ঠাকুরগাঁওয়ে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী গরুর হাল
- আপডেট সময় : ০১:২৯:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬ ২১৩ বার পড়া হয়েছে

ঠাকুরগাঁওয়ে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী গরুর হাল
আধুনিক কৃষিযন্ত্রের দাপটে বিলুপ্তির পথে গ্রামবাংলার শতবর্ষের চাষ পদ্ধতি
এক সময় গ্রামবাংলার কৃষির প্রধান ভরসা ছিল গরু ও লাঙল দিয়ে হাল চাষ। মাঠজুড়ে শোনা যেত বলদের ঘণ্টার শব্দ, দেখা যেত কৃষকের কাঁধে লাঙল আর জোয়াল। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির বিস্তারে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় সেই ঐতিহ্যবাহী গরুর হাল চাষ এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লাঙল দিয়ে চাষ করলে জমির গভীর অংশ আলগা হতো, গরুর পায়ে কাদা তৈরি ও গোবর পড়ার ফলে জমির উর্বরতা বাড়ত। পরিবেশবান্ধব এই পদ্ধতিতে রাসায়নিক সার ব্যবহারের প্রয়োজনও তুলনামূলক কম ছিল। তবে বর্তমানে ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলারের মাধ্যমে অল্প সময়ে ও কম শ্রমে জমি চাষ সম্ভব হওয়ায় কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী হাল চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
এক সময় ভোরের আলো ফোটার আগেই গরু, লাঙল ও জোয়াল কাঁধে নিয়ে কৃষকদের মাঠে যেতে দেখা যেত। এখন প্রয়োজন হলেই আধুনিক যন্ত্র দিয়ে জমি চাষ করা হচ্ছে। ফলে হালচাষের ওপর নির্ভরশীল অনেক কৃষক ও কারিগর পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হচ্ছেন।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের মহেশপর গ্রামের কৃষক মমতাজ আলী বলেন, “শৈশবে হাল চাষ করেই বড় হয়েছি। তখন প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই কয়েক জোড়া বলদ, কাঠের লাঙল আর বাঁশের জোয়াল ছিল। এখন সেই দৃশ্য আর চোখে পড়ে না।”
একই গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, “আগে গরু দিয়ে চাষ করলে মাটির স্বাভাবিক শক্তি বজায় থাকত। এখন যন্ত্রে চাষ দ্রুত হলেও জমির গুণগত মান আগের মতো নেই বলে মনে হয়।”
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মো. নাসিরুল ইসলাম বলেন, “গরু ও লাঙল ছিল পরিবেশবান্ধব এবং ঐতিহ্যবাহী কৃষি পদ্ধতি। তবে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কম সময়ে, কম খরচে এবং বেশি ফলন পাওয়া যাচ্ছে। ভবিষ্যতে কৃষিতে আরও প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তন আসবে।”
আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামবাংলার গরু দিয়ে হাল চাষের বহু বছরের চিরচেনা ঐতিহ্য। কৃষির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে সচেতন মহলের উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।




















