ঢাকা ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সিংড়ায় চোরের কাছ থেকে ফ্রিজ কেনার অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে মান্দায় ৪৫ দিনের শি’শুকে বি-ষ খাইয়ে হ/ত্যা/চেষ্টার অভিযোগ নলডাঙ্গায় ট্রাকচা/পা/য় ভাঙারি ব্যবসায়ী নি’হ’ত, আহত ১ শেরপুরে প্রবাসী পরিবারের বাড়িতে হা/ম/লা-ভা/ঙ/চু/র ও লু’টপা’টের অভিযোগ, আদালতে মামলা বাগাতিপাড়ায় শি’শু ও নারী নি/র্যা/তনের প্রতিবাদে র‌্যালি ও মানববন্ধন ১৩ বছরেও পূর্ণাঙ্গ চালু হয়নি মালঞ্চি রেলস্টেশন, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসীণৃ্ পঞ্চগড়ে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সপ্তাহে মানববন্ধন, ১৪ বছর পর ছেলের খোঁজে মায়ের আকুতি রায়গঞ্জের হাটপাঙ্গাসীতে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট গোদাগাড়ীতে জেলা পরিষদের উদ্যোগে ৮০ দুস্থ পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ রাজশাহীতে সাংবাদিকদের মামলা প্রত্যাহার ও ধর্ষণ-হত্যার দ্রুত বিচার দাবিতে মানববন্ধন

রাজশাহীতে কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ সংকট, খালি হাতে ফিরছেন রোগীরা

এম এম মামুন:
  • আপডেট সময় : ০৭:০২:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬ ৯৯ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহীতে কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ সংকট, খালি হাতে ফিরছেন রোগীরা

পাঁচ মাস ধরে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় ব্যাহত তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবা

দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ সংকটে ধুঁকছে রাজশাহীর কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো। প্রয়োজনীয় ওষুধ না থাকায় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ। চিকিৎসা নিতে এসে অনেক রোগীকেই খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে।

গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ইউনিয়ন পর্যায়ে গড়ে তোলা হয়েছিল কমিউনিটি ক্লিনিক। স্বল্প খরচে চিকিৎসা ও বিনামূল্যে ওষুধ পাওয়ার সুযোগ থাকায় এসব ক্লিনিক দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের মানুষের আস্থার জায়গা হয়ে উঠেছিল। তবে গত প্রায় পাঁচ মাস ধরে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় রাজশাহীর অধিকাংশ কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

জানা গেছে, রাজশাহী জেলার ৯টি উপজেলায় প্রায় ২৩৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এসব ক্লিনিকে আগে সরকারিভাবে জ্বর, সর্দি, কাশি, মাথাব্যথা, ডায়রিয়াসহ সাধারণ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ২৭ ধরনের ওষুধ সরবরাহ করা হতো। বর্তমানে জ্বর, ডায়রিয়া, হাঁচি-কাশি ও অ্যান্টিবায়োটিকসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। কাগজে-কলমে ২২ ধরনের ওষুধ সরবরাহের কথা থাকলেও বাস্তবে সেই সরবরাহও অনিয়মিত বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপিরা জানান, সর্বশেষ গত বছরের আগস্ট মাসে অধিকাংশ ক্লিনিকে ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছিল। তখন যে পরিমাণ ওষুধ দেওয়া হয়েছিল, তা দিয়ে দুই থেকে তিন মাস কার্যক্রম চালানো সম্ভব হয়। এরপর আর কোনো নতুন ওষুধ সরবরাহ করা হয়নি।

রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মধুসূদনপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, রোগীদের ভিড় থাকলেও প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন অনেকে।

স্থানীয় বাসিন্দা একরাম আলী বলেন, “বাড়ির পাশে কমিউনিটি ক্লিনিক থাকায় আগে অনেক উপকার পেতাম। এখন প্রায় সব ওষুধই বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। গরিব মানুষের জন্য এটা অনেক কষ্টের।”

মধুসূদনপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি নূর আলম বলেন, “আমাদের ক্লিনিকে প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৪৫ জন রোগী আসেন। কিন্তু ওষুধের সরবরাহ না থাকায় রোগীর সংখ্যাও কমে গেছে। চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ দিতে না পারায় রোগীরা হতাশ হচ্ছেন।”

মোহনপুর উপজেলার বেড়াবাড়ী কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি জাকিয়া জানান, প্রায় পাঁচ মাস ধরে তাদের ক্লিনিকে কোনো ওষুধ নেই। ফলে রোগীদের শুধু ব্যবস্থাপত্র দিয়ে ফেরত পাঠাতে হচ্ছে।

একই চিত্র দেখা গেছে বাগমারা উপজেলাতেও। দক্ষিণ জামালপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি সেলিম হোসেন বলেন, “এখানে যারা চিকিৎসা নিতে আসেন, তাদের বেশিরভাগই গরিব ও অসহায় মানুষ। ওষুধ না থাকায় তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।”

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহীর ৯টি উপজেলার প্রায় সব কমিউনিটি ক্লিনিকেই একই অবস্থা বিরাজ করছে। ফলে তৃণমূল পর্যায়ের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

এ বিষয়ে রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এস.আই.এম রাজিউল করিম বলেন, “কয়েক মাস ধরেই ওষুধ সরবরাহে সংকট চলছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন কোনো প্রকল্প অনুমোদন না হওয়ায় সরবরাহে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুত ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজশাহীতে কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ সংকট, খালি হাতে ফিরছেন রোগীরা

আপডেট সময় : ০৭:০২:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

রাজশাহীতে কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ সংকট, খালি হাতে ফিরছেন রোগীরা

পাঁচ মাস ধরে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় ব্যাহত তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবা

দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ সংকটে ধুঁকছে রাজশাহীর কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো। প্রয়োজনীয় ওষুধ না থাকায় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ। চিকিৎসা নিতে এসে অনেক রোগীকেই খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে।

গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ইউনিয়ন পর্যায়ে গড়ে তোলা হয়েছিল কমিউনিটি ক্লিনিক। স্বল্প খরচে চিকিৎসা ও বিনামূল্যে ওষুধ পাওয়ার সুযোগ থাকায় এসব ক্লিনিক দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের মানুষের আস্থার জায়গা হয়ে উঠেছিল। তবে গত প্রায় পাঁচ মাস ধরে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় রাজশাহীর অধিকাংশ কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

জানা গেছে, রাজশাহী জেলার ৯টি উপজেলায় প্রায় ২৩৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এসব ক্লিনিকে আগে সরকারিভাবে জ্বর, সর্দি, কাশি, মাথাব্যথা, ডায়রিয়াসহ সাধারণ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ২৭ ধরনের ওষুধ সরবরাহ করা হতো। বর্তমানে জ্বর, ডায়রিয়া, হাঁচি-কাশি ও অ্যান্টিবায়োটিকসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। কাগজে-কলমে ২২ ধরনের ওষুধ সরবরাহের কথা থাকলেও বাস্তবে সেই সরবরাহও অনিয়মিত বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপিরা জানান, সর্বশেষ গত বছরের আগস্ট মাসে অধিকাংশ ক্লিনিকে ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছিল। তখন যে পরিমাণ ওষুধ দেওয়া হয়েছিল, তা দিয়ে দুই থেকে তিন মাস কার্যক্রম চালানো সম্ভব হয়। এরপর আর কোনো নতুন ওষুধ সরবরাহ করা হয়নি।

রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মধুসূদনপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, রোগীদের ভিড় থাকলেও প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন অনেকে।

স্থানীয় বাসিন্দা একরাম আলী বলেন, “বাড়ির পাশে কমিউনিটি ক্লিনিক থাকায় আগে অনেক উপকার পেতাম। এখন প্রায় সব ওষুধই বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। গরিব মানুষের জন্য এটা অনেক কষ্টের।”

মধুসূদনপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি নূর আলম বলেন, “আমাদের ক্লিনিকে প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৪৫ জন রোগী আসেন। কিন্তু ওষুধের সরবরাহ না থাকায় রোগীর সংখ্যাও কমে গেছে। চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ দিতে না পারায় রোগীরা হতাশ হচ্ছেন।”

মোহনপুর উপজেলার বেড়াবাড়ী কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি জাকিয়া জানান, প্রায় পাঁচ মাস ধরে তাদের ক্লিনিকে কোনো ওষুধ নেই। ফলে রোগীদের শুধু ব্যবস্থাপত্র দিয়ে ফেরত পাঠাতে হচ্ছে।

একই চিত্র দেখা গেছে বাগমারা উপজেলাতেও। দক্ষিণ জামালপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি সেলিম হোসেন বলেন, “এখানে যারা চিকিৎসা নিতে আসেন, তাদের বেশিরভাগই গরিব ও অসহায় মানুষ। ওষুধ না থাকায় তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।”

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহীর ৯টি উপজেলার প্রায় সব কমিউনিটি ক্লিনিকেই একই অবস্থা বিরাজ করছে। ফলে তৃণমূল পর্যায়ের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

এ বিষয়ে রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এস.আই.এম রাজিউল করিম বলেন, “কয়েক মাস ধরেই ওষুধ সরবরাহে সংকট চলছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন কোনো প্রকল্প অনুমোদন না হওয়ায় সরবরাহে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুত ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।”