ঠাকুরগাঁওয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুকে মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশন দেয়ার অভিযোগ!
- আপডেট সময় : ০৩:৪০:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ মার্চ ২০২৩ ৩৬৫ বার পড়া হয়েছে

ঠাকুরগাঁওয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুকে মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশন দেয়ার অভিযোগ!
নাজমুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুকে মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশন দেয়ার অভিযোগ! টাইফয়েড আক্রান্ত এগারো বছর বয়সী শিশুপুত্র জিলানীকে গত রবিবার (১৯ মার্চ) ঠাকুরগাঁও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান ডাঙ্গীবাজার এলাকার বাসিন্দা আকতার হোসেন। জিলানীকে মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়েছে বলে শিশুটির বাবা গত শুক্রবার রাতে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে এই অভিযোগ করেন। এমন স্ট্যাটাসে ফেসবুকে বইছে সমালোচনার ঝড়। পাঁচ মাস আগে মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশন প্রয়োগে কার গাফিলতি ছিলো বা কেন দেয়া হলো তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি নেটিজনদের।
তবে মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশন রোগীর কাছে নেওয়া হয়েছিলো, কিন্তু শরীরে প্রয়োগ করা হয়নি বলে দাবি করেন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মিঠুন দেবনাথ। তিনি বলেন, মেয়াদ উত্তীর্ণ জানার পর নার্স ওই ইনজেকশন প্রয়োগ করেননি। একটা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে।
আকতার হোসেন জানায়, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ছেলেকে দিনে দুইবার ইনজেকশন দেওয়ার কথা। এ ছাড়া অন্যান্য সেবা দেওয়া হলেও ছেলের স্বাস্থ্যের কোনো উন্নতি হচ্ছিল না। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে একজন নার্স ছেলেকে ইনজেকশন পুশ করতে আসেন। এ সময় আমার স্ত্রী লক্ষ্য করেন যে ভায়াল থেকে ইনজেকশন দেওয়া হবে তার মেয়াদ ৫ মাস আগে উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বিষয়টি জানালে ওই ভায়াল থেকে আমার ছেলেকে আর ইনজেকশন পুশ করেননি ওই নার্স। এরপর থেকে আর হাসপাতালের কোনো ইনজেকশন ছেলেকে পুশ করতে দিচ্ছি না। বাইরের দোকান থেকে ইনজেকশন কিনে এনে দিচ্ছি।
জিলানীর মা বলেন, ‘আমার ছেলের শরীরে প্রয়োগ করা ইনজেকশনগুলোও মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল। এ কারণেই হয়তো ছেলের অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছিল। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মানুষ চিকিৎসা নিয়ে আসেন বাঁচার জন্য, মরার জন্য নয়। এই হাসপাতালে রোগী নিয়ে আসলে সঠিক সময়ে চিকিৎসা পাওয়া যায় না। নার্সদের ব্যবহার এতোটাই উগ্র যে কিছু বললেই মেজাজ দেখায়। রোগীরা বিছানায় যন্ত্রনায় কাতরালেও তারা এগিয়ে আসেন না। গরিব মানুষদের কোন দাম নেই তাদের কাছে। গরিব হয়ে জন্ম নিয়ে মনে হয় আমরা পাপ করেছি। এখানে চিকিৎসায় অনেক অবহেলা রয়েছে। রোগীটাকে আরো বেশি অসুস্থ্য করে দেয় তারা। পরে বাধ্য হয়ে আমরা রংপুর নিয়ে যায়।
স্থানীয় সংবাদকর্মী মাদেজুল ইসলাম বলেন, এটা কিভাবে সম্ভব? হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি বারো দেখলো না ইনজেকশনটির মেয়াদ আছে কিনা? অবহেলা বা ভুল চিকিৎসার অভিযোগে প্রায়ই রোগীর আত্মীয়স্বজন ও ডাক্তার, নার্সদের মুখোমুখি হতে দেখা যায়। কিন্তু এর তো কোন সমাধান হয় না। মানুষ সুস্থতার জন্য যদি হাসপাতালে গিয়ে ভূল চিকিৎসা পায় তাহলে রোগীরা কোথায় যাবেন? হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উচিৎ বিষয়গুলো নিয়ে তদন্ত করা।
এ বিষয়ে দায়িত্বে থাকা নার্স কুলসুম বলেন, আমরা চিকিৎসকের দেওয়া পরামর্শপত্র অনুযায়ী হাসপাতালে থাকা ইনজেকশন প্রয়োগ করে থাকি। তবে প্রয়োগের আগে সেগুলোর মেয়াদ আছে কি না সেটা অবশ্যই যাচাই করি। তবে জিলানীর কী হয়েছে তা জানি না।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এ এস এম আলমাস বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রোগীর কাছে যাওয়ার সুযোগ নেই। রোগীর স্বজনদের করা অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হবে।



















