বেগম জিয়া কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপোস করেননি: শফিকুল হক মিলন
- আপডেট সময় : ০৫:২৪:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬ ২০৩ বার পড়া হয়েছে

বেগম জিয়া কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপোস করেননি: শফিকুল হক মিলন
পবার বড়গাছীতে দোয়া মাহফিলে মিলনের বক্তব্য, ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যের আহ্বান
বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপোস করেননি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহসম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পবা–মোহনপুর আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছী ইউনিয়নের দাদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এলাকাবাসীর আয়োজনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী আপোসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন সাদাসিধে গৃহবধূ। কোনো লোভ-লালসা তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। তিনি কখনো অন্যায়ের কাছে মাথানত করেননি। পরিবার ও সন্তান নিয়ে সাধারণ জীবনযাপন করলেও দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষায় ছিলেন আপসহীন।
তিনি বলেন, বিএনপি বরাবরই জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার দল। বিএনপি যখন রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল, তখন দেশের মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পেরেছে। সে সময় খুন, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও মাদকের বিস্তার তুলনামূলকভাবে কম ছিল। কিন্তু পতিত সরকারের আমলে এসব অপরাধ বহুগুণে বেড়ে যায়। তখন দেশে কার্যত কোনো শৃঙ্খলা ও গণতন্ত্র ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মিলন আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন সবাইকে শিক্ষা দিয়েছে—অত্যাচার ও স্বৈরাচারের পরিণতি কী হতে পারে। ভবিষ্যতে কেউ যদি পতিত সরকারের মতো আচরণ করে, তার পরিণতিও একই হবে।
তারেক রহমান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরে প্রথমেই জনগণের কাতারে দাঁড়িয়েছেন। তিনি আগে জনগণের সেবা করেছেন, পরে মায়ের কাছে গেছেন—এটাই একজন প্রকৃত নেতার বৈশিষ্ট্য। যদিও ৩০ ডিসেম্বর তিনি না ফেরার দেশে চলে যান, সেই শোক আজও তারেক রহমানকে বহন করতে হচ্ছে।
বর্তমানে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমান সার্বক্ষণিক জনগণের পাশে রয়েছেন উল্লেখ করে মিলন বলেন, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে তিনি নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন। জনগণের ভালোবাসায় তারেক রহমান আজ আরও শক্ত অবস্থানে পৌঁছেছেন বলেই কুচক্রী মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে, তবে সেই ষড়যন্ত্র সফল হবে না।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া সবসময় হিংসা ও বিদ্বেষ পরিহার করে সবাইকে নিয়ে পথ চলার কথা বলেছেন। তিনি নিজে নির্যাতিত হলেও কখনো চাননি তার দ্বারা কেউ নির্যাতিত হোক।
বক্তব্যে মিলন অভিযোগ করেন, বেগম খালেদা জিয়াকে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় সাজা দিয়ে দীর্ঘ সোয়া ছয় বছর কারাবন্দি রাখা হয় এবং অসুস্থ অবস্থায়ও যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। এসব নির্যাতনের পরিণতিতেই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। শেষে তিনি বেগম খালেদা জিয়া, আরাফাত রহমান কোকো, জুলাই আন্দোলনের শহীদসহ দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলনে নিহত সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং অসুস্থদের সুস্থতা কামনা করেন।
সভাপতিত্ব করেন বড়গাছী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সোহেল রানা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য শেখ মকবুল হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুল হালিম, নওহাটা পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোজাদ্দেদ জামানী সুমন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান লিটন, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা রুমেনা ইসলামসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনগণ।
বক্তব্য শেষে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।




















