প্রতিটি ক্ষেত্রে সৃষ্টিকর্তার উপর আস্থা রেখে দায়িত্ব পালনে এগিয়ে যেতে হবে: আইজি প্রিজন
- আপডেট সময় : ০৪:০৩:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬ ৩০১ বার পড়া হয়েছে

প্রতিটি ক্ষেত্রে সৃষ্টিকর্তার উপর আস্থা রেখে দায়িত্ব পালনে এগিয়ে যেতে হবে: আইজি প্রিজন
রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ৬৩তম ব্যাচ কারারক্ষী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত
রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ৬৩তম ব্যাচের কারারক্ষী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে অনুষ্ঠিত কুচকাওয়াজে নবীন কারারক্ষীদের উদ্দেশে কারা মহাপরিদর্শক (আইজি-প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, “আমাদেরকে নীরবে কাজ করতে হয়। আমরা বিশ্বাস করি কারাগার হবে একজন বিপথগামীর জন্য সংশোধনাগার। এ দায়িত্ব পালনে কারারক্ষীরা সদা সচেষ্ট থাকবে এবং নিজেদের সর্বোচ্চ ত্যাগ দিয়ে তা যথাযথভাবে পালনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকবে। প্রতিটি ক্ষেত্রে সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তার উপর আস্থা রেখে দায়িত্ব পালনে এগিয়ে যেতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, কারা বিভাগ বাংলাদেশের একটি সুপ্রাচীন প্রতিষ্ঠান। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশে বাংলাদেশ জেল-এর যাত্রা শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় বর্তমান সময়ে এসে বাংলাদেশ জেল একটি স্বচ্ছ ও সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে ওঠার চেষ্টা করছে। যার মূল লক্ষ্য হলো বন্দীদের সংশোধন করে আলোর পথ দেখানো।
কারারক্ষীর জীবন শুধু একটি চাকরি নয়, এটি একটি সুবিন্যস্ত জীবনব্যবস্থা—এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আইজি প্রিজন নবীন কারারক্ষীদের বলেন, “তোমরা এ পর্যন্ত যে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছ, তা ছিল কারারক্ষী জীবনে পদার্পণ করার জন্য মৌলিক প্রশিক্ষণ মাত্র। প্রশিক্ষণের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তোমরা যেভাবে নিষ্ঠা, একাগ্রতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে আত্মনিয়োগ করেছ, তা প্রশংসনীয়। বিশেষ করে আজকের এই চৌকস কুচকাওয়াজ তোমাদের দৃঢ় প্রত্যয় ও যোগ্যতার পরিচয় বহন করে।”
তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের প্রতি এই উদ্যম আগামী দিনগুলোতেও বজায় রাখার এবং নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি বলেন, “আজকের দিনটি তোমাদের জীবনে একটি অবিস্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে। কারণ আজ তোমাদের উপর অর্পিত হলো দেশের নানা ধরনের অপরাধীর দেখভালের এমন এক দায়িত্ব, যা সাধারণ নাগরিকরা কখনো পর্যবেক্ষণের সুযোগ পায় না।”
এ সময় কারারক্ষীরা যেন কোনোভাবে বিপথগামী না হয় এবং সেবা গ্রহণকারীদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে—সে লক্ষ্যে অভিভাবকদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে মোট ৬৮৭ জন নবীন কারারক্ষী অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে সার্বিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠ নবীন কারারক্ষী নির্বাচিত হন মো. তানভীন আহমেদ। ড্রিলে শ্রেষ্ঠ মো. রাকিব মিয়া, পিটিতে মো. বাপ্পি হোসেন, ফায়ারিংয়ে দ্বিপংকর দাস, অস্ত্রবিহীন যুদ্ধে মো. রনি হোসেন এবং একাডেমিক বিষয়ে মো. রিয়ন ইসলাম রোকন শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার ড. মো. জিল্লুর রহমান, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মো. তানভীর হোসেন এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রাজশাহী সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল সৈয়দ কামাল হোসেন।




















