পবায় নারী হ’ত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৩
- আপডেট সময় : ০৭:৫৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫ ৪৭৫ বার পড়া হয়েছে

পবায় নারী হ’ত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৩
রাজশাহীর পবা উপজেলার বাগসারা এলাকায় এক নারীর বিবস্ত্র লাশ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই উদঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
গ্রেপ্তার তিনজন হলেন- বাগসারা গ্রামের আব্দুল বারেকের ছেলে তারা মিয়া (৩৩), মহানন্দাখালী এলাকার ইছুল মণ্ডলের ছেলে ফারুক হোসেন (৩০) এবং একই এলাকার এন্তাজ আলীর ছেলে হেলাল উদ্দিন (২৩)।
সোমবার (২০ অক্টোবর) রাতে রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, নিহত নারীর নাম বিউটি বেগম। ধানখেত থেকে লাশ উদ্ধারের পর পবা থানা পুলিশ ও মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ অভিযানে হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শারিফুর রায়হান তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে আসামিদের শনাক্ত করেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার (১৯ অক্টোবর) রাতে নগরীর সোনাদিঘী মোড় থেকে তারা মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ধারাবাহিক অভিযানে মহানন্দাখালী এলাকা থেকে ফারুক হোসেন এবং পিল্লাপাড়া এলাকা থেকে হেলাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারের পর সোমবার আদালতে হাজির করলে তারা মিয়া ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তিনি বিউটি বেগম হত্যায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং অপর দুই সহযোগীর নামও উল্লেখ করেন।
পুলিশ জানায়, জবানবন্দিতে তারা মিয়া বলেন, বিউটি বেগম টাকার বিনিময়ে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত ছিলেন। ৫ হাজার টাকায় চুক্তি হলেও টাকা পরিশোধ না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ ধানের জমিতে ফেলে রাখা হয়।
নিহতের ছেলে মো. মিলন প্রাং (২৫) পবা থানায় দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করেন, তার মা প্রায় ১৫ বছর আগে স্বামীর সংসার ছেড়ে আলাইবিদিরপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং স্থানীয় এক হোটেলে কাজ করতেন। দুই বছর আগে তিনি গাইবান্ধার রাশেদ নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন।
গত ১৮ অক্টোবর সকালে রাশেদ ফোনে জানান, বিউটির ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। পরে মিলন মায়ের বাসায় গিয়ে ঘর তালাবদ্ধ পান। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারেন, ঘরটি কয়েকদিন ধরে বন্ধ। এরপর খবর আসে, পবা উপজেলার বাগসারা এলাকায় অজ্ঞাত এক নারীর লাশ উদ্ধার হয়েছে। নিহতের কোমরে থাকা চাবি দিয়ে তালা খুলে মিলন নিশ্চিত হন- মৃতদেহটি তাঁর মা বিউটি বেগমের।




















