ঢাকা ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রামেকে হামে ৩৭ শিশুর মৃত্যু, ২৭ জনই ছিল টিকাবঞ্চিত রাবিতে অবিস্ফোরিত মর্টারশেল উদ্ধার, নিরাপদে নিষ্ক্রিয় নিয়ামতপুরে একই পরিবারের ৪ জনকে গলা কেটে হত্যা রামেক হাসপাতালে নিরাপত্তাহীনতা: ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি রাজশাহী নার্সিং কলেজে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা রাজশাহীতে ট্রেনে কা/টা পড়ে নারীসহ দুজনের মৃ’ত্যু রাজশাহীতে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট, বাড়ছে খোলা তেল ও ডিমের দাম বাগাতিপাড়ায় বাউয়েটে টেকসই নির্মাণ নিয়ে সেমিনার, ট্রাস প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ঠাকুরগাঁওয়ে পোল্ট্রি ফার্মে বিষ প্রয়োগ, ৩ হাজার মুরগির মৃত্যু রাজশাহীতে আঙুর চাষে সাফল্য, বছরে ২০ লাখ টাকার স্বপ্ন উদ্যোক্তা সাগরের

নিয়ামতপুরে একই পরিবারের ৪ জনকে গলা কেটে হত্যা

আল আমিন স্বাধীন, মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৩:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ ৭৪ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিয়ামতপুরে একই পরিবারের ৪ জনকে গলা কেটে হত্যা

পারিবারিক বিরোধের জেরে হত্যার সন্দেহ, জিজ্ঞাসাবাদে ৪ জন পুলিশ হেফাজতে

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) গভীর রাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

নিহতরা হলেন—হাবিবুর রহমান (৩২), তাঁর স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) এবং মেয়ে সাদিয়া আক্তার (৩)। তারা সবাই একই পরিবারের সদস্য।

ঘটনার পর পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত হাবিবুরের বাবা নমির উদ্দিন (৭০), বোন ডালিমা বেগম (৪৫), শিরিনা বেগম (৪০) এবং ভাগনে সবুজ রানাকে (২৫) হেফাজতে নিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাড়ির দরজা-জানালা অক্ষত থাকায় হত্যাকারীরা পরিবারের পরিচিত কেউ হতে পারে বলেও ধারণা স্থানীয়দের।

মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি শামীম আহমেদ এবং নওগাঁর পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম। এ সময় র‌্যাব, সিআইডি ও পিবিআইসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ভোর ৬টার দিকে হাবিবুরের বাবার চিৎকারে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর এলাকাবাসী ছুটে এসে ঘরের ভেতর ও আঙিনায় ছড়িয়ে থাকা চারটি মরদেহ দেখতে পান। ঘটনাস্থলের পরিবেশ দেখে অনেকেই ধারণা করছেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং এতে ঘনিষ্ঠ কেউ জড়িত থাকতে পারে।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাবিবুর রহমানের মরদেহ ঘরের বিছানায়, শিশু দুই সন্তানের মরদেহ অন্য কক্ষে এবং পপি সুলতানার মরদেহ বাড়ির আঙিনায় পড়ে ছিল। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।

নিহতের স্বজনরা জানান, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। নমির উদ্দিন তাঁর মেয়েদের প্রত্যেককে ১০ কাঠা করে জমি দিয়ে বাকি সম্পত্তি হাবিবুরের নামে লিখে দেওয়ায় ভাই-বোনদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

এছাড়া, হাবিবুরের স্ত্রীর মামা আবুল কালাম আজাদ দাবি করেন, ঈদের আগে একবার খাবারের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে পরিবারটিকে অচেতন করার চেষ্টা করা হয়েছিল, যা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে।

নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

নওগাঁর পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, “এটি ডাকাতির ঘটনা নয়। অন্য কোনো কারণে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নিয়ামতপুরে একই পরিবারের ৪ জনকে গলা কেটে হত্যা

আপডেট সময় : ০৬:৩৩:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

নিয়ামতপুরে একই পরিবারের ৪ জনকে গলা কেটে হত্যা

পারিবারিক বিরোধের জেরে হত্যার সন্দেহ, জিজ্ঞাসাবাদে ৪ জন পুলিশ হেফাজতে

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) গভীর রাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

নিহতরা হলেন—হাবিবুর রহমান (৩২), তাঁর স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) এবং মেয়ে সাদিয়া আক্তার (৩)। তারা সবাই একই পরিবারের সদস্য।

ঘটনার পর পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত হাবিবুরের বাবা নমির উদ্দিন (৭০), বোন ডালিমা বেগম (৪৫), শিরিনা বেগম (৪০) এবং ভাগনে সবুজ রানাকে (২৫) হেফাজতে নিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাড়ির দরজা-জানালা অক্ষত থাকায় হত্যাকারীরা পরিবারের পরিচিত কেউ হতে পারে বলেও ধারণা স্থানীয়দের।

মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি শামীম আহমেদ এবং নওগাঁর পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম। এ সময় র‌্যাব, সিআইডি ও পিবিআইসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ভোর ৬টার দিকে হাবিবুরের বাবার চিৎকারে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর এলাকাবাসী ছুটে এসে ঘরের ভেতর ও আঙিনায় ছড়িয়ে থাকা চারটি মরদেহ দেখতে পান। ঘটনাস্থলের পরিবেশ দেখে অনেকেই ধারণা করছেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং এতে ঘনিষ্ঠ কেউ জড়িত থাকতে পারে।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাবিবুর রহমানের মরদেহ ঘরের বিছানায়, শিশু দুই সন্তানের মরদেহ অন্য কক্ষে এবং পপি সুলতানার মরদেহ বাড়ির আঙিনায় পড়ে ছিল। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।

নিহতের স্বজনরা জানান, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। নমির উদ্দিন তাঁর মেয়েদের প্রত্যেককে ১০ কাঠা করে জমি দিয়ে বাকি সম্পত্তি হাবিবুরের নামে লিখে দেওয়ায় ভাই-বোনদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

এছাড়া, হাবিবুরের স্ত্রীর মামা আবুল কালাম আজাদ দাবি করেন, ঈদের আগে একবার খাবারের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে পরিবারটিকে অচেতন করার চেষ্টা করা হয়েছিল, যা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে।

নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

নওগাঁর পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, “এটি ডাকাতির ঘটনা নয়। অন্য কোনো কারণে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”