ঢাকা ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ক্যান্সার আক্রান্ত নারীকে ধ র্ষ ণ চেষ্টার মামলার পলাতক আসামি ঢাকায় আটক প্রথমবারের মতো রাণীনগরে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন বর্ণাঢ্য আয়োজনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন মান্দায় খালে গোসলের সময় পানিতে পড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসে বাগাতিপাড়ায় ৩০ লাখ টাকার বেশি ঋণের চেক বিতরণ বাগাতিপাড়ায় একদিনে আওয়ামী লীগের সাবেক তিন নেতা আটক রাণীনগরে এক মঞ্চে সাত কর্মসূচির উদ্বোধন ও বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ লালপুরে নানাবাড়ির পানি নিষ্কাশনের ডোবায় পড়ে শিশু রাফসান’র মৃত্যু রাজশাহীতে কলাবাগান থেকে তিন বস্তা গাঁজা উদ্ধার; জড়িতদের শনাক্তে অভিযান চলছে সিংড়ায় স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে শ্লী/ল/তা/হা/নি/র চেষ্টা, গণ-ধো’লা’ইয়ের পর অটোরিকশাচালককে পুলিশে সোপর্দ

লাশের অপেক্ষায় পদ্মা নদীর পাড়ে স্বজনরা

এম এম মামুন, নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ১২:৩৫:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২৫৫ বার পড়া হয়েছে

collected picture

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

লাশের অপেক্ষায় পদ্মা নদীর পাড়ে স্বজনরা

রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের চর মাঝারদিয়াড়ে পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ চার শ্রমিকের সন্ধান মেলেনি। তাদের খোঁজ না পেলেও উদ্ধার অভিযান শেষ করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। লাশের জন্য পদ্মা নদীর পাড়ে অপেক্ষা করছেন স্বজনরা। রোববার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার সময় রাজশাহী শহরের ওপারে চর মাজারদিয়াড় এলাকায় নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। নৌকায় থাকা ১৬ জন শ্রমিকের মধ্যে ১২ শ্রমিক সাঁতরে পাড়ে গেলেও নিখোঁজ ছিলেন চারজন। রাতেই রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ওই এলাকায় গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আজ সোমবার বেলা ১১ টার পর উদ্ধার অভিযান শেষ৷ করেন।

স্বজনরা জানান, ‘কি বলব বাবা কিছু বলার নাই। একই পরিবারের তিনজন মারা গেছে। নদীতে সারারাত খোঁজাখুঁজি করেছে, কিন্তু পাইনি। যারা নদীতে ডুবে নিখোঁজ হয়েছে তারা বেঁচে থাকতে এতোক্ষণ পাওয়া যেত। কিন্তু একজনকেও পাইনি। লাশগুলো পেলেও মনে সান্ত্বনা পেতাম।’ এভাবে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন পদ্মা নদীতে নিখোঁজ রাজুর নানী আশরাফুন বেগম ( ৭০)। আশরাফুন বেগম সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজশাহী নগরীর গুড়িপাড়ার চর মাজারদিয়াড় ঘাটে এভাবে কথাগুলো বলছিলেন। তিনি বলেন, তারা জমিতে টমেটো লাগিয়ে বাসায় ফিরছিল। এ সময় নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। এরপরে তারা সাঁতরে দুইজন পাড়ে উঠেছে , চারজন উঠতে পারেনি। নদীতে উদ্ধার করতে যাওয়া আরেক জামাই খরব দিচ্ছে কাউকে পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন, চর মাজারদিয়াড় এলাকার এনামুলের ছেলে রাজুু (২১), এন্তাজুলের ছেলে সবুজ (২১), খলিলের ছেলে মোহাম্মদ আলী (৩০) ও কালামের ছেলে ফারুক (১৮)।

জানা গেছে, রাজু ও সবুজ চাচাতো ভাই। মোহম্মদ আলী রাজুর দুলাভাই। রাজুর প্রতিবেশি ভাই হয় ফারুক। রাজুর সন্তান হয়েছে তিন মাস আগে। সবুজ বিবাহিত তবে তার সন্তান নেই। মোহাম্মদ আলীর এক ছেলের বয়স ১২ বছর ও মেয়ের বসয় ১০ বছর। ফারুকের বাবা কৃষিকাজ করেন।
নিখোঁজের স্বজন মোসা. টকেনা বেগম বলেন, রাত-দিন সব সময় পানির নিচে অন্ধকার। আর নদীর পানি ঘোলা। একহাত দূরে কিছু দেখা যায় না। দিন হলে ওতটা সমস্যা হতো না। আর ভরা নদীতে মানুষ পানিতে নেমে খুঁজতেও ভয় পাই। যদি তারা জীবিত থাকত তাহলে এতোক্ষণ পাওয়া যেত। ধরে নিতে হবে তারা আর বেঁচে নেই। নৌকাডুবির ঘটনা ঘটা চার মাজারদিয়াড় এলাকায় থাকা নিখোঁজ সবুজের দুলাভাই মো. মেজর বলেন, আমরা সারারাত খুঁজেছি। চারজনের একজনকেও পাওয়া যায়নি। সকালে ফায়ার সার্ভিসের লোকজনরা এসেছে। তাদের ডুবুরিরা খোঁজাখুঁজি করছে। রাজশাহী সদর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার লতিফুর বারি বলেন, তাদের ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা কাজ করছে। এখনও কাউকে পাওয়া যায়নি। অভিযান চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে পবা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু সালেহ্ মোহাম্মদ হাসনাত বলেন, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা উদ্ধারের কাজ করছে। এখন পর্যন্ত কাউকে পাওয়া যায়নি।

রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক একেএম মুর্শেদ জানান, নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা যাচ্ছে না। আপাতত অভিযান আর চালানো হবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

লাশের অপেক্ষায় পদ্মা নদীর পাড়ে স্বজনরা

আপডেট সময় : ১২:৩৫:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪

লাশের অপেক্ষায় পদ্মা নদীর পাড়ে স্বজনরা

রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের চর মাঝারদিয়াড়ে পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ চার শ্রমিকের সন্ধান মেলেনি। তাদের খোঁজ না পেলেও উদ্ধার অভিযান শেষ করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। লাশের জন্য পদ্মা নদীর পাড়ে অপেক্ষা করছেন স্বজনরা। রোববার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার সময় রাজশাহী শহরের ওপারে চর মাজারদিয়াড় এলাকায় নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। নৌকায় থাকা ১৬ জন শ্রমিকের মধ্যে ১২ শ্রমিক সাঁতরে পাড়ে গেলেও নিখোঁজ ছিলেন চারজন। রাতেই রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ওই এলাকায় গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আজ সোমবার বেলা ১১ টার পর উদ্ধার অভিযান শেষ৷ করেন।

স্বজনরা জানান, ‘কি বলব বাবা কিছু বলার নাই। একই পরিবারের তিনজন মারা গেছে। নদীতে সারারাত খোঁজাখুঁজি করেছে, কিন্তু পাইনি। যারা নদীতে ডুবে নিখোঁজ হয়েছে তারা বেঁচে থাকতে এতোক্ষণ পাওয়া যেত। কিন্তু একজনকেও পাইনি। লাশগুলো পেলেও মনে সান্ত্বনা পেতাম।’ এভাবে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন পদ্মা নদীতে নিখোঁজ রাজুর নানী আশরাফুন বেগম ( ৭০)। আশরাফুন বেগম সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজশাহী নগরীর গুড়িপাড়ার চর মাজারদিয়াড় ঘাটে এভাবে কথাগুলো বলছিলেন। তিনি বলেন, তারা জমিতে টমেটো লাগিয়ে বাসায় ফিরছিল। এ সময় নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। এরপরে তারা সাঁতরে দুইজন পাড়ে উঠেছে , চারজন উঠতে পারেনি। নদীতে উদ্ধার করতে যাওয়া আরেক জামাই খরব দিচ্ছে কাউকে পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন, চর মাজারদিয়াড় এলাকার এনামুলের ছেলে রাজুু (২১), এন্তাজুলের ছেলে সবুজ (২১), খলিলের ছেলে মোহাম্মদ আলী (৩০) ও কালামের ছেলে ফারুক (১৮)।

জানা গেছে, রাজু ও সবুজ চাচাতো ভাই। মোহম্মদ আলী রাজুর দুলাভাই। রাজুর প্রতিবেশি ভাই হয় ফারুক। রাজুর সন্তান হয়েছে তিন মাস আগে। সবুজ বিবাহিত তবে তার সন্তান নেই। মোহাম্মদ আলীর এক ছেলের বয়স ১২ বছর ও মেয়ের বসয় ১০ বছর। ফারুকের বাবা কৃষিকাজ করেন।
নিখোঁজের স্বজন মোসা. টকেনা বেগম বলেন, রাত-দিন সব সময় পানির নিচে অন্ধকার। আর নদীর পানি ঘোলা। একহাত দূরে কিছু দেখা যায় না। দিন হলে ওতটা সমস্যা হতো না। আর ভরা নদীতে মানুষ পানিতে নেমে খুঁজতেও ভয় পাই। যদি তারা জীবিত থাকত তাহলে এতোক্ষণ পাওয়া যেত। ধরে নিতে হবে তারা আর বেঁচে নেই। নৌকাডুবির ঘটনা ঘটা চার মাজারদিয়াড় এলাকায় থাকা নিখোঁজ সবুজের দুলাভাই মো. মেজর বলেন, আমরা সারারাত খুঁজেছি। চারজনের একজনকেও পাওয়া যায়নি। সকালে ফায়ার সার্ভিসের লোকজনরা এসেছে। তাদের ডুবুরিরা খোঁজাখুঁজি করছে। রাজশাহী সদর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার লতিফুর বারি বলেন, তাদের ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা কাজ করছে। এখনও কাউকে পাওয়া যায়নি। অভিযান চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে পবা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু সালেহ্ মোহাম্মদ হাসনাত বলেন, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা উদ্ধারের কাজ করছে। এখন পর্যন্ত কাউকে পাওয়া যায়নি।

রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক একেএম মুর্শেদ জানান, নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা যাচ্ছে না। আপাতত অভিযান আর চালানো হবে না।