বাগাতিপাড়ায় জামায়াত নেতা পরিচয়ে কামরুল ইসলামের দাপট-সরকারি জমি দখল করে ভূমিহীনদের পথ বন্ধের অভিযোগ!
- আপডেট সময় : ১২:১৮:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫ ৭৮৭ বার পড়া হয়েছে

বাগাতিপাড়ায় জামায়াত নেতা পরিচয়ে কামরুল ইসলামের দাপট-সরকারি জমি দখল করে ভূমিহীনদের পথ বন্ধের অভিযোগ!
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় জামায়াত নেতা পরিচয়ে দাপট দেখিয়ে উপজেলার সদর ইউনিয়নের নূরপুর মালঞ্চি চকপাড়া এলাকায় সরকারি জমি দখল করে ভূমিহীনদের যাতায়াতের পথ বন্ধের অভিযোগ উঠেছে ফিলোন নামে একটি সমবায় সমিতির মালিক কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এতে ওই এলাকার কয়েকটি ভূমিহীন পরিবার চরম ভোগান্তিতে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীরা। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) সকালে বাগাতিপাড়া উপজেলা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ওই গ্রামের ইদ্রিস আলীর স্ত্রী শিখা বেগম। তবে জেলা জামায়াতের আমির ড. মীর নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন কামরুল ইসলাম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো পদে নেই।
শিখা বেগম লিখিত বক্তব্যে বলেন, “আমরা ভূমিহীন মানুষ। সরকারের ভিপি জমির একাংশে আমাদের বসবাস। এই পথ দিয়েই বাজার, স্কুল ও হাসপাতালে যাতায়াত করি। কিন্তু জামায়াত নেতা কামরুল ইসলাম বেআইনিভাবে জমি দখল করে কাঁটাতার দিয়েছেন। ফলে আমরা চলাচলে চরম সমস্যায় পড়েছি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “কামরুল ইসলাম শুধু সরকারি জমি দখলই করেননি, ‘ফিলোন সমবায় সমিতি’ নামে একটি অবৈধ আর্থিক প্রতিষ্ঠান চালিয়ে উচ্চ সুদের বিনিময়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন। সেই অবৈধ টাকায় সরকারি জমিও নিজের নামে দাবি করছেন।”
শিখা বেগম জানান, “কামরুলের অবৈধ অর্থ ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না। আমি গরিব মানুষ, সাহস করে প্রতিবাদ করছি-জানি না আমার কী হবে।”
ভুক্তভোগীদের দাবি, দাগ নং ১৬০২ ও ১৬০৩ নম্বর সরকারি ভিপি জমি রাষ্ট্রের মালিকানাধীন এবং ভূমিহীন পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য নির্ধারিত। কিন্তু প্রভাবশালী ওই জামায়াত নেতা পরিচয় দানকারী কামরুল ইসলাম অবৈধভাবে জমি ক্রয়ের দাবি করে সেখানে স্থায়ী প্রাচীর তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে শিশুদের স্কুলে যাওয়া, অসুস্থদের হাসপাতালে নেওয়া-সবই কঠিন হয়ে পড়েছে।
তারা অভিযোগ করেন, স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ ও আলোচনার চেষ্টা করা হলেও কামরুল ইসলাম কোনো সমঝোতায় আসেননি। বরং তিনি হুমকি, গালাগালি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয় উলটো তাদের বিরুদ্ধেই থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন। “সরকারের জমি ভূমিহীনদের আশ্রয়ের জন্য, কিন্তু প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারা সেই জমি দখল করে নিচ্ছেন-এটা অন্যায়,” বলেন শিখা বেগম।
তিনি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করেন, “অবিলম্বে তদন্ত করে আমাদের চলাচলের পথ খুলে দেওয়া হোক এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
জানা যায়, আইন অনুযায়ী ভিপি জমি রাষ্ট্রের মালিকানাধীন এবং এটি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে হস্তান্তর, বিক্রি বা দখল করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফ আফজাল রাজন বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। সার্ভেয়ার ও ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রিপোর্ট পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কামরুল ইসলাম অভিযোগের বিষয়ে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এই জমির সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”
বাগাতিপাড়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা একেএম আফজাল হোসেন বলেন, “আমরা সব সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে। সে যেই অন্যায় করুক না কেন, আমরা তার প্রতিবাদ করব।”
এ বিষয়ে নাটোর জেলা জামায়াতের আমির ড. মীর নুরুল ইসলাম বলেন, “কামরুল ইসলাম বর্তমানে জামায়াতের কেউ নন। তিনি জেলা, উপজেলা, ওয়ার্ড বা কোনো ইউনিটের দায়িত্বশীলও নন। যদি কোনো অনিয়মে জড়িত থাকেন, তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে।”
ভূমিহীনদের জন্য নির্ধারিত সরকারি জমি যদি রাজনৈতিক ও অর্থবলসম্পন্ন প্রভাবশালীরা দখল করতে শুরু করে, তাহলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ মানুষই-বলছেন স্থানীয়রা।



















