রাজশাহীতে ১০ মাসে ২৮ জন এইচআইভি আক্রান্ত- উদ্বেগ বাড়ছে তরুণদের মধ্যে
- আপডেট সময় : ১০:২৭:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫ ২৩৯ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীতে ১০ মাসে ২৮ জন এইচআইভি আক্রান্ত- উদ্বেগ বাড়ছে তরুণদের মধ্যে
রামেকের তথ্য বলছে, সমকামিতায় সংক্রমণের হার সর্বাধিক; ওষুধের জন্য যেতে হয় বগুড়ায়
চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে রাজশাহীতে নতুন করে ২৮ জন এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৫ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও একজন হিজড়া। এ সময় এইডসে মারা গেছেন একজন। আক্রান্তদের বেশির ভাগের বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারের (এইচআইভি টেস্টিং অ্যান্ড কাউন্সেলিং সেন্টার) তথ্যানুসারে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৩৪৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ২৮ জনের শরীরে এইচআইভি পাওয়া গেছে।
রামেকের রেকর্ড বলছে, গত ছয় বছরে (২০১৯-২০২৫) রাজশাহীতে মোট ৯৩ জন এইচআইভি আক্রান্ত হয়েছেন, এ সময়ে মারা গেছেন আটজন। ২০১৯ সালে কেউ পজিটিভ ছিলেন না, কিন্তু পরের বছর থেকেই সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে।
চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজশাহীতে যৌনকর্মীর চেয়ে সমকামী সম্পর্কের মাধ্যমেই বেশি ছড়াচ্ছে এইচআইভি। ২০২৫ সালে শনাক্ত হওয়া ২৮ জনের মধ্যে ১৭ জন সমকামিতার মাধ্যমে এবং ১০ জন যৌনকর্মীদের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছেন। একজন রক্তের মাধ্যমে আক্রান্ত হন।
রামেক হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারে প্রতিদিন গড়ে ১০-১৫ জন এইচআইভি পরীক্ষার জন্য আসেন। পজিটিভ শনাক্ত হলে তাদের কাউন্সেলিং করা হয়। তবে এখানকার সীমাবদ্ধতা হলো, ওষুধের ব্যবস্থা নেই। আক্রান্তদের চিকিৎসা ও ওষুধ নিতে যেতে হয় বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে।
রামেকের ফোকাল পার্সন ডা. ইবরাহীম মো. শরফ বলেন, “অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ যৌন সম্পর্কই এইচআইভি সংক্রমণের প্রধান কারণ। নারী-পুরুষে বা পুরুষে-পুরুষে যৌনসম্পর্কের মাধ্যমে এটি বেশি ছড়াচ্ছে। এছাড়া মা থেকে সন্তানেও সংক্রমণ ঘটতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “এইচআইভি প্রতিরোধে সচেতনতা জরুরি। প্রতিবার যৌনমিলনে কনডম ব্যবহার, নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন, ও একাধিক যৌনসঙ্গী পরিহার করলেই সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক কমানো যায়।”
রামেকের এইচটিসি সেন্টারের কাউন্সেলর রেজাউল করিম জানান, “রামেকে ছয় বছরে ১২ হাজারেরও বেশি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। আমরা নিয়মিত কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে রোগীদের মানসিকভাবে সহায়তা দিই। শিগগিরই রাজশাহীতে এআরটি সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে রোগীদের আর বগুড়ায় যেতে না হয়।”




















