বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে শুরু মহাপবিত্র বিশ্ব উরস শরীফ, লাখো ভক্তের সমাগম
- আপডেট সময় : ০১:৩২:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬ ৩৬৭ বার পড়া হয়েছে

বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে শুরু মহাপবিত্র বিশ্ব উরস শরীফ, লাখো ভক্তের সমাগম
সাম্য, শান্তি ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চার দিনব্যাপী উরস, ১৩ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাত
বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের মহামহিম প্রতিষ্ঠাতা বিশ্ব ওলি হজরত শাহ সুফি খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.) কেবলাজান ছাহেবের মহাপবিত্র বিশ্ব উরস শরীফ শুরু হয়েছে।
প্রতিবছরের মতো এবারও সাম্য, শান্তি ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) জুমার বিশাল জামাতের পর পবিত্র রওজা শরীফ জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উরস শরীফের সূচনা হয়। এতে দেশ-বিদেশের লাখো আশেকান, জাকেরান ও ধর্মপ্রাণ মুসলমান অংশগ্রহণ করেন।
ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার আটরশি গ্রামে অবস্থিত বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে চার দিনব্যাপী এ উরস শরীফ ১০, ১১, ১২ ও ১৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে বিশ্ব উরস শরীফের সমাপ্তি ঘটবে।
উরস উপলক্ষে বিশ্ব জাকের মঞ্জিলকে নান্দনিক আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে। ইবাদত-বন্দেগি, জিকির-আজকার, মিলাদ মাহফিল, ধর্মীয় আলোচনা, দোয়া ও বিশেষ মোনাজাতসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিদিন ভোর ৩টায় রহমতের সময় থেকে শুরু করে এশার নামাজের পর দয়াল নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ৫০০ বার দরুদ শরীফ নজরানা প্রদানের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শেষ হয়।
ইতিহাস পর্যালোচনায় জানা যায়, বিশ্ব ওলি হজরত শাহ সুফি খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.) ১৩৫৪ বঙ্গাব্দে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আটরশি গ্রামে আগমন করেন। আটরশির নিভৃত পল্লীতে জাকের ক্যাম্প স্থাপনের মাধ্যমে তিনি রাসুল (সা.)-এর সত্য তরিকা প্রচার শুরু করেন। সে সময় এ অঞ্চলে ইসলামী শিক্ষা ও ধর্মীয় অনুশাসনের অভাব ছিল।
প্রথম ঈদুল আজহায় মাত্র তিনজনকে নিয়ে তিনি ঈদের নামাজ আদায় করেন এবং মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন—একদিন এখানে বিশাল ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। আল্লাহর অশেষ রহমতে আজ বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে লাখো মানুষের সমাগমে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.) তাঁর দাদাপীর হজরত সৈয়দ ওয়াজেদ আলী (রহ.)-এর ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবায়নের মাধ্যমে আটরশিতে ইসলামের সত্য আদর্শ প্রতিষ্ঠা করেন। দীর্ঘ ৪০ বছরের সাধনায় তিনি রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহর পরিপূর্ণ অনুসরণে নিজ জীবন গড়ে তুলেছিলেন এবং বিশ্ব জাকের মঞ্জিলকে ইসলামী হেদায়েতের এক বিশাল পুণ্যভূমিতে রূপ দেন।




















