গোদাগাড়ীতে মাদকের টাকার জন্য মা ও বোনকে ইট দিয়ে আ’ঘাত, হাসপাতালে ভর্তি
- আপডেট সময় : ০৪:০৮:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩২৯ বার পড়া হয়েছে

গোদাগাড়ীতে মাদকের টাকার জন্য মা ও বোনকে ইট দিয়ে আ’ঘাত, হাসপাতালে ভর্তি
টাকা না পেয়ে বাড়িতে ভাঙচুর ও মারধর—মাদকাসক্ত ছেলের অত্যাচারে আতঙ্কিত পরিবার
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে মাদক সেবনের জন্য টাকা না পেয়ে মা ও বোনকে ইট দিয়ে আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সুজন আলী (২৮) নামে এক মাদকাসক্ত যুবকের বিরুদ্ধে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার শিয়ালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—সুজন আলীর মা শরীফা বেগম এবং বড় বোন ডালিয়া (৩৫)। গুরুতর আহত অবস্থায় দুপুরে দুজনকে গোদাগাড়ী উপজেলা (প্রেমতলী) স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বৃদ্ধা শরীফা বেগমের মাথা দিয়ে রক্ত ঝরছে। জরুরি বিভাগের বেডে শুয়ে কাঁদছেন তিনি। মাথার নিচে রাখা ওড়নাটি রক্তে ভিজে গেছে। পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলেন তার মেয়ে ডালিয়া। তিনিও মাথায় ইটের আঘাতে আহত হন। ডালিয়া জানান, তিনি বর্তমানে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
ডালিয়া বলেন, তার বড় ভাই সুজন দীর্ঘদিন ধরে হেরোইন, গাঁজা ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকে আসক্ত। মাদকের টাকার জন্য প্রতিদিন বাড়িতে ঝামেলা করেন। কাজকর্ম না করায় তার স্ত্রী সন্তান রেখে চলে গেছে। বর্তমানে মা ছোট ছেলে রুবেলের সংসারে থাকেন। সেখান থেকেই প্রতিদিন টাকা আদায়ের চেষ্টা করেন সুজন।
তিনি জানান, টাকা না দিলে ঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুর করেন এবং মাকে মারধর করেন। শনিবার দুপুরে টাকা না পেয়ে সুজন প্রথমে মাকে লাথি মারতে থাকেন। তাকে বাঁচাতে গেলে ইট ছুঁড়ে মারেন। এতে মা ও বোন—দুজনেরই মাথা ফেটে যায়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ডালিয়া বলেন, “আমি গর্ভবতী। কবে জানি আমাদের মেরেই ফেলবে। আমরা আর বাঁচতে পারছি না।”
তিনি জানান, সুজনের নির্যাতন থেকে বাঁচতে ছয় মাস আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে থানায় পাঠানো হয়। একবার পুলিশ এলেও সুজনকে ধরতে পারেনি। এরপর আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
আহত শরীফা বেগম বলেন, “আমি নিজেই ঠিকমতো খেতে পারি না। হিরন খাওয়ার টাকা দিব কই পাই? তবু সকাল-বিকাল ৫০, ১০০, ২০০ টাকার জন্য মারধর করে। ধার করেও দিছি। আর পারি না।”
তিনি তার ছেলেকে আইনের আওতায় নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির বলেন, ভুক্তভোগী মা ও বোন থানায় এলে তাদের সঠিক আইনি পরামর্শ দেওয়া হবে। তারা চাইলে মামলা করতে পারেন। আগে পুলিশ গিয়ে সুজনকে গ্রেপ্তার না করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি এখন আমার মনে নেই।”























