ঢাকা ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
লালপুরে ড্রেজার থেকে পদ্মায় পড়ে শিশুর মৃত্যু ঝিনাইগাতীতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ঝিনাইগাতীতে দুই পাকা রাস্তা নির্মাণে স্বস্তি, কৃষিপণ্য পরিবহনে সুবিধা পঞ্চগড়ে এলএসটিডি প্রকল্পের প্রযুক্তি গ্রাম পরিদর্শনে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল গত ১৭ বছরে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে আওয়ামী লীগ-নাটোরে হুইপ দুলু বাগাতিপাড়ায় মসজিদের দানবাক্সের তালা ভেঙে টাকা চুরি, সিসিটিভিতে ধরা পড়ল দুই চোর পঞ্চগড়ে সাবেক মেয়র ও জেলা পরিষদ প্রশাসক তৌহিদুল ইসলামের স্মরণে শোকসভা পঞ্চগড়ে এলএসটিডি প্রকল্পের প্রযুক্তি গ্রাম পরিদর্শন কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দলের রাজস্থলীতে ১৫০ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক রাণীশংকৈলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫৩তম আবির্ভাব তিথি উদযাপন

কাঁথা-বালিশ নিয়ে বিএনপির কার্যালয়ে আশ্রয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার

নাটোর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৩:০৬:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬ ১১৯ বার পড়া হয়েছে

Naldanga political news

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কাঁথা-বালিশ নিয়ে বিএনপির কার্যালয়ে আশ্রয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার মাধনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম অমি দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়িহীন অবস্থায় জীবনযাপন করছেন বলে দাবি করেছেন। নিজের কোনো ঘর না থাকায় তিনি বর্তমানে কাঁথা-বালিশ ও প্রয়োজনীয় কিছু আসবাবপত্র নিয়ে স্থানীয় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।

জাহিদুল ইসলাম অমি উপজেলার বাঁশিলা গ্রামের বাসিন্দা এবং আক্কাস আলীর ছেলে। তাঁর দাবি, দীর্ঘ ১৭ বছর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কারণে তিনি বিভিন্ন সময় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সেই সময়ের প্রভাবেই পরিবার ভেঙে গেছে এবং বর্তমানে স্ত্রী, সন্তান ও বাবার কাছ থেকেও বিচ্ছিন্ন জীবন কাটাচ্ছেন। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা বা পুনর্বাসন পাননি বলেও অভিযোগ করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বাঁশিলা এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে কাঁথা, বালিশ, তোষকসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে অবস্থান করছেন তিনি। দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কাজ শেষে দলীয় কার্যালয়েই খাওয়া-দাওয়া ও রাতযাপন করেন। ঝড়-বৃষ্টি কিংবা তীব্র গরম—সব পরিস্থিতিতেই সেখানেই থাকতে হচ্ছে তাঁকে।

স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, জাহিদুল ইসলাম অমি দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করছেন।

বাঁশিলা ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম খান সিরাজ, মাধনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি রায়হান মিনা এবং ছাত্রদলের কর্মী শাকিল খান বলেন, “জাহিদুল ইসলাম অমি অত্যন্ত অসহায় একজন কর্মী। বাধ্য হয়েই তিনি দলীয় কার্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। আমরা চাই রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রশাসন মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁর স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করুক।”

জাহিদুল ইসলাম অমি বলেন, “বহু বছর ধরে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে জীবন কাটিয়েছি। এখন আর কোথাও থাকার জায়গা না থাকায় দলীয় কার্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছি। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে আমি পরিবার হারিয়েছি বলে মনে করি। আজ আমার পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই। রাজনৈতিক নেতা ও সরকারের কাছে আমার একটাই আবেদন—যেন মাথা গোঁজার একটি স্থায়ী ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়, যাতে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকতে পারি।”

তাঁর অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্ব বা প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযুক্ত করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কাঁথা-বালিশ নিয়ে বিএনপির কার্যালয়ে আশ্রয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার

আপডেট সময় : ০৩:০৬:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

কাঁথা-বালিশ নিয়ে বিএনপির কার্যালয়ে আশ্রয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার মাধনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম অমি দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়িহীন অবস্থায় জীবনযাপন করছেন বলে দাবি করেছেন। নিজের কোনো ঘর না থাকায় তিনি বর্তমানে কাঁথা-বালিশ ও প্রয়োজনীয় কিছু আসবাবপত্র নিয়ে স্থানীয় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।

জাহিদুল ইসলাম অমি উপজেলার বাঁশিলা গ্রামের বাসিন্দা এবং আক্কাস আলীর ছেলে। তাঁর দাবি, দীর্ঘ ১৭ বছর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কারণে তিনি বিভিন্ন সময় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সেই সময়ের প্রভাবেই পরিবার ভেঙে গেছে এবং বর্তমানে স্ত্রী, সন্তান ও বাবার কাছ থেকেও বিচ্ছিন্ন জীবন কাটাচ্ছেন। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা বা পুনর্বাসন পাননি বলেও অভিযোগ করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বাঁশিলা এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে কাঁথা, বালিশ, তোষকসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে অবস্থান করছেন তিনি। দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কাজ শেষে দলীয় কার্যালয়েই খাওয়া-দাওয়া ও রাতযাপন করেন। ঝড়-বৃষ্টি কিংবা তীব্র গরম—সব পরিস্থিতিতেই সেখানেই থাকতে হচ্ছে তাঁকে।

স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, জাহিদুল ইসলাম অমি দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করছেন।

বাঁশিলা ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম খান সিরাজ, মাধনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি রায়হান মিনা এবং ছাত্রদলের কর্মী শাকিল খান বলেন, “জাহিদুল ইসলাম অমি অত্যন্ত অসহায় একজন কর্মী। বাধ্য হয়েই তিনি দলীয় কার্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। আমরা চাই রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রশাসন মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁর স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করুক।”

জাহিদুল ইসলাম অমি বলেন, “বহু বছর ধরে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে জীবন কাটিয়েছি। এখন আর কোথাও থাকার জায়গা না থাকায় দলীয় কার্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছি। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে আমি পরিবার হারিয়েছি বলে মনে করি। আজ আমার পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই। রাজনৈতিক নেতা ও সরকারের কাছে আমার একটাই আবেদন—যেন মাথা গোঁজার একটি স্থায়ী ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়, যাতে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকতে পারি।”

তাঁর অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্ব বা প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযুক্ত করা হবে।