দারিদ্রতাকে জয় করেছে স্বপ্না ও সোহাগী!
- আপডেট সময় : ০৮:৪৯:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২২৩ বার পড়া হয়েছে

দারিদ্রতাকে জয় করেছে স্বপ্না ও সোহাগী!
নাজমুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
দারিদ্রতাকে জয় করেছে স্বপ্না ও সোহাগী! ১৯ সেপ্টেম্বর নেপালের কাঠমান্ঠু দশরথ স্টেডিয়ামে ৩-১ গোলে নেপাল কে হারিয়ে ১৯ সাফ চ্যাম্পিয়ন হয় নারী ফুটবল দল। তারপর থেকেই মানুষ ভিড় জমাতে থাকে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলে দরিদ্র দুই পরিবারের দুই রত্ন স্বপ্না ও সোহাগীর বাড়িতে। কুড়ের ঘরে থাকা শ্রমজীবি বাবার ঘামঝরা আদরে বেড়ে উঠা স্বপ্না রাণী ও বর্গাচাষী বাবার দারিদ্রতাকে জয় করে সোহাগী কিসকু আজ দেশের সম্পদ।
আনন্দে অশ্রু ভেজা চোখে দরিদ্র স্বপ্না রাণীর বাবা নিরেন চন্দ্র শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) চ্যানেল এ নিউজের প্রতিনিধি কে বলেন, তার এক ছেলে ও ৩ মেয়ে, ভাইবোনের সব চেয়ে ছোট স্বপ্না। সে আজ বাংলাদেশের জাতীয় নারী ফুটবল দলের খেলোয়ার। শুধু দারিদ্রতা নয় একসময় আমিসহ আমার পরিবারকে লড়াই করতে হয়েছে ধর্মীয় কুসংস্কারের সাথে। অনেকেই বলতো মেয়ে হাফ প্যান্ট পড়ে ফুটবল খেলে, এটা ঠিকনা। এমনকি সমাজের লোকজন বলতো আমার মেয়েদের নাকি বিয়ে দেওয়া মুশকিল হয়ে পড়বে। কিন্তু সে বাঁধা উপেক্ষা করে আমার মেয়ে খেলার মাঠে যেতো প্রতিদিন। তার খেলার সামগ্রি বুট, জারসি, ঔষধ এবং মাঠে যাওয়ার জন্য একটি বাইসাইকেল কিনে দেয় রাঙ্গাটুঙ্গি ইউনাইটেড প্রমিলা ফুটবল একাডেমির পরিচালক সাবেক অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম। আজ চ্যাম্পিয়ান হওয়ায় আমায় খুব আনন্দ লাগছে।
আর সোহাগী কিসকুর বোন ইপিনা কিসকো বলেন, আজকে বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল জয়ী হয়েছে। এতে আমার বোন রয়েছে আমরা সবাই খুশি আর আমার মনে হয় এই জয়ে ঠাকুরগাঁও জেলাবাসী গর্বিত, বাংলাদেশ গর্বিত।
এ প্রসঙ্গে রাঙ্গাটুঙ্গি ইউনাইটেড প্রমিলা ফুটবল একাডেমির পরিচালক সাবেক অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম বলেন, নারী ফুটবল দল
চ্যাম্পিয়ান হওয়ায় তাদের জন্য গর্ব। এজন্য বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে তিনি অভিনন্দন জানান। তার মতে এ বিজয় তাদের জন্য যেমন গর্বের তেমনি ঠাকুরগাঁওয়ের জন্য একটু বেশি গর্বের। কারণ তাদের জেলার স্বপ্না ও সোহাগী দুজন খেলোয়ার আছে সে দলে। তিনি বলেন, সকল কুসংস্কার আর প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে দারিদ্রতাকে জয় করেছে স্বপ্না ও সোহাগী।
রানীশংকৈল উপজেলা নির্বাহি অফিসার সোহেল সুলতান জুরকার নাইন কবির স্টিভ বলেন, প্রথমত বাংলাদেশ ফুটবল দল কে অভিনন্দন জানাই। সেই সঙ্গে এ উপজেলার দুজন খেলোয়ার জাতীয় দলের হয়ে খেলায় অংশগ্রহন করায় তাদের জন্য আমরা গর্বিত। আগামী ৫ অক্টোবর স্বপ্না ও সোহাগী ছুটিতে বাড়ি আসার কথা আছে। তারা এলে এই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সংম্বর্ধনা দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ১৯ সেপ্টেম্বর নেপালের কাঠমান্ঠু দশরথ স্টেডিয়ামে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ইতিহাস গড়ে ১৯ সাফ চ্যাম্পিয়ন হয় নারী ফুটবল দল। ইতিহাস গড়া এ খেলায় সে দলের হয়ে খেলেছেন উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলের স্বপ্না রাণী ও সোহাগী কিসকু।




















