ঢাকা ১২:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে কৃষক দল নেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

এম এম মামুন, রাজশাহী:
  • আপডেট সময় : ০২:০০:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫ ১৩৯ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে কৃষক দল নেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

দেড় কোটি টাকার জমি দখলে নেতৃত্বের অভিযোগ; আশরাফ মল্লিকের দাবি-‘অভিযোগ মিথ্যা’।

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে কৃষক দলের সদস্য সচিব আশরাফ মল্লিকের বিরুদ্ধে প্রায় দেড় কোটি টাকার জমি দখলে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৫ অক্টোবর) দুপুরে রাজশাহী সিটি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ তোলেন ভুক্তভোগী নারী ফাতেমা জোহুরা।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গোদাগাড়ীর বিদিরপুর গ্রামের বাসিন্দা ফাতেমা জোহুরা পশুণ্ডা মৌজার ১ দশমিক ৪৪৭৫ একর ধানী জমির মালিক। এর মধ্যে ০.৬২ শতক তিনি ক্রয়সূত্রে এবং বাকি জমি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন। স্বামী আবুল হোসেন ১৯৮৮ সালে মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। জমির খাজনা ও খারিজও তার নামে রয়েছে।

কিন্তু সম্প্রতি ওই জমি জবরদখল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার দাবি, আবুল হোসেনের মৃত্যুর পর রওশন আরা বেগম, বাদেনুর বিবি, মাফিয়া খাতুন, টগরি খাতুন ও সাজেনুর বিবি নামের কয়েকজন একটি জাল দলিল তৈরি করে দাবি করেন, আবুল হোসেন মৃত্যুর আগে জমি তাদের কাছে বিক্রি করেছেন। আদালতে মামলা হলে দলিলটি জাল প্রমাণিত হয়।

ফাতেমা জোহুরা বলেন, “সরকার পরিবর্তনের পর এই চক্রটি আবার সক্রিয় হয়। এবার তারা দাবি করে, আবুল হোসেনের বোন মেহেরজান ও তার ভাতিজা খলিলুর রহমান তাদের কাছে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিয়েছেন। অথচ মেহেরজান ও খলিলুর ১৯৭২ সালেই ভারতে চলে গেছেন।”

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এমন কোনো কেস নথি পাওয়া যায়নি। তবুও ওই পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেখিয়ে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব আশরাফ মল্লিকসহ আরও কয়েকজন জমিটি দখল করে নেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ফাতেমার অভিযোগ, “ধানক্ষেতে মাটিভরাট করে তারা জমি দখল করে নেয়। বাধা দিতে গেলে আমাদের মারতে আসে। এরপর আমি আদালতে মামলা করি, আদালত ১৪৪ ধারা জারি করেন। কিন্তু তারা তা মানছে না; বরং জমি বিক্রির জন্য সাইনবোর্ডও টাঙিয়েছে।”

এ অবস্থায় তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও পরিবারের নিরাপত্তা দাবি করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব আশরাফ মল্লিক বলেন,
“ফাতেমা ও তার স্বামী নিঃসন্তান ছিলেন। আইন অনুযায়ী জমি পুরোটা তার প্রাপ্য নয়। শালিস বৈঠকে আমি আইনজীবী হিসেবে মতামত দিয়েছি মাত্র। জমি দখলের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা—আমি ওই জমিতে যাইওনি।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে কৃষক দল নেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০২:০০:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে কৃষক দল নেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

দেড় কোটি টাকার জমি দখলে নেতৃত্বের অভিযোগ; আশরাফ মল্লিকের দাবি-‘অভিযোগ মিথ্যা’।

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে কৃষক দলের সদস্য সচিব আশরাফ মল্লিকের বিরুদ্ধে প্রায় দেড় কোটি টাকার জমি দখলে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৫ অক্টোবর) দুপুরে রাজশাহী সিটি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ তোলেন ভুক্তভোগী নারী ফাতেমা জোহুরা।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গোদাগাড়ীর বিদিরপুর গ্রামের বাসিন্দা ফাতেমা জোহুরা পশুণ্ডা মৌজার ১ দশমিক ৪৪৭৫ একর ধানী জমির মালিক। এর মধ্যে ০.৬২ শতক তিনি ক্রয়সূত্রে এবং বাকি জমি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন। স্বামী আবুল হোসেন ১৯৮৮ সালে মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। জমির খাজনা ও খারিজও তার নামে রয়েছে।

কিন্তু সম্প্রতি ওই জমি জবরদখল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার দাবি, আবুল হোসেনের মৃত্যুর পর রওশন আরা বেগম, বাদেনুর বিবি, মাফিয়া খাতুন, টগরি খাতুন ও সাজেনুর বিবি নামের কয়েকজন একটি জাল দলিল তৈরি করে দাবি করেন, আবুল হোসেন মৃত্যুর আগে জমি তাদের কাছে বিক্রি করেছেন। আদালতে মামলা হলে দলিলটি জাল প্রমাণিত হয়।

ফাতেমা জোহুরা বলেন, “সরকার পরিবর্তনের পর এই চক্রটি আবার সক্রিয় হয়। এবার তারা দাবি করে, আবুল হোসেনের বোন মেহেরজান ও তার ভাতিজা খলিলুর রহমান তাদের কাছে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিয়েছেন। অথচ মেহেরজান ও খলিলুর ১৯৭২ সালেই ভারতে চলে গেছেন।”

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এমন কোনো কেস নথি পাওয়া যায়নি। তবুও ওই পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেখিয়ে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব আশরাফ মল্লিকসহ আরও কয়েকজন জমিটি দখল করে নেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ফাতেমার অভিযোগ, “ধানক্ষেতে মাটিভরাট করে তারা জমি দখল করে নেয়। বাধা দিতে গেলে আমাদের মারতে আসে। এরপর আমি আদালতে মামলা করি, আদালত ১৪৪ ধারা জারি করেন। কিন্তু তারা তা মানছে না; বরং জমি বিক্রির জন্য সাইনবোর্ডও টাঙিয়েছে।”

এ অবস্থায় তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও পরিবারের নিরাপত্তা দাবি করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব আশরাফ মল্লিক বলেন,
“ফাতেমা ও তার স্বামী নিঃসন্তান ছিলেন। আইন অনুযায়ী জমি পুরোটা তার প্রাপ্য নয়। শালিস বৈঠকে আমি আইনজীবী হিসেবে মতামত দিয়েছি মাত্র। জমি দখলের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা—আমি ওই জমিতে যাইওনি।”