রাসিক নির্বাচন: হলফনামায় চার মেয়র প্রার্থীর তথ্য!
- আপডেট সময় : ১০:২২:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ মে ২০২৩ ১৮৮ বার পড়া হয়েছে

রাসিক নির্বাচন: হলফনামায় চার মেয়র প্রার্থীর তথ্য!
এম এম মামুন, নিজস্ব প্রতিনিধি:
রাসিক নির্বাচন: হলফনামায় চার মেয়র প্রার্থীর তথ্য! আগামী ২১ জুন আসন্ন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) নির্বাচন। রাসিক নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে গত ২৫ মে মেয়র-কাউন্সিলর প্রার্থীদের তথ্য যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া হয়েছে সম্পন্ন করা হয়েছে। এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে দাখিলকৃত চারজনেরই মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আসন্ন রাসিক নির্বাচনে দলটি থেকে কেউ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাকের পার্টির প্রার্থীকেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করা হচ্ছে।
এই চার প্রার্থীর মধ্যে সব চেয়ে সম্পদশালী আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ও সদ্য সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। তাঁর বার্ষিক আয় ২ কোটি ৯৮ লাখ ১০ হাজার এবং স্ত্রীর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ২ কোটি ১০ লাখ কোটি টাকা। তবে লিটনের দাখিলকৃত হলফনামায় নিজের পেশা আইনজীবী ও রাজশাহী এ্যাডভোকেট বার এসোসিয়েশনের সদস্য বলা হলেও মূলত তার ও স্ত্রীর উপার্জনের মূল আয়ের উৎস মৎস চাষ। লিটন ও তার স্ত্রীর মাছ চাষ করে বছরে আয় হয় ৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এদিকে গেল ২০১৮ সালের ৩০ জুলাইয়ের সিটি নির্বাচনের সময় লিটনের বার্ষিক আয় ছিল ৪২ লাখ ৪৫ হাজার ২৮৮ টাকা। এই হিসেবে গত পাঁচ বছরে মেয়র লিটনের বার্ষিক আয় বেড়েছে ২ কোটি ৫৫ লাখ ৬৪ হাজার ৭১২ টাকা। হিসাব অনুযায়ী- গত ৫ বছরে লিটনের বার্ষিক আয় বেড়েছে ৭.০৩ গুণ।
নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামা ঘেঁটে দেখা গেছে, শিক্ষাগত যোগ্যতায় এগিয়ে আছেন জাকের পার্টির প্রার্থী মো. লতিফ আনোয়ার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাফেজ মাওলানা মো. মুরশিদ আলম খান এবং আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এদের মধ্যে লতিফের শিক্ষাগত যোগ্যতা এল.এল.এম ; মুরশিদ আলম কামিল পাশ এবং লিটন বি.এ. অনার্স (এল.এল.বি) ডিগ্রিধারী। তবে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. সাইফুল ইসলাম স্বপন ‘স্বাক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন’।
নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় প্রার্থীরা রাসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তাঁদের হলফনামায় সম্পদের হিসাব দিয়েছেন। এতে প্রার্থীর ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি তাঁদের আয়, আয়ের উৎস, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, মামলা, দেনাসহ বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন।
রাসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মোট ৪ জন প্রার্থী মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ছাড়াও জাকের পার্টির সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী দিয়েছেন। রাজশাহী সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন এ বিষয়ে বলেন, মেয়র পদে প্রার্থীদের হলফনামা যাচাই-বাছাই করে কোনো ধরনের অসংগতি পাওয়া যায়নি। মনোনয়নপত্র দাখিল করা ৪ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
হলনাম পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বিএ (সম্মান) পাস। তিনি পেশায় আইনজীব। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। তাঁর বার্ষিক ২ কোটি ৯৮ লাখ ১০ হাজার। এর মধ্যে মাছ চাষ করে বছরে আয় ২ কোটি ৪২ লাখ; বাড়ি/এপার্টমেন্ট/ দোকান বা অন্যান্য ভাড়া থেকে ৩৭ লাখ ৭০ হাজার; কৃষি খাত থেকে ২ লাখ ৩০ হাজার এবং মেয়র হিসেবে সম্মানীভাতা বাবদ বছরে লিটনের আয় হয়েছে ১৬ লাখ ১০ হাজার টাকা। মাছ চাষ করেন লিটনের স্ত্রীও। এ থেকে তাঁর স্ত্রীর বার্ষিক আয় ১ কোটি ৪১ লাখ এবং অন্যান্য ব্যবসায় আয় ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। লিটনের অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ আছে ৭ লাখ ২ হাজার ২৩৭ টাকা। আর স্ত্রীর নগদ অর্থ রয়েছে ১৮ লাখ ৪৭ হাজার ১৩০ টাকা। লিটনের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে ২ কোটি ৮৪ লাখ ৯১ হাজার ৮০০ টাকা এবং স্ত্রীর জমা রয়েছে ১ কোটি ৭৮ লাখ ৭৬ হাজার ৮৭০ টাকা। এর বাইরে অস্থাবর সম্পদের মধ্যে লিটনের রয়েছে ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার, উপহার হিসেবে স্ত্রীর নামে রয়েছে ৫০ ভরি স্বর্ণালংকার। এছাড়া লিটনের নির্ভরশীল ব্যক্তির নামে ২১ ভরি স্বর্ণালংকার রয়েছে। নিজের নামে ২৫ লাখ টাকার ইলেট্রনিক সামগ্রী ও স্ত্রীর নামে রয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী। লিটনের ৭ লাখ টাকার এবং স্ত্রীর ২ লাখ ১০ হাজার টাকা সমমূল্যের আসবাবপত্র রয়েছে।
লিটনের স্থাবর সম্পদের মধ্যে ৪.৬৩ একর এবং স্ত্রীর নামে ১.৭৭০৫ একর কৃষি জমি রয়েছে। নিজের নামে একটি ৩তলা এবং লিটনের স্ত্রীর নামে ২তলাবিশিষ্ট একটি পুরাতন বাড়ি রয়েছে। এছাড়া ঢাকার বনানীতে লিটনের ৫ কাঠার বিনিময়ে ২.৫০ টা এপার্টমেন্ট রয়েছে। স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে লিটনের আরো রয়েছে ৭০ লাখ ১২ হাজার ১৯০ টাকা সমমূল্যের একটি মাছের খামার আর স্ত্রীর রয়েছে ৭৯ লাখ ৩৫ হাজার টাকার মৎস খামার। তো কিছুর পরও লিটনের রয়েছে দায়-দেনাও। গাড়ি ক্রয় বাবদ একটি ব্যাংকে লিটনের ২০ লাখ ৭৯ লাখ ৩৭ টাকার ঋণ রয়েছে বলে তার দাখিলকৃত হলফনামা সূত্রে জানা গেছে।
রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মেয়রপ্রার্থী লিটনের নির্বাচন পরিচালনা প্রচার কমিটির প্রধান আহসানুল হক পিন্টু বলেন, ‘লিটন ভাই পেশায় আইনজীবী ঠিক আছে। কিন্তু তিনি তো সিটি মেয়র ছিলেন। সঙ্গত কারণে তিনি তো সরাসরি আইন পেশায় প্যাকটিস করতে পারেন না। একজন মানুষের আয়ের বিভিন্ন উৎস থাকে। লিটন ভাইয়ের আয়ের বিভিন্ন উৎসের মধ্যে তার মাছের খামার রয়েছে। সেখান থেকে একটা উল্লেখযোগ্য আয় আসে।’
হলফনামায় দেওয়া সম্পদের ব্যাপারে লিটন বলেন, ‘আমার যে সম্পদ তার সবই বৈধ উপায়ে অর্জিত এবং সম্পদের আয়কর যথাযথভাবে পরিশোধ করেছি।’
‘স্বাক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. সাইফুল ইসলাম স্বপন পেশায় ব্যবসায়ী। তাঁর বার্ষিক আয় ৩০ লাখ টাকা। ব্যবসায়ী স্বপনের অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার নগদ অর্থ রয়েছে মাত্র ৩ লাখ টাকা। ব্যাংকে জমা রয়েছে ৫০ হাজার টাকা। তার ১০ ভরি স্বর্ণ এবং ৮০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্র রয়েছে। সিটি নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে আরেক মেয়র প্রার্থী হাফেজ মাওলানা মুরশিদ আলী খান। কামিল (মাস্টার্স) পাশের এই প্রার্থী



















