রামেকে হামে ৩৭ শিশুর মৃত্যু, ২৭ জনই ছিল টিকাবঞ্চিত
- আপডেট সময় : ০৭:০৪:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ ৮০ বার পড়া হয়েছে

রামেকে হামে ৩৭ শিশুর মৃত্যু, ২৭ জনই ছিল টিকাবঞ্চিত
অল্পবয়সী শিশুদের ঝুঁকি বেশি, সচেতনতা ও টিকাদানে জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাম আক্রান্ত হয়ে গত মার্চ মাসে অন্তত ৩৭ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ জনই ছিল টিকাবঞ্চিত, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে ২৩ জন ছেলে ও ১৪ জন মেয়ে শিশু রয়েছে। তাদের মধ্যে মাত্র ১০ জন টিকা গ্রহণ করেছিল, বাকি ২৭ জন কোনো টিকা না নিয়েই মৃত্যুবরণ করে। মেয়ে শিশুদের মধ্যে ৬ জন টিকা নেওয়া থাকলেও ১৭ জন টিকাবঞ্চিত ছিল। অন্যদিকে ছেলে শিশুদের মধ্যে ৪ জন টিকা নেওয়া এবং ১০ জন টিকা না নেওয়া অবস্থায় মারা গেছে।
বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঝুঁকির বড় অংশজুড়ে রয়েছে অল্পবয়সী শিশুরা। ছেলে শিশুদের মধ্যে ১ থেকে ১০ মাস বয়সী ১০ জন কোনো টিকা না পেয়েই মারা গেছে। এছাড়া ১০ মাস থেকে সাড়ে ৩ বছর বয়সী ৪ জন ছেলে শিশু টিকা নেওয়ার পরও মৃত্যুবরণ করেছে। একইভাবে, মেয়ে শিশুদের মধ্যে ৯ মাসের কম বয়সী ১৭ জন টিকাবঞ্চিত অবস্থায় মারা গেছে এবং ১০ থেকে ১৫ মাস বয়সী ৬ জন টিকা নেওয়ার পরও প্রাণ হারিয়েছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুদের জন্য মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে। তবে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ সম্ভব। টিকাদান কর্মসূচির আওতার বাইরে থাকা এবং সময়মতো চিকিৎসা না নেওয়াই মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস জানান, ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। তাই এই বয়সসীমার শিশুদের সুরক্ষায় পরিবারের সদস্যদের সতর্ক থাকা জরুরি।
এলাকাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ১৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। এছাড়া রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ৭ জন, পবা উপজেলায় ৪ জন, কুষ্টিয়া ও পাবনায় ২ জন করে এবং নওগাঁ, মোহনপুর ও বাগমারায় একজন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সীমান্তবর্তী ও গ্রামীণ এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্যসেবার সীমিত সুযোগ ও টিকাদান বিষয়ে সচেতনতার ঘাটতিকে এর কারণ হিসেবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম নির্মূলে টিকাদানই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। কিন্তু অভিভাবকদের উদাসীনতা, ভুল ধারণা এবং দূরবর্তী এলাকার কারণে অনেক শিশু টিকার আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এস আই এম রাজিউল করিম জানান, টিকার কোনো ঘাটতি নেই। ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে এবং সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে সব উপজেলায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ১০ মে পর্যন্ত চলমান এই কর্মসূচির আওতায় রাজশাহী মহানগরীর ৫৪ হাজার ১৪৪ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, হাম প্রতিরোধে শুধু টিকাদান নয়, পুষ্টি নিশ্চিত করা, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জ্বর, ফুসকুড়ি, চোখ লাল হওয়া বা কাশির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



















