মান্দায় নারী উন্নয়ন ফোরামের নামে ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৫:০৬:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫ ২৯৮ বার পড়া হয়েছে

মান্দায় নারী উন্নয়ন ফোরামের নামে ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
প্রকল্পের কাজ না করেই কাগজে দেখানো ‘সম্পন্ন’; সদস্যদের অজ্ঞাতে বরাদ্দ—তদন্তের আশ্বাস ইউএনওর
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় নারী উন্নয়ন ফোরামের নামে বরাদ্দ পাওয়া ১০ লাখ টাকা প্রকল্প বাস্তবায়ন ছাড়াই আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। কাগজপত্রে সেলাই মেশিন ও গবাদি পশু বিতরণের কাজ সম্পন্ন দেখানো হলেও ফোরামের সদস্যরা জানেন না বরাদ্দের কথা; কেউ কোনো উপকরণও পাননি। এতে উপজেলাজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে জানা যায়, নারী উন্নয়ন ফোরামের ৪২ জন সদস্যের কেউই দুই প্রকল্প থেকে কোনো উপকরণ পাননি। বরাদ্দের বিষয়েও তাঁদের কোনো ধারণা ছিল না। কারা, কাদের মাঝে এসব বিতরণ করেছে—সেটি নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন সদস্যরা।
এ ঘটনায় গতকাল সোমবার (২৪ নভেম্বর) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথীর কাছে মৌখিক অভিযোগ করেন ফোরামের সদস্যরা। অভিযোগের নেতৃত্ব দেন নুরুল্লাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য প্রীতি রাণী।
তিনি বলেন, “আমরা শুনছি, নারী উন্নয়ন ফোরামের নামে দুটি প্রকল্পে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। অথচ আমাদের কিছুই জানানো হয়নি। কারা এ টাকা লুটপাট করেছে, তা খুঁজে দেখার অনুরোধ করেছি ইউএনও স্যারকে।”
জানা যায়, সরকারি বার্ষিক উন্নয়ন তহবিলের (এডিপি) আওতায় ২০২৪–২৫ অর্থবছরে নারী উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য দুটি প্রকল্পে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়। এর মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণে ৫ লাখ এবং গবাদি পশু বিতরণে ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ। প্রকল্প দুটি উপজেলা এলজিইডির তালিকায় ১৪৮ ও ১৪৯ নম্বরে অন্তর্ভুক্ত এবং কাগজ অনুযায়ী ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে উপজেলা পরিষদের সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
নারী উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও পরানপুর ইউপির সদস্য কমলা বেগম বলেন, “এই অর্থবছরে আমাদের মাধ্যমে কিছুই দেওয়া হয়নি। বরাদ্দ ছিল কিনা তাও জানানো হয়নি।”
কশব ইউপির সদস্য আঞ্জুয়ারা ও সানোয়ারা বেগম বলেন, “গত ৫ আগস্টের পর থেকে নারী ফোরামের সভাপতি নেই। ফলে কার্যক্রম বন্ধ। আমাদের নামে বরাদ্দ হলে তা কারা নিল—সেটি তদন্তের দাবি করছি।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আবু সায়েদ বলেন, “আমি যোগদানের আগেই কাজগুলো সম্পন্ন দেখানো হয়েছে। সেলাই মেশিন বা গবাদি পশু বিতরণ হয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী জানান, “নারী উন্নয়ন ফোরামের নামে ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পেয়েছি। গত বছরের ৫ আগস্টের পর ফোরামের কোনো অস্তিত্বই নেই। তাই তাদের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়ার কথা নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”



















