ব্যয়ের সীমা বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই। এ কারণে ঘটনাটিকে বিতর্কিত বলে দাবি করেছে শিবির সমর্থিত প্যানেল।

রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মোজাহিদ ফয়সাল বলেন, “আচরণবিধিতে প্রার্থীদের ব্যয় সীমা উল্লেখ নেই। তাহলে আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যয় করতে পারি। নির্বাচন কমিশনার আমাদের প্রার্থীকে ‘টাকার উৎস’ নিয়ে প্রশ্ন করেছেন-এটি কমিশনের এখতিয়ার নয়। অনেকে নাস্তা বিতরণ করেছে, কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনার মোস্তফা কামাল আকন্দ বলেন, “তারা আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে। আমরা হাতেনাতে ধরে সতর্ক করেছি। খাবারগুলো বাজেয়াপ্ত করেছি আমাদের দায়িত্বের অংশ হিসেবে।”

প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ. নজরুল ইসলাম বলেন, “মনোনয়ন ফি কমানো হয়েছিল ছাত্রদের ব্যয় কমানোর জন্য। এখন যদি প্রার্থীরা নাস্তা-বিতরণসহ অতিরিক্ত খরচ করে, তাহলে সেটি নির্বাচনের উদ্দেশ্যের পরিপন্থী হবে। প্রজেকশন মিটিং মানে পরিচিতি সভা, খাবার বিতরণ নয়।”

শেষ দিনে ক্যাম্পাসজুড়ে নির্বাচনী উন্মাদনা তুঙ্গে থাকলেও, আচরণবিধি লঙ্ঘনের এই ঘটনা রাকসু নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।