দিনাজপুরে তিন সন্তানের হাতে নি’র্যাতি’ত সৎ মা মমেনা বেগম
- আপডেট সময় : ০১:৩১:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫ ৪৭৪ বার পড়া হয়েছে

দিনাজপুরে তিন সন্তানের হাতে নি’র্যাতি’ত সৎ মা মমেনা বেগম
দিনাজপুর সদর উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের নিয়াজিপাড়ায় তিন সন্তানের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মৃত আব্দুল হাফেজ খন্দকারের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছাঃ মমেনা বেগম। ঘরবাড়ি ভাঙচুর, অর্থ ও মালামাল লুটপাটসহ নানা নির্যাতনের অভিযোগে তিনি দিনাজপুর কোতয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সূত্র জানায়, প্রায় ৩০ বছর আগে আব্দুল হাফেজ খন্দকারের প্রথম স্ত্রী সাফিরন বেগম নিজেই ভাবির মতো সম্পর্ক থাকা মমেনা বেগমকে স্বামীর সঙ্গে বিয়ে দেন। প্রথম স্ত্রীর এক মেয়ে ও চার ছেলে থাকায় দ্বিতীয় স্ত্রী মমেনা বেগম নিজে আর সন্তান নেননি।
কিন্তু স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই মমেনা বেগম সতীনের তিন ছেলে- আব্দুর রাজ্জাক (৫৫), জিয়াউর রহমান (৫২) ও ফেরদৌস, এবং তাদের স্ত্রী সুলতানা, তাসমিরা ও নিরুফার হাতে নানাভাবে নির্যাতিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
তিনি জানান, ২০১৭ সালে স্বামীর মৃত্যুর সময় ১২ বিঘা জমি বণ্টন ছাড়াই মারা যান আব্দুল হাফেজ খন্দকার। এরপর থেকেই জমি নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। কখনও তাকে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিতে চাপ দেওয়া হয়, কখনও বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
সম্প্রতি ৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় তিন ছেলে ও তাদের বউ একত্র হয়ে তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে মমেনা বেগম আহত হন এবং তার ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলা হয়। ৪৫ হাজার টাকা নগদ অর্থ, সেলাই মেশিনসহ প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
এ ঘটনায় সতীনের আরেক ছেলে সবুর আলী বলেন, “আমার বাবা জমি বণ্টন না করেই মারা গেছেন। তাই ভাইয়েরা চায় আমার সৎ মাকে সরিয়ে ফেলতে, যেন জমি ভাগ দিতে না হয়। আমি প্রতিবাদ করায় আমাকেও হুমকি দিয়েছে।”
অন্যদিকে অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাক দাবি করেন, “আমরা ঘরবাড়ি ভাঙিনি, কেবল স্থান পরিবর্তন করেছি।” অভিযুক্ত জিয়াউর রহমান বলেন, “মামলা কোর্টে যাক, আমরা লড়ব।”
এলাকার বাসিন্দা আঞ্জুয়ারা খাতুন বলেন, “মমেনা বেগমের ওপর অমানবিক নির্যাতন সত্য। তিন ছেলে ও তাদের বউ দীর্ঘদিন ধরে তাকে নির্যাতন করছে। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
কোতয়ালী থানার এসআই বেলাল হোসেন সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “ঘটনাটি জমি-সংক্রান্ত বিরোধের অংশ। আমরা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি।”




















