ঢাকা ০৬:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাগাতিপাড়ায় গৃহবধূকে সং/ঘব/দ্ধ ধ/র্ষ/ণে/র অভিযোগ, থানায় মামলা পুঠিয়ার পশুর হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগে প্রশাসনের অভিযান টাঙ্গাইলে রডবোঝাই ট্রাক খাদে উ/ল্টে নিহত ১৫, আহত অন্তত ১০ সিংড়ায় চোরের কাছ থেকে ফ্রিজ কেনার অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে মান্দায় ৪৫ দিনের শি’শুকে বি-ষ খাইয়ে হ/ত্যা/চেষ্টার অভিযোগ নলডাঙ্গায় ট্রাকচা/পা/য় ভাঙারি ব্যবসায়ী নি’হ’ত, আহত ১ শেরপুরে প্রবাসী পরিবারের বাড়িতে হা/ম/লা-ভা/ঙ/চু/র ও লু’টপা’টের অভিযোগ, আদালতে মামলা বাগাতিপাড়ায় শি’শু ও নারী নি/র্যা/তনের প্রতিবাদে র‌্যালি ও মানববন্ধন ১৩ বছরেও পূর্ণাঙ্গ চালু হয়নি মালঞ্চি রেলস্টেশন, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসীণৃ্ পঞ্চগড়ে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সপ্তাহে মানববন্ধন, ১৪ বছর পর ছেলের খোঁজে মায়ের আকুতি

ঠাকুরগাঁওয়ে ১৪২ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে বৈধ মাত্র ৬টি

জেলা প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও:
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৩:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫ ৮৭৭ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঠাকুরগাঁওয়ে ১৪২ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে বৈধ মাত্র ৬টি

ঠাকুরগাঁও জেলায় ১৪২টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে বৈধ নিবন্ধন রয়েছে মাত্র ৬টির। মেয়াদোত্তীর্ণ ১৩৬টি প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর নির্বিঘ্নে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে প্রশাসনের কোনো তদারকি ছাড়াই।

ফলে অপচিকিৎসা, ভুল রিপোর্ট ও রোগী হয়রানির ঘটনা ঘটছে অহরহ। অভিযোগ উঠেছে- এসব প্রতিষ্ঠানের পেছনে প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয় রয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী হাসপাতাল বা ক্লিনিক পরিচালনার আগে স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমোদন ও পরিবেশ ছাড়পত্র নেওয়ার কথা থাকলেও, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই এসব নিয়ম মানছে না।

সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১৪২ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪০টি ক্লিনিক ও হাসপাতাল এবং ১০২টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। কিন্তু নবায়নপ্রাপ্ত লাইসেন্স আছে মাত্র ৬টির।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠানে নামমাত্র একজন চিকিৎসকের নাম ব্যবহার করা হয়, অথচ তিনি বাস্তবে দায়িত্বে থাকেন না। কিছু ক্লিনিকে কোনো চিকিৎসকই নেই, রিপোর্ট দিচ্ছেন অদক্ষ কর্মচারীরা।

সম্প্রতি ভুল চিকিৎসায় একাধিক রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এসব অভিযোগে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত শহরের ‘আমাদের হাসপাতাল’কে জরিমানা এবং ‘নিউ সূর্যের হাসি ক্লিনিক’কে সিলগালা করে দিয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে অনেক মালিকই কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ জানিয়েছেন, তারা নবায়নের আবেদন করলেও স্বাস্থ্য বিভাগ সাড়া দেয়নি।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রাইভেট হাসপাতাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন নেতারা জানিয়েছেন, জেলার চিকিৎসক সংকটের কারণে সব নিয়ম মেনে চলা কঠিন। তবুও তারা আইনি কাঠামোর মধ্যে থাকার চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোরশালিন তুরাগ জানান, “অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান। অভিযোগ পেলেই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন ডা. আনিছুর রহমান বলেন, “অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। যাদের কাগজপত্র নেই, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জেলার সাধারণ মানুষ বলছেন, অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিকের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হলে, চিকিৎসার নামে প্রতারণা বন্ধ করা সম্ভব নয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ঠাকুরগাঁওয়ে ১৪২ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে বৈধ মাত্র ৬টি

আপডেট সময় : ০৩:৩৩:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

ঠাকুরগাঁওয়ে ১৪২ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে বৈধ মাত্র ৬টি

ঠাকুরগাঁও জেলায় ১৪২টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে বৈধ নিবন্ধন রয়েছে মাত্র ৬টির। মেয়াদোত্তীর্ণ ১৩৬টি প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর নির্বিঘ্নে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে প্রশাসনের কোনো তদারকি ছাড়াই।

ফলে অপচিকিৎসা, ভুল রিপোর্ট ও রোগী হয়রানির ঘটনা ঘটছে অহরহ। অভিযোগ উঠেছে- এসব প্রতিষ্ঠানের পেছনে প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয় রয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী হাসপাতাল বা ক্লিনিক পরিচালনার আগে স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমোদন ও পরিবেশ ছাড়পত্র নেওয়ার কথা থাকলেও, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই এসব নিয়ম মানছে না।

সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১৪২ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪০টি ক্লিনিক ও হাসপাতাল এবং ১০২টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। কিন্তু নবায়নপ্রাপ্ত লাইসেন্স আছে মাত্র ৬টির।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠানে নামমাত্র একজন চিকিৎসকের নাম ব্যবহার করা হয়, অথচ তিনি বাস্তবে দায়িত্বে থাকেন না। কিছু ক্লিনিকে কোনো চিকিৎসকই নেই, রিপোর্ট দিচ্ছেন অদক্ষ কর্মচারীরা।

সম্প্রতি ভুল চিকিৎসায় একাধিক রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এসব অভিযোগে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত শহরের ‘আমাদের হাসপাতাল’কে জরিমানা এবং ‘নিউ সূর্যের হাসি ক্লিনিক’কে সিলগালা করে দিয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে অনেক মালিকই কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ জানিয়েছেন, তারা নবায়নের আবেদন করলেও স্বাস্থ্য বিভাগ সাড়া দেয়নি।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রাইভেট হাসপাতাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন নেতারা জানিয়েছেন, জেলার চিকিৎসক সংকটের কারণে সব নিয়ম মেনে চলা কঠিন। তবুও তারা আইনি কাঠামোর মধ্যে থাকার চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোরশালিন তুরাগ জানান, “অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান। অভিযোগ পেলেই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন ডা. আনিছুর রহমান বলেন, “অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। যাদের কাগজপত্র নেই, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জেলার সাধারণ মানুষ বলছেন, অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিকের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হলে, চিকিৎসার নামে প্রতারণা বন্ধ করা সম্ভব নয়।