ঢাকা ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষকহীন পরীক্ষায় চরম বিশৃঙ্খলা: বাগাতিপাড়ায় অভিভাবকদের তীব্র ক্ষোভ

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:২৭:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫ ২৩৩ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শিক্ষকহীন পরীক্ষায় চরম বিশৃঙ্খলা: বাগাতিপাড়ায় অভিভাবকদের তীব্র ক্ষোভ

৩ দফা দাবিতে সহকারী শিক্ষকদের কর্মবিরতি; এক প্রধান শিক্ষক ও দপ্তরির হাতে ৫৬ বিদ্যালয়ের বার্ষিক মূল্যায়ন

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের তিন দফা দাবিতে চলমান কর্মবিরতির কারণে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার ৫৬টি বিদ্যালয়ে বার্ষিক তৃতীয় পর্যায়ের প্রান্তিক মূল্যায়নে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষকবিহীন শ্রেণিকক্ষে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে—এমন চিত্র দেখা গেছে প্রায় সব কেন্দ্রে। অভিভাবকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, “এভাবে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে পরীক্ষা নেওয়ার চেয়ে পরীক্ষা বন্ধই ভালো।”

আজ সোমবার (১ ডিসেম্বর) উপজেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সরেজমিন দেখা গেছে—একজন প্রধান শিক্ষক ও দপ্তরির ওপর পুরো কেন্দ্রের দায়িত্ব থাকায় পরীক্ষাকেন্দ্রে কোনো সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। অনেক কক্ষে শিক্ষার্থীরা কথা বলা, হাঁটাহাঁটি, বই দেখে লেখা—সবই চলছে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে।

এ অবস্থায় অভিভাবকেরা পরীক্ষা বন্ধের দাবি তুলেছেন। তাদের অভিযোগ—পরীক্ষা বর্জনের ব্যাপারে আগে না জানানোয় শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত অবস্থায় বিশৃঙ্খলার মুখোমুখি হয়েছে।

পেড়াবাড়িয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী সানজিদা, মেধা ও কথা বলেন, “এভাবে পরীক্ষা দেওয়া খুব কষ্টকর। শিক্ষক ক্লাসে আসুক—না হলে পরীক্ষা বন্ধ করে দিক।”

collected

পেড়াবাড়িয়া মহল্লার এক অভিভাবক জানান, “সকালেই মেয়েকে নিয়ে এসে দেখি শিক্ষক নেই। সারা বছর পড়াশোনা করে পরীক্ষারদিন এভাবে বিশৃঙ্খলার মুখোমুখি হবে—কে ভেবেছিল? সন্তানদের ভবিষ্যৎ এভাবে নষ্ট করা ঠিক না।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষকরা কর্মবিরতিতে থাকায় সব দায়িত্ব আমার ও দপ্তরির ওপর পড়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।”

আন্দোলনরত সহকারী শিক্ষক শামীম শাহারিয়া বলেন, তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। “দাবি বাস্তবায়ন হলে ছুটির দিনেও পরীক্ষা নেব। আমরা বাচ্চাদের জিম্মি করতে চাই না। সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করলেই ক্লাসে ফিরে যাব।”
অন্যান্য শিক্ষকরা জানান, কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা কর্মবিরতিতে রয়েছেন এবং দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাশার শামসুজ্জামান বলেন, সব বিদ্যালয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে কিনা—এ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। জানিয়েছেন, তিনি এখনো কোনো কেন্দ্র পরিদর্শন করেননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, “সমস্যাটি হঠাৎ শুরু হয়েছে। পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া স্থানীয় প্রশাসনের এখতিয়ার নয়—এটি মন্ত্রণালয়ের বিষয়। যেহেতু সমস্যা সারা দেশের, তাই দ্রুতই সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা করছি।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শিক্ষকহীন পরীক্ষায় চরম বিশৃঙ্খলা: বাগাতিপাড়ায় অভিভাবকদের তীব্র ক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৩:২৭:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

শিক্ষকহীন পরীক্ষায় চরম বিশৃঙ্খলা: বাগাতিপাড়ায় অভিভাবকদের তীব্র ক্ষোভ

৩ দফা দাবিতে সহকারী শিক্ষকদের কর্মবিরতি; এক প্রধান শিক্ষক ও দপ্তরির হাতে ৫৬ বিদ্যালয়ের বার্ষিক মূল্যায়ন

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের তিন দফা দাবিতে চলমান কর্মবিরতির কারণে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার ৫৬টি বিদ্যালয়ে বার্ষিক তৃতীয় পর্যায়ের প্রান্তিক মূল্যায়নে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষকবিহীন শ্রেণিকক্ষে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে—এমন চিত্র দেখা গেছে প্রায় সব কেন্দ্রে। অভিভাবকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, “এভাবে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে পরীক্ষা নেওয়ার চেয়ে পরীক্ষা বন্ধই ভালো।”

আজ সোমবার (১ ডিসেম্বর) উপজেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সরেজমিন দেখা গেছে—একজন প্রধান শিক্ষক ও দপ্তরির ওপর পুরো কেন্দ্রের দায়িত্ব থাকায় পরীক্ষাকেন্দ্রে কোনো সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। অনেক কক্ষে শিক্ষার্থীরা কথা বলা, হাঁটাহাঁটি, বই দেখে লেখা—সবই চলছে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে।

এ অবস্থায় অভিভাবকেরা পরীক্ষা বন্ধের দাবি তুলেছেন। তাদের অভিযোগ—পরীক্ষা বর্জনের ব্যাপারে আগে না জানানোয় শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত অবস্থায় বিশৃঙ্খলার মুখোমুখি হয়েছে।

পেড়াবাড়িয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী সানজিদা, মেধা ও কথা বলেন, “এভাবে পরীক্ষা দেওয়া খুব কষ্টকর। শিক্ষক ক্লাসে আসুক—না হলে পরীক্ষা বন্ধ করে দিক।”

collected

পেড়াবাড়িয়া মহল্লার এক অভিভাবক জানান, “সকালেই মেয়েকে নিয়ে এসে দেখি শিক্ষক নেই। সারা বছর পড়াশোনা করে পরীক্ষারদিন এভাবে বিশৃঙ্খলার মুখোমুখি হবে—কে ভেবেছিল? সন্তানদের ভবিষ্যৎ এভাবে নষ্ট করা ঠিক না।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষকরা কর্মবিরতিতে থাকায় সব দায়িত্ব আমার ও দপ্তরির ওপর পড়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।”

আন্দোলনরত সহকারী শিক্ষক শামীম শাহারিয়া বলেন, তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। “দাবি বাস্তবায়ন হলে ছুটির দিনেও পরীক্ষা নেব। আমরা বাচ্চাদের জিম্মি করতে চাই না। সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করলেই ক্লাসে ফিরে যাব।”
অন্যান্য শিক্ষকরা জানান, কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা কর্মবিরতিতে রয়েছেন এবং দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাশার শামসুজ্জামান বলেন, সব বিদ্যালয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে কিনা—এ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। জানিয়েছেন, তিনি এখনো কোনো কেন্দ্র পরিদর্শন করেননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, “সমস্যাটি হঠাৎ শুরু হয়েছে। পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া স্থানীয় প্রশাসনের এখতিয়ার নয়—এটি মন্ত্রণালয়ের বিষয়। যেহেতু সমস্যা সারা দেশের, তাই দ্রুতই সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা করছি।”