ঢাকা ০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজশাহীর সিটি হাট ঘিরে পশুবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজির অভিযোগ গোমস্তাপুরে মহানন্দা নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার বাগাতিপাড়ায় গৃহবধূকে সং/ঘব/দ্ধ ধ/র্ষ/ণে/র অভিযোগ, থানায় মামলা পুঠিয়ার পশুর হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগে প্রশাসনের অভিযান টাঙ্গাইলে রডবোঝাই ট্রাক খাদে উ/ল্টে নিহত ১৫, আহত অন্তত ১০ সিংড়ায় চোরের কাছ থেকে ফ্রিজ কেনার অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে মান্দায় ৪৫ দিনের শি’শুকে বি-ষ খাইয়ে হ/ত্যা/চেষ্টার অভিযোগ নলডাঙ্গায় ট্রাকচা/পা/য় ভাঙারি ব্যবসায়ী নি’হ’ত, আহত ১ শেরপুরে প্রবাসী পরিবারের বাড়িতে হা/ম/লা-ভা/ঙ/চু/র ও লু’টপা’টের অভিযোগ, আদালতে মামলা বাগাতিপাড়ায় শি’শু ও নারী নি/র্যা/তনের প্রতিবাদে র‌্যালি ও মানববন্ধন

ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন কি পূরণ হবে বাঘার অন্তরার?

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২৫:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ এপ্রিল ২০২২ ১৬৮ বার পড়া হয়েছে
চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন কি পূরণ হবে বাঘার অন্তরার?

এম এম মামুন, নিউজ ডেস্ক:
ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন কি পূরণ হবে বাঘার অন্তরার? বাবা নেই, মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। অভাব নিত্যসঙ্গী হলেও কখনো লেখাপড়ার হাল ছাড়েননি অন্তরা। পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

এবার এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে মেধা তালিকায় ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন মেধাবী অন্তরা। তবে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেলেও অর্থাভাবে মেয়ের লেখাপড়া চালিয়ে নিতে পারবেন কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অন্তরার মা।

অন্তরা খাতুন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাজুবাঘা ইউনিয়নের চন্ডিপুর বড় ছয়ঘটি গ্রামের আলাউদ্দিনের মেয়ে। তার বাবা জন্মের দুই বছর পর মারা যান। একমাত্র ভাই সোহেল রানাকে টাকার অভাবে পড়াতে পারেনি অন্তরা পরিবার। বর্তমানে সে রাজমিস্ত্রির দিন হাজিরা হিসেবে কাজ করে।
তবে অন্তরাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন মা রসুনা বেওয়া। মেয়েকে অনেক কষ্টে স্কুলে ভর্তি করেন। অন্তরা খাতুন স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চন্ডিপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়।
এরপর মেয়েকে লেখাপড়া করানোর কোনো অর্থ সংগ্রহ করতে পারছিলেন না রসুনা বেওয়া। বসতবাড়ির ভিটা ছাড়া আর কোনো জমি নেই তার। নিরুপায় হয়ে অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ শুরু করেন। এরপর মেয়েকে ভর্তি করেন বাঘা সরকারি শাহদৌলা কলেজে। সেখানেও অন্তরা জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়।
রসুনারা বেওয়া বলেন, মেয়ে মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েছে। মেয়ের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন আগে থেকেই ছিল। কিন্তু ভর্তির টাকা জোগাড় করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি।
অন্তরা খাতুন বলেন, নিজের পড়ালেখার পাশাপাশি প্রতিবেশী ছেলেমেয়েদের প্রাইভেট পড়িয়েছি। আবার কখনো মায়ের সঙ্গে হাতের কাজ করেছি। এ আয় থেকে নিজের পড়ালেখা খরচের পাশাপাশি সংসারের খরচ করেছি।
বাজুবাঘা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চন্ডিপুর উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফজলুর রহমান বলেন, অন্তরা নিজের চেষ্টায় পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। এবার এমবিবিএস কোর্সে মেধা তালিকায় ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। নানা প্রতিকূলতার মধ্যে সংসার চলে তাদের।
তিনি বলেন, অন্তরার মা অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন। ফলে মেডিকেলে পড়ার অর্থের জোগান দিতে এ পরিবারের পক্ষে খুবই কঠিন হবে। সমাজের বিত্তবান বা শিক্ষানুরাগী কেউ সহযোগিতা করলে তার চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন কি পূরণ হবে বাঘার অন্তরার?

আপডেট সময় : ০৩:২৫:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ এপ্রিল ২০২২

ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন কি পূরণ হবে বাঘার অন্তরার?

এম এম মামুন, নিউজ ডেস্ক:
ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন কি পূরণ হবে বাঘার অন্তরার? বাবা নেই, মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। অভাব নিত্যসঙ্গী হলেও কখনো লেখাপড়ার হাল ছাড়েননি অন্তরা। পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

এবার এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে মেধা তালিকায় ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন মেধাবী অন্তরা। তবে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেলেও অর্থাভাবে মেয়ের লেখাপড়া চালিয়ে নিতে পারবেন কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অন্তরার মা।

অন্তরা খাতুন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাজুবাঘা ইউনিয়নের চন্ডিপুর বড় ছয়ঘটি গ্রামের আলাউদ্দিনের মেয়ে। তার বাবা জন্মের দুই বছর পর মারা যান। একমাত্র ভাই সোহেল রানাকে টাকার অভাবে পড়াতে পারেনি অন্তরা পরিবার। বর্তমানে সে রাজমিস্ত্রির দিন হাজিরা হিসেবে কাজ করে।
তবে অন্তরাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন মা রসুনা বেওয়া। মেয়েকে অনেক কষ্টে স্কুলে ভর্তি করেন। অন্তরা খাতুন স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চন্ডিপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়।
এরপর মেয়েকে লেখাপড়া করানোর কোনো অর্থ সংগ্রহ করতে পারছিলেন না রসুনা বেওয়া। বসতবাড়ির ভিটা ছাড়া আর কোনো জমি নেই তার। নিরুপায় হয়ে অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ শুরু করেন। এরপর মেয়েকে ভর্তি করেন বাঘা সরকারি শাহদৌলা কলেজে। সেখানেও অন্তরা জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়।
রসুনারা বেওয়া বলেন, মেয়ে মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েছে। মেয়ের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন আগে থেকেই ছিল। কিন্তু ভর্তির টাকা জোগাড় করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি।
অন্তরা খাতুন বলেন, নিজের পড়ালেখার পাশাপাশি প্রতিবেশী ছেলেমেয়েদের প্রাইভেট পড়িয়েছি। আবার কখনো মায়ের সঙ্গে হাতের কাজ করেছি। এ আয় থেকে নিজের পড়ালেখা খরচের পাশাপাশি সংসারের খরচ করেছি।
বাজুবাঘা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চন্ডিপুর উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফজলুর রহমান বলেন, অন্তরা নিজের চেষ্টায় পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। এবার এমবিবিএস কোর্সে মেধা তালিকায় ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। নানা প্রতিকূলতার মধ্যে সংসার চলে তাদের।
তিনি বলেন, অন্তরার মা অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন। ফলে মেডিকেলে পড়ার অর্থের জোগান দিতে এ পরিবারের পক্ষে খুবই কঠিন হবে। সমাজের বিত্তবান বা শিক্ষানুরাগী কেউ সহযোগিতা করলে তার চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে।